অথচ ম্যাচ জেতা নিয়ে আফিফ-মিরাজের কোনো আলোচনাই হয়নি

অথচ ম্যাচ জেতা নিয়ে আফিফ-মিরাজের কোনো আলোচনাই হয়নি
Vinkmag ad

আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে বাংলাদেশ যেভাবে জিতেছে তা অসাধারণ। এমন ঘুরে দাঁড়ানো ম্যাচের সংখ্যা খুব কমই দেশের ক্রিকেটে। ২১৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৪৫ রানেই ৬ উইকেট হারানো দলকেই রেকর্ড জুটি গড়ে জেতালেন দুজনে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আফিফ বলছেন ম্যাচ জেতা নিয়ে দুজনের কোনো কথাই হয়নি। কেবল উইকেটে পড়ে থাকাই ছিল লক্ষ্য।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ (২৩ ফেব্রুয়ারি) আগে ব্যাট করা আফগানরা থামে ২১৫ রানে। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দলের সিনিয়র চার ক্রিকেটার তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সাথে অভিষিক্ত ইয়াসির আলি রাব্বি ও লিটন দাসও বিদায় নেন দলীয় ৫০ রানে।

আফগান বাঁহাতি পেসার ফজল হক ফারুকীর তোপে ৫০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে নিশ্চিত পরাজয়ের দিকে যখন দল এগোচ্ছে তখনই আফিফ-মিরাজের অমন স্মৃতির খোরাক হয়ে থাকা জুটি।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

মূলত আফগান ৩ বিশ্বমানের স্পিনার রাশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, মুজিব উর রহমানই ছিল টাইগারদের ভীতির কারণ। অথচ টপ ও মিডল অর্ডারকে বিপর্যস্ত হতে হলো ফারুকী তোপে, যদিও প্রথম ৬ উইকেটের দুইটি রাশিদ-মুজিবের।

অমন পরিস্থিতি থেকে ১৭৪ রানের অবিচ্ছেদ্য রেকর্ড জুটি আফিফ-মিরাজের। খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে দলকে এনে দিলেন ৪ উইকেটের জয়। ৯৩ রানে আফিফ ও ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন মিরাজ।

ক্রিজে কাটানো সময়টা দুজনের জয় নিয়ে লক্ষ্য কি ছিল সেটা জানতে চাওয়া হয় আফিফের কাছে। সংবাদ সম্মেলনে এই বাঁহাতি ব্যাটার জানালেন স্রেফ ক্রিজে টিকে থাকা, উইকেট না দেওয়াতেই ছিল মনযোগ। কোনভাবেই ম্যাচ জয় নিয়ে কথা হয়নি।

আফিফের ভাষ্য, ‘পুরো খেলাটায় আমরা ম্যাচ জেতানোর ব্যাপারে কথা বলি নাই। আমাদের জাস্ট কথা ওটাই ছিল যে আমরা উইকেট দিব না শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো। ৬ টা উইকেট পড়ার পর আমাদের শুধু একটা লক্ষ্য ছিল আমরা উইকেট দিবো না। এই লক্ষ্যটা নিয়েই ব্যাটিং করতেছিলাম যে উইকেট না দিয়ে যতক্ষণ কাটানো যায়।’

শুরুতে ধীরে খেলে শেষে বল ও রানের ব্যবধান কাছাকাছি হয়ে গেলেও চাপে পড়েনি মিরাজ-আফিফ। বরং সাবলীল ব্যাটিংয়ে স্পিনারদের সামলে শুরুর ঝড় তোলা পেসারদের উপরই চড়াও হন দুজনে।

শেষদিকে কীভাবে ম্যাচ বের করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল আফিফ তা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘ক্যালকুলেশন…বললাম তো প্রথম থেকে আমাদের লক্ষ্য একটাই ছিল যে উইকেট দিবো না, রান যা আসবে…আসলে ভালো না আসলে কিছু করার নাই। শেষের দিকে তো খেলা বল টু বল ছিল। পরিকল্পনা ছিল কেবল স্বাভাবিক খেলাটা খেলবো। নির্দিষ্ট বোলারদের লক্ষ্য বলতে ওদের যে ৩ জন স্পিনার ছিল তাদের বিপক্ষে পরিকল্পনা ছিল নরমাল খেলা।’

‘এদের (স্পিনার) ওভার শেষ হলে ৫ ওভার বাকি থাকতো। ওখানে একটা প্ল্যান, লাস্টের দিকে আরকি যখন খেলা অনেক দূর চলে গেছে। লাস্ট ৫ ওভারে যদি ৩০-৪০ বা ৫০ ও লাগে আমরা চেষ্টা করবো। আমরা যেন শেষ করতে পারি। ওদের স্পিনারদের উইকেট না দিয়ে ব্যাটিং করার পরিকল্পনা ছিল।’

আফিফকে ব্যাট হাতে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া মিরাজ বল হাতেও এদিন ছিলেন দুর্দান্ত। ১০ ওভারে ৩ মেডেনসহ মাত্র ২৮ রান খরচ করেন। আর এতে রান তোলার গতি কমে আফগানদের। পরে ব্যাট হাতে তো খেলেছেন ৮১ রানের অসাধারণ হার না মানা ইনিংসটি।

মিরাজ প্রসঙ্গে আফিফ বলেন, ‘মিরাজ ভাই অনেক ভালো ব্যাটিং করেছে। ও পাশ থেকে অনেক…যখন বাউন্ডারি দরকার ছিল, অনেকগুলো ডট হয়ে গেছে তখন বাউন্ডারি এসেছে। এ ছাড়া সব মিলিয়ে দুজনের কথা অনেক ভালো হচ্ছিল। দুজনেই বুঝতেছিলাম পরিস্থিতি যে উইকেট না দিলে সম্ভব ম্যাচটা জেতা।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মিরাজের কণ্ঠে শুনুন ঐতিহাসিক জয়ের গল্প গুলো

Read Next

আফিফ-মিরাজের খেলার নিশ্চয়তাই ছিল না বলছেন পাপন

Total
9
Share