লিটনের দিনে বাংলাদেশের বড় জয়, সুপার লিগে ‘১০০’ পয়েন্ট

ওয়ানডে সুপার লিগে বাংলাদেশের 'সেঞ্চুরি' আগামীকালই
Vinkmag ad

লিটন কুমার দাস, দেশের ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিভা হিসেবেই ধরা হয়। তবে ক্যারিয়ারের শুরুর কয়েক বছরে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছিলেন না কোনভাবেই। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টে ফর্মের তুঙ্গে থাকা এই ব্যাটার এবার সেটি টেনে আনলেন ওয়ানডেতেও। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হাঁকালেন দাপুটে সেঞ্চুরি, আর তাতেই রেকর্ড সংগ্রহ পেয়ে ৮৮ রানের বড় জয়ে সিরিজ নিশ্চিত হলো টাইগারদের।

আজকের জয়ে চলমান ওয়ানডে সুপার লিগে প্রথম দল হিসেবে ১০০ পয়েন্ট অর্জন করলো বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডকে (৯৫ পয়েন্ট) টপকে বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান টাইগারদের।

এক ম্যাচ হাতে রেখে জয় পাওয়া ম্যাচে আগে ব্যাট করে লিটনের ১২৬ বলে ১৩৬ রানের ইনিংসের সাথে মুশফিকুর রহিমের ৮৬ রানের ইনিংস। বাংলাদেশ পেলো ৪ উইকেটে ৩০৬ রানের পুঁজি। এটি চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ। শেষ ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান না এলে সংগ্রহটা হতে পারতো আরও বড়।

জবাবে রহমত শাহ ও নাজিবউল্লাহ জাদরানের ফিফটিতেও বড় হার এড়াতে পারেনি আফগানরা। মোহাম্মদ নবি, রাশিদ খানের ছোট ইনিংসগুলো কেবল হারের ব্যবধান কমিয়েছে। গুটিয়ে যেতে হয়েছে ২১৮ রানেই।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৩৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে আফগানিস্তান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আফিফের দারুণ এক থ্রোতে রান আউট ওপেনার রিয়াজ হাসান (১)। অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদী (৫) উইকেটের পেছনে মুশফিককে ক্যাচ দেন শরিফুলের বলে। সাকিবের বলে স্টাম্পড হন আজমতউল্লাহ ওমরজাই (৯)।

সেখান থেকে আফগানদের টেনে নেন ওপেনার রহমত শাহ ও নাজিবউল্লাহ জাদরান। ১৭তম ওভারে অবশ্য দেখা যায় নাটকীয়তা। সাকিবের করা ঐ ওভারের চতুর্থ বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলেন জাদরান, সাকিবের হাতের ফাঁক দিয়ে বল লাগে স্টাম্পে।

নন স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা রহমত শাহের বিপক্ষে রান আউটের আবেদন করে সাথে সাথেই তা তুলে নেন সাকিব। মূলত আবেদনের পর তার অনুধাবন বল হাতে লাগেনি। ততক্ষণে থার্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের জন্য সংকেত পাঠিয়ে দেন আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল। তৃতীয় আম্পায়ার গাজী সোহেল বেশ কয়েকবার রিপ্লে দেখেদেন আউটের সিদ্ধান্ত।

কিন্তু যেহেতু বোলার সাকিব নিজে আম্পায়ারকে বলেছেন তার হাতে লাগেনি সেহেতু ব্যাটসম্যান রহমত শাহও মাঠ ছাড়েননি। বরং আলাপ চালিয়ে গেছেন আম্পায়ারের সাথে। পরের আরেক দফা রিপ্লে দেখে তাকে নট আউটের সিদ্ধান্তই দেওয়া হয়।

তবে দুজনের ৮৯ রানের জুটি ভাঙে আরেক নাটকীয়তায়। তাসকিন আহমেদের করা ইনিংসের ২৫তম ওভারের প্রথম বলটি স্টাম্প হাল্কা ছুঁয়ে দিয়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকের হাতে যায়।

কিন্তু মুশফিক ঠিকই দেখেন ততক্ষণে বেল পড়ে গেছে। পরে টিভি রিপ্লে দেখে রহমত শাহকে আউট দেন তৃতীয় আম্পায়ার। তার আগেই নামের পাশে ৭১ বলে ৪ চারে ৫২ রান। এরপর ফিফটি হাঁকানো জাদরানকেও সাঝঘরের পথ দেখান তাসকিন। ৬১ বলে ৭ চারে তার ব্যাটে ৫৪ রান। ১৪০ রানেই সফরকারীরা হারায় ৫ উইকেট।

এরপর মোহাম্মদ নবির ৩২ ও রাশিদ খানের ২৯ রানে কেবল আফগানরা কেবল সম্মানজনক সংগ্রহই পেয়েছে। দলকে ৮৯ রানের জয় এনে দেওয়ার পথে বাংলাদেশী বোলাররা দেখিয়েছে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। সর্বোচ্চ ২ উইকেট মুস্তাফিজুর রহমানের, তবে ৮ ওভারে খরচ করেন ৫৩ রান। বল করা বাকি ৬ বোলারই নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে টাইগার দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ৬.২ ওভার স্থায়ী জুটিতে রান এসেছে ৩৮। এই সময়ে ছিল আগের ম্যাচে আফগানদের সফল পেসার ফজল হক ফারুকীর সুইং, মুভমেন্টের ঝলক, লিটনের অস্বস্তিতে পড়া, তামিমের উইকেট হারানো।

আগের ম্যাচের মতই ফারুকীর ভেতরে ঢোকানো বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে আউট হন তামিম (২৪ বলে ১২ রান)। তবে তামিম ফিরলেও সাকিব আল হাসানকে নিয়ে শুরুর অস্বস্তি কাটিয়ে ছন্দ খুঁজে পান লিটন। ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের আভাস দিয়েও বেশি দূর যেতে পারেননি সাকিব (৩৬ বলে ২০)।

সেখান থেকেই মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে আফগান বোলারদের বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তার শুরু লিটনের। মোহাম্মদ নবির করা ২৫তম ওভারে চার মেরে ৬৫ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি। শুরুর জড়তা কাটিয়ে ৩৪তম ওভারে রাশিদ খানকে চার মেরে ফিফটি তুলে নেন মুশফিকুর রহিমও। দুজনের সাবলীল ব্যাটিংয়ে ৩৬তম ওভারে দলীয় সংগ্রহ ২০০ পেরোয়।

ব্যক্তিগত ৮৭ রানে জীবন পেয়ে রাশিদ খানের করা ৪১তম ওভারে কাভারের উপর দিয়ে তুলে চার মেরে ১০৭ বলে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে যান লিটন। পরের ওভারে জীবন পান মুশফিক (তখন ৬৯ রানে), মুজিবুর রহমানের বলে সহজ স্টাম্পিং মিস করে উইকেট রক্ষক।

ফারুকীর করা ৪৬তম ওভারে লং অন দিয়ে লিটনের হাঁকানো ছক্কায় ছিল দর্শকদের চোখের প্রশান্তি। তবে ফরিদ আহমেদের করা ৪৭তম ওভারে ফিরতে হয় লিটন, মুশফিক দুজনকেই।

ততক্ষণে লিটনের নামের পাশে ১২৬ বলে ১৬ চার ২ ছক্কায় ১৩৬ রান। সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে মুশফিক থেমেছেন পরের বলেই। ৯৩ বলে ৯ চারে ৮৬ রান তার ব্যাটে। দুজনের ২০২ রানের জুটিটি বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ, যেকোনো উইকেটে পঞ্চম।

দুজনের বিদায়ের পর খেই হারায় বাংলাদেশ, শেষ ৪ ওভারে আসে সাকূল্যে ২২ রান। তাতেও স্কোরবোর্ডে ৩ উইকেটে ৩০৬, আফিফ হোসেন ১৩ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অপরাজিত ছিলেন ৬ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ৩০৬/৪ (৫০), তামিম ১২, লিটন ১৩৬, সাকিব ২০, মুশফিক ৮৬, মাহমুদউল্লাহ ৬*, আফিফ ১৩*; ফারুকি ১০-১-৫৯-১, ফরিদ ৮-০-৫৬-২, রাশিদ ১০-০-৫৪-১

আফগানিস্তান ২১৮/১০ (৪৫.১), রহমত ৫২, রিয়াজ ১, শহিদী ৫, ওমরজাই ৯, জাদরান ৫৪, নবি ৩২, গুরবাজ ৭, রাশিদ ২৯, মুজিব ৮, ফরিদ ৬*, ফারুকি ০; মুস্তাফিজ ৮-০-৫৩-১, শরিফুল ৬-০-৩৫-১, তাসকিন ১০-২-৩১-২, সাকিব ১০-০-৩৮-২, মিরাজ ১০-০-৫২-১, মাহমুদউল্লাহ ১-০-২-১, আফিফ ০.১-০-০-১

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ৮৮ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ লিটন দাস (বাংলাদেশ)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

রহমত শাহের আউট বিভ্রাট

Read Next

দাপুটে সেঞ্চুরি হাঁকানোর পথে লিটনের অ্যাপ্রোচ বদলায়নি

Total
25
Share