সব থেকেও কিছুই নাই এর দিন রাসেল ডোমিঙ্গোর

সব থেকেও কিছুই নাই এর দিন রাসেল ডোমিঙ্গোর
Vinkmag ad

সাকিব আল হাসানকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে অনেকেই আখ্যায়িত করেছেন সুপারম্যান হিসেবে। ব্যক্তিগতভাবে সাকিবকে পর্যবেক্ষণ করলে আক্ষরিক অর্থে সুপারম্যান বলার সুযোগ না থাকলেও সাকিব চরিত্রটা আপনাকে বিস্মিত করতে বাধ্য। এই যেমন বিপিএল শেষে কোলকাতায় শ্যুটিং শেষে যোগ দিলেন চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের অনুশীলনে। তবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ (২২ ফেব্রুয়ারি) সাকিবকে ছাপিয়ে আলোর সবটুকু কেড়ে নেন জেমি সিডন্স।

দুই বছরের চুক্তিতে বিসিবির ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পান। চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশে পৌঁছেও নিজের ভূমিকা সম্পর্কে অনিশ্চিত ছিলেন টাইগারদের সাবেক এই কোচ। তবে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্সের পদত্যাগে তার দায়িত্ব চূড়ান্ত হতে সময় লাগেনি। আফগানিস্তান সিরিজ থেকেই জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ শুরু করবেন এমন বার্তা দেওয়া হয় বোর্ড থেকে (অনানুষ্ঠানিক)।

তবে করোনা পজিটিভ হওয়াতে ঘরবন্দীই কাটছিলো সময়। যদিও শেষ পর্যন্ত সিরিজ সামনে রেখে চট্টগ্রামে চলমান অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন আজই। সকালের ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছে সকাল ১০ টায় শুরু হওয়া অনুশীলনেই টাইগার ব্যাটারদের নিয়ে কাজ শুর করেন। আর এতেই দৃশ্যপটে যেনো আধিপত্য কমে প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

বিসিবির জন্য অনেকটা গলার কাঁটা বলা যায় দক্ষিণ আফ্রিকান ডোমিঙ্গোকে। অদ্ভুত এক চুক্তিতে ইচ্ছে থাকা স্বত্বেও জটিল হিসাব নিকাশ চুকিয়ে বিদায় করা যায়নি তাকে। তবে টিম ডিরেক্টর হিসেবে দলে খালেদ মাহমুদ সুজনকে যুক্ত করে তার কার্যক্রমের পরিধি কমিয়ে আনে বিসিবি। সিডন্সের নিয়োগে সীমিত হয়ে যাওয়া কাজ যেনো আরও কমে গেলো, প্রধান কোচ ট্যাগের আড়ালে নিঃস্ব এক সেনানী।

জহুর আহমেদে আজকের অনুশীলনে অন্তত সেটা মনে হতে পারে যে কারো। সকাল শুরু হয় তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং দিয়ে, পুরোনো শিষ্যদের পেয়ে সিডন্স যেনো কোনো পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের মধ্যমণি। ১১ বছর আগে টাইগারদের প্রধান কোচ থাকাকালীনই তামিম, সাকিব, মুশফিকদের ব্যাটিং উন্নতিতে রেখেছেন অনস্বীকার্য ভূমিকা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শৈশবের সময়টায় পাওয়া কোচকে পড়ন্ত বেলায় আরেক দফা পেয়ে শিষ্যরাও যেনো উচ্ছ্বসিত। সাকিবের ব্যাটিংয়ের সময় দেখেছেন খুব কাছ থেকে, ব্যাটিং শেষে দেখিয়ে দিয়েছেন ভুল ত্রুটি। তামিমের লফটেড শট খেলার ক্ষেত্রে খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে করেছেন আলাপ।

জিমি সিডন্স, রাসেল ডোমিঙ্গো
ছবি- রতন গোমেজ/ বিসিবি

মুশফিক, রিয়াদের সাথেও আলাপ ছিল উল্লেখযোগ্য সময়ের। শুধু পুরোনোদের নয় নতুনদের নিয়েও কাটিয়েছেন লম্বা সময়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদুল হাসান জয়, আফিফ হোসেন, ইয়াসির আলি রাব্বিরা প্রথম দিনেই নিশ্চিতভাবে নতুন জিনিস শেখা কিংবা পুরোনো জিনিসে ঘষামাঝা করতে পেরেছেন।

টিম ডিরেক্টর খালদে মাহমুদ সুজন যখন নেটে আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজদের দেখছেন তখন অন্য পাশের নেটে স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ। মাঝ মাঠে ফিল্ডিং অনুশীলন করাচ্ছিলেন নব নিযুক্ত ফিল্ডিং কোচ রাজিন সালেহ। অন্য ব্যাটারদের নিয়ে ব্যস্ত সিডন্স, ফাঁকে মজার ছলে পেস বোলিং করেন সাকিব।

একটা সময় সাকিবকে নিয়ে মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের নেট ঘেঁষা দূরত্বে খোশ গল্পে মেতে উঠেন সিডন্স, সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। যে আলাপ চলে লম্বা সময়, হাতের অঙ্গভঙ্গিতে ব্যাটিং টেকনিকের কোনো বিষয় নিয়েও তিনজনের কথাবার্তা হয়।

এই পুরো সময়ে ডোমিঙ্গোর ভূমিকা জুনিয়র ব্যাটারদের কখনো বল থ্রো করা, সাথে টুকটাক ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া। এর বাইরে সিডন্স, হেরাথ কিংবা খালেদ মাহমুদের নানা আড্ডায় পাশে দাঁড়িয়ে সঙ্গ দেওয়া।

ডোমিঙ্গো, সাকিব
ছবি- রতন গোমেজ/ বিসিবি

সিডন্সের অন্তর্ভূক্তিতে বাংলাদেশ অধ্যায়ের শেষ বেলায় রাসেল ডোমিঙ্গো যেনো নিরীহ একজন। যদিও আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগামীকাল মাঠে গড়াতে যাওয়া প্রথম ওয়ানডের আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক তামিম জানান সিডন্সের যোগ দেওয়াতে কোচিং স্টাফ কিংবা দলে কোনো প্রভাব পড়ছেনা। সবাই মিলে দল হয়েই খেলতে চান তারা।

তামিম বলেন, ‘আমরা একটা দল। রাসেল হেড কোচ হয়ে সেই দলের অংশ। জেমি ব্যাটিং কোচ হয়ে এই দলের অংশ। আমার মনে হয় না এটা আমরা আলাদাভাবে চিন্তা করছি বা দেখার দরকার আছে। যারা এই সেটআপে আছে, তারা মিলেই বাংলাদেশ দল। ম্যানেজমেন্ট বলুন, খেলোয়াড় বলুন, আমরা সবাই এক।’

‘এভাবেই আমরা এগোতে চেষ্টা করব। দূরত্ব থাকলে ভালো কিছু হবে না। খেলোয়াড়- স্টাফ আমরা সবাই জানি আমরা একটি দল। ভালো খেলি খারাপ খেলি, একসাথেই থাকব আমরা।’

‘জেমি বাংলাদেশে অনেক বড় প্রভাব রাখতে পারে। তার যে অভিজ্ঞতা আছে বা তার সাথে কাজ করার যে অভিজ্ঞতা আমাদের আছে… আমরা সিরিজের মধ্যে আছি তাই এই সময়টা ওর জন্য একটু কঠিন। কমবেশি যতটুক পারছে চেষ্টা করছে। তবে আমি নিশ্চিত তরুণরা ওর কাছ থেকে অনেক উপকৃত হবে।’

এদিকে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনও একদিন আগে সংবাদ মাধ্যমে জানান রাসেল ডোমিঙ্গো-জেমি সিডন্স জটিলতায় সমন্বয়হীন হবে না কোচিং স্টাফ, টিম ম্যানেজমেন্ট।

তিনি বলেন, ‘এরা সবাই পেশাদার, যার যার ব্যক্তিগত কাজটাই করা উচিৎ। সমন্বয়ের কোনো সমস্যা নাই, যার যার দায়িত্ব জেনেই তারা এখানে কাজ করছে। জেমি বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ, অনেক বড় কোচ, তার কাছ থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। আমার মনে হয়না কোনো সমস্যা হবে সমন্বয়ে।’

খালি চোখে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হলেও কিংবা প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর কাজের পরিধি কমে আসা চোখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত তামিম-সুজনের কথা সত্য হয়ে দলটা দল হয়েই খেলুক সেই প্রত্যাশা পুরো বাংলাদেশের…

চট্টগ্রাম থেকে, নাজমুল তারেক

Read Previous

তামিমের হৃদয়ের বিশেষ জায়গায় চট্টগ্রাম

Read Next

টাইগারদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করা ম্যাচই যখন আফগানদের অনুপ্রেরণা

Total
1
Share