সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাকে সম্মান করে ডোমিঙ্গো আগলে রাখলেন ক্রিকেটারদের

সব থেকেও কিছুই নাই এর দিন রাসেল ডোমিঙ্গোর
Vinkmag ad

বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো নিয়ে সমালোচনার অন্ত নেই। নির্দিষ্ট কিছু সংবাদ মাধ্যমে তো তাকে বিদায় করার সর্বোচ্চ চেষ্টাও করা হচ্ছে। সেটা কতটা যৌক্তিক কিংবা অযৌক্তিক তা বিচারের বাইরে রেখে বললেও দেশের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচিত নাম ডোমিঙ্গোই। তিনি নিজে এসব নিয়ে অবশ্য ভাবছেন না একটুও। বরং সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাকে সম্মান করে আগলে রাখলেন ক্রিকেটারদের।

সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরই ডোমিঙ্গোর বাংলাদেশ অধ্যায় শেষ হবে ভেবেছিল অনেকে। তবে পরে জানা যায় অদ্ভুত এক চুক্তিতে অন্তত আরও এক বছর তাকে টেনে নিতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী এই এক বছরে তাকে বরখাস্ত করতে হলেও পুরো অর্থ ক্ষতি পূরণ দিয়েই বিদায় করতে হবে।

অবশ্য চুক্তির ছিল কিছু ফাঁক ফোকরও, কিন্তু এতেও নানা জটিলতা ছিল। যে কারণে ঝামেলা না বাড়িয়ে এক বছর পার করে দেওয়াকে উত্তম মনে করেছে বিসিবি। সে ক্ষেত্রে সংবাদ মাধ্যমে বিসিবি থেকে জানানো হয় ডোমিঙ্গোর সেরা বিকল্প এখনো পাওয়া যাচ্ছে না বলেই তাকে টেনে নেওয়া।

এদিকে তাকে টেনে নিলেও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে কর্তৃত্ব, দলে টিম ডিরেক্টর হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে খালেদ মাহমুদ সুজনকে। দুই বছরের চুক্তিতে ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে টাইগারদের সাবেক প্রধান কোচ জেমি সিডন্সকে।

এই যে তাকে ঘিরে এতো আলোচনা, সমালোচনা তা বিচলিত করছে না ডোমিঙ্গোকে। তার মতে এসব আমলে নিলে আন্তর্জাতিক কোনো দলকে কোচিং করানো সম্ভব হত না। তার ব্যাপারে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সেসব বোর্ডই দেখবে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে আজ (২৪ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটা বিসিবির ব্যাপার স্যার। যদি আত্মবিশ্বাসী হতে হয় তাহলে তো আন্তর্জাতিক দলকে কোচিং করাতে পারব না। গণমাধ্যম ও মানুষ যা বলে, আমি তাতে মেজাজ হারাতে পারি। কিন্তু এটা করা জরুরী নয়।’

‘আপনাদের কাজ এটা, আপনারা আমাকে বা খেলোয়াড়দের নিয়ে যা খুশি লিখতে পারেন। আমি সেটা খেলোয়াড়দের থেকে দূরে রাখি। আপনাদের যা খুশি আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমি মেজাজ হারাব না। কিন্তু সত্যি বলতে, আপনারা যা লেখেন তা বেশিরভাগ সময় আমি বুঝতেই পারি না।’

সুজন-সিডন্সের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে ডোমিঙ্গো যোগ করেন, ‘জেমি (সিডন্স) কি যেন? ব্যাটিং কোচ। হ্যাঁ, সেটাই তার কাজ। আমার কাছে টিম ডিরেক্টর (সুজন) আমার ও বোর্ড মেম্বারদের মধ্যে সম্পর্ক ধরে রাখে। দল নির্বাচন ও এসব নিয়ে কথা হয়। আমি তো আর বোর্ড পরিচালকদের সাথে কথা বলব না লাইনআপ বা টসের সিদ্ধান্ত নিয়ে। তাই চাচাকে পেয়ে ভালো হল। তিনি আমাকে চাপমুক্ত করেছেন।’

‘দেখুন, সে (সিডন্স) অনেক অভিজ্ঞ এক কোচ। বিশ্বজুড়ে কোচিং করিয়েছে। এখানকার সিস্টেম সে জানে, অনেক খেলোয়াড়কে সে চেনে। হয়ত আমার চেয়েও ভালো জানে, কারণ আগেও সে এখানে ছিল। তাই তাকে পেয়ে ভালো লাগছে। কোচিং স্টাফে সে অনেক অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

চট্টগ্রাম থেকে, ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

আফগানিস্তানের নয়া নির্বাচক মালেকজাই

Read Next

যখন ডোমিঙ্গো ভেবেছিলেন এমন ম্যাচও জেতা সম্ভব!

Total
9
Share