‘শুধু ব্যাটসম্যান হলে ক্যারিয়ারের যেকোন পর্যায়ে বাদ পড়তে পারতেন সাকিব’

'শুধু ব্যাটসম্যান হলে ক্যারিয়ারের যেকোন পর্যায়ে বাদ পড়তে পারতেন সাকিব'
Vinkmag ad

বাংলাদেশ ক্রিকেটে তরুণ প্রতিভার ঘাটতি নেই। তবে তাদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার পক্ষে ব্যাটিং কোচ হিসেবে বাংলাদেশে ফেরা সাবেক প্রধান কোচ জেমি সিডন্স। উদাহরণ টানতে গিয়ে এই অস্ট্রেলিয়ান বলেন সাকিব আল হাসান শুধু ব্যাটসম্যান হলে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কয়েকবারই বাদ পড়তে পারতেন।

প্রধান কোচ হিসেবে সিডন্স যখন বাংলাদেশ দলের সাথে কাজ করেছেন তখন সাকিব সহ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমরা তরুণ বয়স পার করছিলেন। ১১ বছর পর বাংলাদেশে ফিরে এবার তাদের পেলেন দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে। যাদের সাথে আছে এক ঝাঁক তরুণ ও অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে।

চলতি আফগানিস্তান সিরিজ দিয়ে টাইগারদের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ শুরু করেছেন সিডন্স। চট্টগ্রামে আজ (২৬ ফেব্রুয়ারী) ছিল বাংলাদেশের ঐচ্ছিক অনুশীলন, প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের।

আজ অনুশীলনে এসেছে কেবল টি-টোয়েন্টি দলের ক্রিকেটাররা, সাথে প্রথম দুই ওয়ানডের একাদশে না থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদুল হাসান জয় ও এবাদত হোসেন।

অনুশীলন শেষে তরুণ ক্রিকেটারদের কেমন দেখেছেন জানাতে গিয়ে সিডন্স সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,

‘এখানে ৪-৫ জন ৬ ফুট উচ্চতার পেসার আছে যারা ১৪০এর বেশি গতিতে বল করে। এটা আমার কাছে দারুন রোমাঞ্চের। তোমাদের এখনও পৃথিবীর সেরা অলরাউন্ডার আছে যে কিনা খেললেই পারফর্ম করে। আমি ইতোমধ্যে কিছু তরুণ প্রতিভা দেখেছি দুই ম্যাচে – আফিফ, মিরাজ ও লিটন।’

‘তারা কোয়ালিটি, ক্লাসি এবং মাথা ঠান্ডা রাখতে পারে এমন ক্রিকেটার। ওরা যত বেশি খেলবে ততই বড় ম্যাচে পারফর্মের যোগ্য হয়ে উঠবে। গত দুই ম্যাচে আমাদের জন্য চাপের ম্যাচ ছিল। আমাদের জিততেই হতো। তরুণরা সামনে থেকে ম্যাচ জিতিয়েছে, যা দেখাটা দারুণ। অভিজ্ঞরা যে কোন সময় পারফর্ম করবে কিন্তু তরুণদের তাদেরকে সাহায্য করতে হবে। এখন বাংলাদেশ দলে এটাই হচ্ছে যা দারুণ।’

এরপরই তাদের সুযোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে সিডন্স তুলে ধরেন সাকিবের উদাহরণ,

‘আমাদের এখন কিছু প্রতিভাবান সুপারস্টার রয়েছে। আমরা তাদের সময় দিবো, যথাযথ ক্রিকেটারকে বাছাই করে তাদের নিয়ে কাজ করবো। তাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া উচিত। আমার কোনো সন্দেহ নেই তারা নতুন সাকিব-তামিম হবে।’

‘আমাদের মনে রাখতে হবে তামিম, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদ সবাই তাদের শুরুতে অধারাবাহিক ছিল। আমরা তাদের ক্যারিয়ারের যেকোনো পর্যায়ে বাদ দিয়ে দিতে পারতাম। সাকিব যদি ভালো বোলার না হতো, তাহলে সে সাফল্য পাওয়ার আগে ব্যাটার হিসেবে বাদ পড়ে যেতে পারতো। তবে সে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে কারণ ব্যাটার হিসেবে তার সামর্থ্য ছিল।’

বর্তমান ক্রিকেটারদের সামর্থ্য দেখে বেশ খুশি সিডন্স। তার মতে এসব ক্রিকেটারের প্রতিভাই কাজ অর্ধেক এগিয়ে দিয়েছে। নিজের উপর চাপ কমে গেছে উল্লেখ করে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন লিটনদের।

তিনি বলেন,

‘ওদের নিয়ে আমার কাজ অর্ধেক হয়ে গেছে কারণ ক্রিকেটারদের ‘ক্লাস’ আছে। এখানে আফগানদের সেরা তিন স্পিনারের মুখোমুখি হচ্ছে। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়ায় যখন যাবে সেখানেও ভাল বোলারদের মুখোমুখি হবে। তাই এখানে অবকাশের সুযোগ নেই। সহজ রান কোথাও আসবে না।’

‘আমাদের এই চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে এখানেই উন্নতি করতে হবে। বিপক্ষের কন্ডিশনে ভালো করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এজন্য আমাদের অনেকটা পথ এগোতে হবে। তরুণদের এই বাড়তি পদক্ষেপটা নিতে হবে যেন তারা বিদেশেও ভাল করতে পারে। যে প্রতিভা দেখছি তাতে আমার ওপর থেকে চাপ অনেকটাই কমে গেছে।’

পুরোনো শিষ্য তামিম ইতোমধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে চলে গেছে দাবি সিডন্সের। নতুনরা তামিমকেও ছাড়িয়ে যাবে বিশ্বাস টাইগার ব্যাটিং কোচের।

তার মতে,

‘বড় ম্যাচে পারফর্ম করার মতো যোগ্যতা এদের আছে। লিটন টেস্টে সেই কাজ করে দেখিয়ে। লিটনকে নিয়ে কাজ করার মতো খুব কম বিষয় আছে। প্রতি বোলারের বিপক্ষে যেন ভাল করতে পারে এই জন্য কিছু কাজ করতে হবে। ওকে এই অবস্থায় নিয়ে যাওয়াটা আমার চ্যালেঞ্জ। তামিম এবং বাকিরা সেরা পর্যায়ে উঠেছে এখন আমরা চাই তরুণরা যেন ওদেরও ছাড়িয়ে যায়।’

চট্টগ্রাম থেকে, ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বাংলাদেশ টাইগার্সে আনা হবে পাওয়ার হিটিং কোচ, ডেথ ওভার বিশেষজ্ঞ

Read Next

বগুড়ার ক্যাম্পের সুফল আসবে দক্ষিণ আফ্রিকায়, বলছেন সাদমান

Total
10
Share