কুমিল্লাকে অপেক্ষায় রেখে ফাইনালে ফরচুন বরিশাল

কুমিল্লাকে অপেক্ষায় রেখে ফাইনালে ফরচুন বরিশাল
Vinkmag ad

মিরপুরে দিনের ম্যাচেই ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করার মতো, সেখানে রাতের ম্যাচে যাকে বলা যায় মামুলি। তবে উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু পেয়েও শেষের নাটকীয়তায় বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ার হেরেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ১০ রানের জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশাল।

আজ (১৪ ফেব্রুয়ারি) টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মুনিম শাহরিয়ারের ৪৪ রানের আরও এক দারুণ ইনিংসের পরেও ৮ উইকেটে ১৪৩ রানেই থামে ফরচুন বরিশাল। যেখানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান ক্রিস গেইলের ব্যাটে।

জবাবে লিটন দাস-মাহমুদুল হাসান জয়ের ধীর গতির তবে ভালো উদ্বোধনী জুটির পরেও শেষদিকে খেই হারিয়ে শেষ ওভারে গিয়ে পরাজয় বরণ করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ৭ উইকেটে ১৩৩ রানে আটকে যাওয়ার পথে সর্বোচ্চ ৩৮ রান লিটন দাসের ব্যাটে। যদিও ফাইনালে যাবার জন্য আরও এক সুযোগ আছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সামনে। ২য় কোয়ালিফায়ারে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। 

ছোট লক্ষ্য বিবেচনায় লিটন দাস ও মাহমুদুল হাসান জয়ের ৬২ রানের উদ্বোধনী জুটিতে কিছুটা ধীরেই রান উঠে। পাওয়ার প্লেতে ৩৮ ও ১০ ওভারে বিনা উইকেটে স্কোরবোর্ডে ৫৯ রান। ৩০ বলে ১ ছক্কায় ২০ রান করে মেহেদী হাসান রানার বলে জয় বোল্ড হলে ভাঙে জুটি।

ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ টিকেননি অধিনায়ক ইমরুল কায়েসও (৫)। শফিকুল ইসলামের গুড লেংথে পড়া কিছুটা ভেতরে ঢোকা বলে ক্যাচ দেন শর্ট থার্ড ম্যানে ক্রিস গেইলকে। একই ওভারে ৩৫ বলে ৩৮ রান করা লিটনকেও ইনসাইড এজে বোল্ড করেন শফিকুল। বিনা উইকেটে ৬২ থেকে ৩ উইকেটে ৬৮ রানে পড়িণত হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

ততক্ষণে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান ও বলের সমীকরণও আস্তে আস্তে কঠিন হতে শুরু করে। তবে সেটি সহজ করে আনেন মইন আলি ও ফাফ ডু প্লেসিস। দুজনে ২১ বলের জুটিতে যোগ করেন ৩৬ রান। নাজমুল হোসেন শান্তর করা ১৫তম ওভারে আসে ১৪ রান।

শেষ ৩০ বলে সমীকরণ ৪৬ রানের, ডোয়াইন ব্রাভোর করা ১৬তম ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান মইন। কিন্তু বোল্ড হয়েছেন পরের বলেই, থামেন ১৪ বলে ২২ রানে।

শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন দাঁড়ায় ২২ রান। মেহেদী হাসান রানার করা ১৯তম ওভারে যেনো নাটকীয়তার ছড়াছড়ি। দ্বিতীয় বলটি পিচে পড়ার আগেই ডেড বল ঘোষণা করেন আম্পায়ার, মূলত টেকনিক্যাল কোনো সমস্যার কারণেই।

পরের বলেই লং অফে নারাইনের সহজ ক্যাচ ছাড়েন ব্রাভো। পরের বলে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেন ফাফ ডু প্লেসিস। ১৫ বলে ২১ রান করে ডু প্লেসিস ফিরলেই ম্যাচ হেলে পড়ে ফরচুন বরিশালের দিকে। ওভারে রান আসেনি ৩ এর বেশি।

শেষ ওভারের কঠিন সমীকরণ আর মেলাতে পারেনি মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (১), সুনীল নারাইন (১৭), নাহিদুল ইসলামরা (১*)। কুমিল্লাকে ১৩৩ রানে আটকে দেওয়ার পথে মেহেদী হাসান রানা করেছেন দারুণ বোলিং, ৩ ওভারে ১৫ রান খরচায় নেন ২ উইকেট। সমান ২ টি করে উইকেট মুজিবুর রহমান, শফিকুল ইসলামেরও।

ফরচুন বরিশাল ইনিংস আরেকবার শুরু হয় মুনিম শাহরিয়ার ঝড়ে। নাহিদুল ইসলামের করা ইনিংসের প্রথম ওভারেই স্লগ সুইপে ছক্কা হাঁকালেন লং অন ও ডিপ মিড উইকেট দিয়ে। সাথে হাঁকিয়েছেন এক চারও, তাতে ওভারে রান আসে ১৬।

মুস্তাফিজুর রহমানের করা পরের ওভারে সামনের পায়ের ব্যবহারে মিড উইকেট দিয়ে হাঁকান আরও এক দারুণ ছক্কা। এরপর মুনিম যতক্ষন ক্রিজে ছিলেন করেছেন এমন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংই।

তার সাথে এদিন দ্রুত গতিতে রান তোলাতে যোগ দেন ক্রিস গেইলও। তানভীর ইসলামের করা চতুর্থ ওভারে হাঁকান ৪ চার। দুজনের ৫৮ রানের জুটি ভাঙে শহিদুল ইসলামের বলে গেইল আউট হলে। ১৯ বলে ৪ চারে থেমেছেন ২২ রান করে।

তবে মুনিম ছিলেন সহজাত, ৮ম ওভারে মইন আলিকে হাঁকান একটি করে চার ও ছক্কা। নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে তার জুটি অবশ্য ২৬ রানের বেশি হয়নি। বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলামের বলে মুনিম আউট হয়েছেন ৩০ বলে ২ চার ৪ ছক্কায় ৪৪ রান করে।

তার বিদায়ের পরই ভেঙে পড়ে ফরচুন বরিশাল ব্যাটিং লাইন আপ। ১০ রানের ব্যবধানে মইন আলির স্পিন ঘূর্ণিতে সাজঘরে ফেরে শান্ত (১৩), তৌহিদ হৃদয় (১)। ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়েন সাকিব আল হাসানও (১)। তাতে ৫ উইকেটে ৯৪ রানে পরিণত হয় ফরচুন বরিশাল।

সেখান থেকে ৮ উইকেটে ১৪৩ রানের সংগ্রহ পাওয়ার পথে জিয়াউর রহমান ও ডোয়াইন ব্রাভোর ব্যাটে ১৭ রান, ১১ রান করেছেন নুরুল হাসান সোহান। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শহিদুলের।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বোলাররা খারাপের লিমিট পার করেছে, ক্ষোভ উগরে দিলেন মুশফিক

Read Next

ফাইনালে বোলারদের সাথে ব্যাটাররাও ঝলক দেখাবে আশা সাকিবের

Total
7
Share