বাংলাদেশের দাপট, অল্পতেই গুটিয়ে গেল আফগানিস্তান

আফগানদের অল্পতেই আটকে রাখল বাংলাদেশ
Vinkmag ad

টানা টি-টোয়েন্টি খেলা আফগানিস্তান ওয়ানডে ফরম্যাটে হুট করে কতটা মানিয়ে নিতে পারে এমন প্রশ্ন ছিল ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে। অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদি এসব খুব বেশি সমস্যা হবে না। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে আগে ব্যাট করে আফগানিস্তান অবশ্য সেটি ভালোই প্রমাণ করেছে। নির্দিষ্ট বিরতিতে উইকেট পড়লেও ম্যাচ ইনিংসে ধ্বস নামতে দেয়নি কখনো।

কিন্তু শেষদিকে ছন্দ হারিয়ে খুব বড় কোনো সংগ্রহ দিতে পারেনি বাংলাদেশকে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ (২৩ ফেব্রুয়ারি) টস জিতে আগে ব্যাট করে অল আউট হওয়ার আগে করতে পেরেছে ২১৫ রান। যেখানে বড় অবদান নাজিবউল্লাহ জাদরানের ৬৭ রানের ইনিংস।

রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের উদ্বোধনী জুটি টিকেনি ২.৩ ওভারের বেশি। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে উড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন গুরবাজ (১৪ বলে ৭)। তবে ব্যাটে-বলে সংযোগ হয়নি ঠিকঠাক, বেশ কিছুক্ষণ হাওয়ায় ভেসে মিড অনে তামিম ইকবালের তালুবন্দী হয়।

ব্যক্তিগত ৩ রানে ফিরতে পারতেন আরেক ওপেনার ইব্রাহিমও। তাসকিন আহমেদের বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে। অনেকটা হাতের ক্যাচই ফেলে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

জীবন পেয়ে জাদরান খোলস ছেড়ে বেরোন, তাসকিনের করা ইনিংসের ৮ম ওভারে হাঁকান একটি করে চার, ছক্কা। শুরু থেকেই লাইন লেংথে এলোমেলো তাসকিন ঐ ওভারে খরচ করেন ১৫ রান।

ইনিংসের ৯ম ওভারে সাকিবকে আক্রমণে আনেন টাইগার কাপ্তান, শুরুটাই মেইডেন। শরিফুলের করা ইনিংসের ১২তম ওভারে রহমত শাহ (তখন ১২ রানে ব্যাট করছিলেন) ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে দিলেও ফিল্ডার সাকিব চেষ্টা করেও তা নাগালের মধ্যে আনতে পারেননি।

জীবন পাওয়া জাদরান (২৩ বলে ১৯) অবশ্য ইনিংস লম্বা করতে পারেননি, শরিফুলের কিছুটা বাইরে বেরোনো বলে ক্যাচ দেন স্লিপে। ভাঙে ৬৫ বলে ৪৫ রানের জুটি। এরপর অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদী ও রহমত শাহ ধীর গতির জুটিতে যোগ করেন ২৩ রান।

জুটি ভাঙেন তাসকিন, তার ব্যাক অব লেংথের লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারিতে ব্যাক ফুটে খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন রহমত (৬৯ বলে ৩৪)। ৩ উইকেটে ৭৯ রানে পরিণত হয় আফগানিস্তান।অধিনায়ক হাসমতউল্লাহও যেতে পারেননি বেশি দূর। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে থামেন ৪৩ বলে ২৮ রান করে।

আফগানদের রান তোলার গতি ধীর করারতে দারুণ ভূমিকা রাখেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১০ ওভারের স্পেলে ৩ মেডেনসহ উইকেট শূন্য থাকলেও রান খরচ করেছেন মাত্র ২৮!

তবে নাজিবউল্লাহ জাদরান ও মোহাম্মদ নবির ব্যাটে লড়াকু সংগ্রহে পথে হাঁটে আফগানরা। দুজনে মিলে ৬৩ রানের জুটি গড়েন, এ দফায়ও জুটি ভাঙেন তাসকিন। নবি (২৪ বলে ২০) উইকেটের পেছনে মুশফিককে ক্যাচ দেন।

নবি ফিরলেও জাদরান ৭০ বলে তুলে নেন ফিফটি। তবে অন্য পাশে যোগ্য সঙ্গী পাননি এই বাঁহাতি। ইনিংসের ৪৫তম ওভারে সাকিব ফেরান গুলবেদিন নাইব (১৭) ও রাশিদ খানকে (০)। পরের ওভারেই মুস্তাফিজুর রহমান ফেরান মুজিবুর রহমানকে (০)।

আফগানিস্তান শেষ পর্যন্ত অলআউট হয়ে ২১৫ রানের সংগ্রহ পায় জাদরানের ব্যাটে চড়েই। শরিফুল ইসলামের দ্বিতীয় শিকার হয়ে জাদরান ফেরেন ৯ম ব্যাটসম্যান হিসেবে। ততক্ষণে নামের পাশে সর্বোচ্চ ৮৪ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় ৬৭ রান।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট মুস্তাফিজের, ২ টি করে উইকেট নেন তাসকিন, সাকিব, ও শরিফুল।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

আফগানিস্তান ২১৫/১০ (৪৯.১), গুরবাজ ৭, ইব্রাহিম ১৯, রহমত ৩৪, হাশমতউল্লাহ ২৮, নাজিবউল্লাহ ৬৭, নবি ২০, গুলবেদিন ১৭, রাশিদ ০, মুজিব ০, ইয়ামিন ৫, ফারুকি ০*; মুস্তাফিজ ৯.১-০-৩৫-৩, তাসকিন ১০-০-৫৫-২, সাকিব ৯-১-৫০-২, শরিফুল ১০-১-৩৮-২, মাহমুদউল্লাহ ১-০-৪-১।

চট্টগ্রাম থেকে, ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

অনন্য নজির স্থাপন করলেন লোকেশ রাহুল

Read Next

দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচিং স্টাফে অজিত আগারকার

Total
1
Share