বরিশালকে অপেক্ষায় রেখে কুমিল্লার ৩য় শিরোপা

বরিশালকে অপেক্ষায় রেখে কুমিল্লার ৩য় শিরোপা
Vinkmag ad

দলের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান বরিশালে করার কথা থাকলেও করোনা প্রভাবে ফরচুন বরিশালের সব আনুষ্ঠানিকতা সারতে হয় ঢাকাতেই। তবে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান কথা দিয়েছেন বিপিএল শিরোপা জিতেই যেতে চান বরিশাল। দলকে ফাইনালে এনে সাকিব যেনো নিজের কথাই রাখতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু রোমাঞ্চকর ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে ১ রানে হেরে রানার আপেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো ফরচুন বরিশালকে।

দুই দলের ব্যাটিং ইনিংস যেনো একই রকম, সুনীল নারাইনের (২৩ বলে ৫৭) আরেক দফা ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পরেও বড় সংগ্রহ পায়নি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ১৫২ রানের মাঝারি লক্ষ্যকে সৈকত আলির (৩৪ বলে ৫৮) ঝড় মামুলি বানিয়ে দিচ্ছিলো। কিন্তু কুমিল্লার মতো বরিশালের ব্যাটিং লাইনআপেও ধ্বস নামলে সহজ ম্যাচ কঠিন করেই হেরে বসে সাকিবের দল।

ওপেন করতে নেমে ঝড় তোলা নারাইন বল হাতেও ছিলেন দুর্দান্ত। ব্যাটে-বলে ফাইনালটা নিজের করে নিলেন এই ক্যারিবিয়ান।

এই নিয়ে তিন বার ফাইনাল খেলে তিন বারই শিরোপা জিতলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে এটি দ্বিতীয় শিরোপা তাদের। অধিনায়ক হিসেবে ইমরুলের চেয়ে বেশি শিরোপা এখন কেবল মাশরাফি বিন মর্তুজার (চারবার)।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ফরচুন বরিশাল শিবিরে ধাক্কা, ফর্মের তুঙ্গে থাকা মুনিম শাহরিয়ার (৭ বলে ০) এদিন ফেরেন খালি হাতে। তবে নন স্ট্রাইক প্রান্তে ক্রিস গেইলকে রেখে মুনিমের অভাব পূরণ করেছেন জিয়াউর রহমানের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া সৈকত আলি।

ক্রিজে এসেই শহিদুল ইসলামকে হাঁকান টানা ৩ চার। মুস্তাফিজুর রহমানের করা চতুর্থ ওভারেও হাঁকান টানা ৩ চার। মইন আলিকে ৬ষ্ঠ ওভারে ডাউন দ্য উইকেট ও স্লগ সুইপে হাঁকানো টানা দুই ছক্কায় সৈকত জানান দেন আজ ভিন্ন কিছু করতেই নেমেছেন।

৭ম ওভারে আবু হায়দার রনিকে হাঁকান টানা ৩ চার, ততক্ষণে ২৬ বলে ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটিও (বিপিএলে প্রথম)। তার ঝড় থামান বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম, ৩৪ বলে ১১ চার ১ ছক্কায় খেলেন ৫৮ রানের ইনিংস। ভাঙে গেইলের সাথে ৭৪ রানের জুটি।

সৈকতের তান্ডব দেখতে দেখতে নিজের খেলা প্রথম ২০ বলে ১৪ রান গেইলের ব্যাটে। ক্রিজে আসা নতুন ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে অবশ্য হাত খোলেন এই ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং দানব।

তবে রূপ নেয়নি বিধ্বংসী ইনিংসে, ৩১ বলে ৩৩ রানেই থামেন আরেক ক্যারিবিয়ান নারাইনের বলে। ব্যর্থ হন অধিনায়ক সাকিবও (৭ বলে ৭)। আরিফুল হকের সরাসরি থ্রোতে রান আউট নুরুল হাসান সোহান (১৩ বলে ১৪)।

শেষ ১৮ বলে প্রয়োজন ১৮, নারাইনের করা ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই এলবডিব্লিউ ডোয়াইন ব্রাভো (১)। ওভারে রান আসে মাত্র ২, ব্যাট হাতে ঝড় বইয়ে দেওয়া নারাইনের স্পেল শেষে ফিগার ৪-০-১৫-২!

মুস্তাফিজের করা ১৯তম ওভারে ফিরতে হয় নাজমুল হোসেন শান্তকে (১৫ বলে ১২)। ওভারে মাত্র ৬ রান দিলে শেষ ওভারে ফরচুন বরিশালের প্রয়োজন দাঁড়ায় ১০ রান।

প্রথম ৩ বলে শহিদুল দেননি ২ রানের বেশি, পরেরটি ওয়াইড। যদিও কট বিহাইন্ডের জন্য রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। পরের বলে তৌহিদ হৃদয় নেন ২ রান, ২ বলে সমীকরণ ৫। ৫ম বলে তৌহিদ হৃদয়ের সহজ ক্যাচ ছাড়েন তানভীর, শেষ বলে প্রয়োজন ৩, আসেন ১ রানের বেশি। ১ রানের জয় তৃতীয় শিরোপা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের।

লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে আগের ম্যাচে যেখানে শেষ করেছেন সুনীল নারাইন সেখান থেকেই যেনো শুরু করলেন। আগের ম্যাচে হাঁকিয়েছেন বিপিএলের দ্রুততম ফিফটি। আজ হাঁকালেন বিপিএল ফাইনালের দ্রুততম ফিফটি।

স্পিনার মুজিবুর রহমানের করা প্রথম ওভারেই হাঁকান ১ চার, ২ ছক্কা। পেসার শফিকুল ইসলামের করা পরের ওভারে একই পরিণতি, ১ চারের বিপরীতে ছক্কা ২ টি। নারাইন ঝড় চলা অবস্থাতেই অবশ্য ফিরতে হয় লিটনকে (৬ বলে ৪)। সাকিব আল হাসানের বলে হয়েছেন বোল্ড, ৩ ওভার স্থাইয়ী উদ্বোধনী জুটিতে রান ৪০!

ইনিংসের ৫ম ওভারে সাকিবকে ৩ চার হাঁকিয়ে ২১ বলে ফিফটি তুলে নেন নারাইন। যা বিপিএল ফাইনালে দ্রুততম, এর আগের রেকর্ড ছিল রনি তালুকদারের (২০১৯ সালে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ২৬ বলে)।

মেহেদী হাসান রানার করা ৬ষ্ঠ ওভারেই ফিরতে হয় নারাইনকে, তবে তার আগেও হাঁকান ১ ছক্কা। ২৩ বলে সমান ৫ টি করে চার, ছক্কায় তার ব্যাটে ৫৭ রান।

নারাইনের বিদায়ের পরই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ব্যাটিং লাইন আপ ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মতো। প্রথম ওভারে ১৮ রান দেওয়া মুজিব ৩ ওভারের দ্বিতীয় স্পেলে ফেরান ফাফ ডু প্লেসিস (৭ বলে ৪) ও আরিফুল হককে (২ বলে ০)। এই ৩ ওভারে খরচ করেন মাত্র ৯ রান। মাঝে রান আউট হন মাহমুদুল হাসান জয় (৭ বলে ৮)।

অধিনায়ক ইমরুক কায়েসকে (১২ বলে ১২) উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করেন ডোয়াইন ব্রাভো। ২৬ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে ৬ উইকেটে ৯৫ রানে পরিণত হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

তবে ইনিংসের প্রায় অর্ধেক বল বাকি থাকায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল দুই বারের শিরোপা জয়ীদের সামনে। সেটাই করে দেখান মইন আলি ও আবু হায়দার রনি।

দুজনে ধীরগতির শুরুতে কেবল প্রতিরোধ গড়েন, শেষদিকে যা কাজে লাগিয়ে দলকে এনে দেন লড়াকু পুঁজি। শেষ ওভারের প্রথম বলে মইন রান আউট হলে ভাঙে ৫২ বলে ৫৪ রানের জুটি। ৩২ বলে ২ চার ১ ছক্কায় তার ব্যাটে ৩৭ রান।

শফিকুল ইসলামের করা ঐ ওভারে ফিরেছেন রনি (২৭ বলে ১৯) ও শহিদুল ইসলামও )২ বলে ০)। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে থামতে হয় ৯ উইকেটে ১৫১ রানে।

২৭ রান খরচায় দুই উইকেট নিয়ে ফরচুন বরিশালের সেরা বোলার মুজিব। ৩১ রান খরচায় দুই উইকেট নেন শফিকুলও। একটি করে শিকার সাকিব, ব্রাভো ও রানার।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ১৫১/৯ (২০), নারাইন ৫৭, লিটন ৪, জয় ৮, ডু প্লেসিস ৪, ইমরুল ১২, মইন ৩৮, আরিফুল ০, রনি ১৯, শহিদুল ০, তানভির ০*, মুস্তাফিজ ০*; মুজিব ৪-০-২৭-২, শফিকুল ৪-০-৩১-২, সাকিব ৪-০-৩০-১, ব্রাভো ৪-০-২৬-১, রানা ৪-০-৩৪-১

ফরচুন বরিশাল ১৫০/৮ (২০), মুনিম ০, গেইল ৩৩, সৈকত ৫৮, নুরুল ১৪, সাকিব ৭, শান্ত ১২, ব্রাভো ১, হৃদয় ৯*, মুজিব ৪; মুস্তাফিজ ৪-০-৩০-১, শহিদুল ৪-০-৩৬-১, নারাইন ৪-০-১৫-২, তানভির ৪-০-২৫-২

ফলাফলঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ১ রানে জয়ী।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

অস্ট্রেলিয়ায় হেরেই চলেছে শ্রীলঙ্কা

Read Next

বঙ্গবন্ধু বিপিএল ২০২২ঃ প্রাইজমানি বৃত্তান্ত

Total
15
Share