চট্টগ্রামকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে বরিশালের সঙ্গী কুমিল্লা

চট্টগ্রামকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে বরিশালের সঙ্গী কুমিল্লা
Vinkmag ad

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ১৪৮ রানে আটকে দিয়ে কাজ এগিয়ে রেখেছিলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স বোলাররা। আর জয়ের পথে সে ক্যানভাসে তুলির প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ আঁচড়টা দিলেন সুনীল নারাইন। তার রেকর্ড গড়া দ্রুততম ফিফটিতে ৪৩ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার জিতলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ১৮ ফেব্রুয়ারির ফাইনালে তারা সঙ্গী হলো ফরচুন বরিশালের।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ (১৬ ফেব্রুয়ারি) টস জিতে আগে ব্যাট করা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৫ বল আগেই অলআউট হয়েছে ১৪৮ রানে। ৫০ রানে ৫ উইকেট হারানো দলটির এই সংগ্রহ আসে মেহেদী হাসান মিরাজের ৪৪ ও আকবর আলির ৩৩ রানে ভর করে।

জবাবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ইনিংসের গল্পটা দারুণভাবে শুরু করেন লিটন দাসের সাথে ওপেন করতে নামা সুনীল নারাইন। নারাইনের ব্যাটে বিপিএল ইতিহাসের দ্রুততম ও সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটি। খেলেছেন ১৬ বলে ৫৭ রানের ইনিংস।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই লিটনকে হারায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এরপরই শুরু হয় নারাইন ঝড়, শরিফুল ইসলামের করা ঐ ওভারে নারাইন হাঁকান ২ চার ১ ছক্কা। বাই হিসেবে আসা আরও এক চারে ওভারে রান আসে ২০।

মিরাজের করা পরের ওভারেই নারাইনের ব্যাটে ১ চার ও ৩ ছক্কা, সব মিলিয়ে আসে ২৩ রান। মাঝের ২ ওভারে নারাইন পাননি স্ট্রাইক। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে হাঁকান একটি করে চার, ছক্কা।

মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর করা ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ১৩ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি। যা বিপিএল ইতিহাসের দ্রুততম ও সব ধরণের স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটি। ফিফটির পর হাঁকান আরও এক চার, তবে আউটও হয়েছেন ঐ ওভারেই।

মৃত্যুঞ্জয়কে ফিরতি ক্যাচ দেওয়ার আগে তার নামের পাশে ১৬ বলে ৫ চার ও ৬ ছক্কায় ৫৭ রান। তার অমন ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে-তে কুমিল্লার স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ৮৪ রান।

অধিনায়ক ইমরুল কায়েস ২৪ বলে ২২ রান করে আউট হলেও জয়ের পথ একটুও কঠিন হয়নি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। যেখানে শেষের কাজটা করেছেন ফাফ ডু প্লেসিস ও মইন আলি।

১২.৫ ওভারে জয় নিশ্চিত করার পথে ডু প্লেসিস ও মইন দুজনেই অপরাজিত ছিলেন সমান ৩০ রানে। মইন খেলেছেন ১৩ বল, ডু প্লেসিস ২৩ বল।

আগে ব্যাট করতে নামা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের দুই ওপেনার উইল জ্যাকস ও জাকির হাসান দারুণ কিছুর আভাস দেন। আবু হায়দার রনির করা প্রথম ওভারেই আসে ৩ চার।

৩.৪ ওভার স্থায়ী জুটিতে ৩১ রান, পেসার শহিদুল ইসলামের বলে জ্যাকস (৯ বলে ১৬ রান) ফিরলে ভাঙে জুটি। ইনিংসের ৫ম ওভারে তানভীর ইসলাম ফেরান চ্যাডউইক ওয়ালটনকে (৩ বলে ২)।

পরের ওভারেই মইন আলি কোনো রান না দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট। জাকিরের ব্যাটে ১৯ বলে ২০ রান। স্টাম্পড হওয়া শামীম হোসেন পাটোয়ারী ফেরেন খালি হাতে।

নিজের দ্বিতীয় ওভারে মইন ফেরান অধিনায়ক আফিফ হোসেনকেও (১০ বলে ১০)। ৫০ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

সেখান থেকে আকবর আলিকে নিয়ে ৫৫ বলে জুটিতে ৬১ রান যোগ করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আবু হায়দারের করা ইনিংসের ১৫তম ওভারে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আকবর বিদায় নিলে ভাঙে জুটি।

২০ বলে সমান দুইটি করে চার, ছক্কায় ৩৩ রান তার ব্যাটে। টুর্নামেন্টজুড়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে মিডল অর্ডারে পথ দেখানো বেনি হাওয়েলও (৫ বলে ৩) হয়েছেন ব্যর্থ।

শেষ পর্যন্ত দলীয় সংগ্রহ ১৪৮ ছুঁয়েছে মিরাজ ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর ব্যাটে। ৩৮ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৪৪ রান মিরাজের ব্যাটে। দারুণ ২ ছক্কায় ৯ বলে ১৫ রান আসে মৃত্যুঞ্জয়ের ব্যাট থেকে।

এক ওভার আগেই অল আউট করার পথে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ টি করে উইকেট শহিদুল ও মইন আলির।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

১০ বছর পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন সুনীল নারাইন

Read Next

তন্ময় আহমেদের হ্যাটট্রিক, একাই নিলেন ৯ উইকেট

Total
1
Share