লিটনের দাপুটে সেঞ্চুরির দিনে বাংলাদেশের ৩০০ পার

লিটনের দাপুটে সেঞ্চুরির দিনে বাংলাদেশের ৩০০ পার
Vinkmag ad

ব্যাটারদের অসহায় আত্মসমর্পণের পরও আফিফ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজের বীরত্ব গাঁথা এক রেকর্ড জুটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে দেখান দাপট। লিটন দাসের সেঞ্চুরির সাথে মুশফিকুর রহিমের দারুণ এক ইনিংসে সফরকারীদের জন্য বড় লক্ষ্যই ছুঁড়ে দিল টাইগাররা।

টস জিতে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ পেয়েছে ৩ উইকেটে ৩০৬ রানের সংগ্রহ। যা চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ও সব মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। তবে শেষদিকে বাজে ব্যাটিং না হলেও টাইগাররা পেতে পারতো আরও বড় পুঁজি।

যে পথে লিটন দাস হাঁকিয়েছেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি (১২৬ বলে ১৩৬), মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ৮৬ রানের ইনিংস। দুজনে গড়েছে বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ ২০২ রানের রেকর্ড।

দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ৬.২ ওভার স্থায়ী জুটিতে রান এসেছে ৩৮। এই সময়ে ছিল আগের ম্যাচে আফগানদের সফল পেসার ফজলহক ফারুকীর সুইং, মুভমেন্টের ঝলক, লিটনের অস্বস্তিতে পড়া, তামিমের উইকেট হারানো।

আগের ম্যাচের মতই ফারুকীর ভেতরে ঢোকানো বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ২৪ বলে ১২ রান করা তামিম আউট হলে ভাঙে জুটি। তবে তামিম ফিরলেও সাকিব আল হাসানকে নিয়ে শুরুর অস্বস্তি কাটিয়ে ছন্দ খুঁজে পান লিটন।

প্রথম পানি পানের বিরতির আগে ১৩ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৭৪ রান। ১৩তম ওভারে আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে ফ্লিক ও কাভার ড্রাইভে দুই চার হাঁকিয়ে ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের আভাস দেন সাকিব। তবে ১৫তম ওভারে প্রথম আক্রমণে এসেই সাকিবকে ফেরান রাশিদ খান।

বলের ধরণ বুঝতে না পেরে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে সাকিবের ব্যাটে ৩৬ বলে ২০ রান। ভাঙে লিটনের সাথে ৪৫ রানের জুটি। সেখান থেকেই মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে আফগান বোলারদের বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তার শুরু লিটনের।

২৪তম ওভারে রহমত শাহকে হাঁকান ২ চার। পরের ওভারেই মোহাম্মদ নবিকে চার মেরে ৬৫ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি। শুরুর জড়তা কাটিয়ে ৩৪তম ওভারে রাশিদ খানকে চার মেরে ফিফটি তুলে নেন মুশফিকুর রহিমও। দুজনের সাবলীল ব্যাটিংয়ে ৩৬তম ওভারে দলীয় ২০০ পার করে বাংলাদেশ।

ব্যক্তিগত ৮৭ রানে জীবন পান লিটন, কাভার অঞ্চলে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ ক্যাচ ঠিকঠাক লুফে নিতে পারেনি। জীবন পেয়ে রাশিদ খানের করা ৪১তম ওভারে কাভারের উপর দিয়ে তুলে চার মেরে ১০৭ বলে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে যান লিটন।

পরের ওভারে জীবন পান সেঞ্চুরির পথে হাঁটা মুশফিক (তখন ৬৯ রানে), মুজিবুর রহমানের বলে সহজ স্টাম্পিং মিস করে উইকেট রক্ষক। ৪৪তম ওভারে লিটন হাঁকান একটি করে দারুণ চার ও ছক্কা।

মুশফিকও কম যাননি, ৪৫তম ওভারেই হাঁকিয়েছেন ২ চার। ৪৬তম ফারুকীকে লং অন দিয়ে হাঁকানো ছক্কায় ছিল দর্শকদের চোখের প্রশান্তি। তবে ফরিদ আহমেদের করা ৪৭তম ওভারে ফিরতে হয় লিটন, মুশফিক দুজনকেই।

স্লো শর্ট বলকে পুল করে স্কয়ার লেগে মুজিবুর রহমানের হাতে ধরা পড়েন লিটন। ততক্ষণে নামের পাশে ১২৬ বলে ১৬ চার ২ ছক্কায় ১৩৬ রান। পরের বলেই র‍্যাম্প করার চেষ্টা করে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দেন মুশফিকও। সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে মুশফিক থেমেছেন ৯৩ বলে ৯ চারে ৮৬ রানে।

দুজনের ২০২ রানের জুটিটি বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ। যেকোনো উইকেটে যা পঞ্চম।

শেষদিকে আফিফ হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ব্যাটে বলে ঠিকঠাক সংযোগ করাতে পারেনি। বাংলাদেশ থামে ৩ উইকেটে ৩০৬ রানে। মাহমুদউল্লাহ ৯ বলে ৬ ও ১২ বলে ১৩ রান নিয়ে অপরাজিত আফিফ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ৩০৬/৪ (৫০), তামিম ১২, লিটন ১৩৬, সাকিব ২০, মুশফিক ৮৬, মাহমুদউল্লাহ ৬*, আফিফ ১৩*; ফারুকি ১০-১-৫৯-১, ফরিদ ৮-০-৫৬-২, রাশিদ ১০-০-৫৪-১।

চট্টগ্রাম থেকে, ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজের টাইটেল স্পন্সর ‘টিকটক’

Read Next

সারেল এরউইয়ের ব্যাটে এবার শুরুর দিনেই প্রোটিয়াদের বাজিমাত

Total
24
Share