খুলনাকে বিদায় করে কোয়ালিফায়ারে চট্টগ্রাম

খুলনাকে বিদায় করে কোয়ালিফায়ারে চট্টগ্রাম
Vinkmag ad

সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে প্লে-অফে তুলে আন্দ্রে ফ্লেচার বলেছিলেন খুলনা টাইগার্সকে ফাইনাল না খেলিয়ে বাংলাদেশ ছাড়তে চান না। ফ্লেচার নিজের দেওয়া কথা প্রায় রেখেই ফেলছিলেন, যে পথে ব্যাট হাতে নিজেই দাঁড়িয়ে গেলেন এলিমিনেটর ম্যাচে। তবে তার আরও একটি দুর্দান্ত ইনিংসেও শেষের নাটকীয়তায় হার এড়াতে পারেনি খুলনা টাইগার্স। তাদের ৭ রানে হারিয়ে কোয়ালিফায়ার-২ নিশ্চিত করলো চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

আগে ব্যাট করা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বড় সংগ্রহের পথটাও তৈরি করে দেন আরেক ক্যারিবিয়ান চ্যাডউইক ওয়ালটন। টুর্নামেন্টে এর আগে সুবিধা না করতে পারা ওয়ালটনের ৮৯ রানের হার না মানা এক ইনিংসে ৫ উইকেটে ১৮৯ রানের পুঁজি চ্যালেঞ্জার্সদের।

জবাবে ফ্লেচারের অপরাজিত ৮০ রানের ইনিংসের সাথে মুশফিকুর রহিম (৪৩) ও ইয়াসির আলি রাব্বির (৪৫) দারুণ দুইটি ইনিংসেও শেষ হাসি হাসতে পারেনি খুলনা টাইগার্স।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ফ্লেচারের ব্যাটে চড়ে পাওয়ার প্লেতেই ৫৮ রান তুলে ফেলে খুলনা টাইগার্স। ততক্ষণে অবশ্য সাঝঘরে ফিরেছেন শেখ মেহেদী (৪ বলে ২) ও সৌম্য সরকার (১)।

তবে ফ্লেচারকে যোগ্য সঙ্গ দেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। দুজনে মিলে ৪৮ বলে যোগ করে ৬৪ রান। বেনি হাওয়েলের করা ইনিংসের ১০ম ওভারে লং অনে ঠেলে দিয়ে ফিফটি ছুঁয়েছেন ফ্লেচার। একই ওভারে দুই ছক্কা হাঁকান মুশফিক। ১০ ওভারেই খুলনা টাইগার্সের স্কোরবোর্ডে ৯২ রান।

ইনিংসের ১৩তম ওভার অবশ্য ফিরতে হয়েছে মুশফিককে। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে। নামের পাশে ২৯ বলে ১ চার ৪ ছক্কায় ৪৩ রান।

মুশফিকের বিদায়েও থামেনি ফ্লেচার ঝড়, ১৫তম ওভারে মিরাজের ফ্ল্যাটার ডেলিভারিকে জায়গা বানিয়ে লং অন দিয়ে হাঁকানো ছক্কা জানান দেয় কতটা ছন্দে আছেন এই ক্যারিবিয়ান। তবে তাতেও শেষ ৫ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৬০ রান।

মৃত্যুঞ্জয়ের করা ১৬তম ওভারে আসেনি ৪ রানের বেশি। তবে শরিফুল ইসলামের করা ১৭তম ওভারেই ১৩ রান। শেষ ১৮ বলে প্রয়োজন পড়ে ৪৩। ১৮তম ওভারে ইয়াসির আলি রাব্বি মৃত্যুঞ্জয়কে হাঁকান ১ চার, ২ ছক্কা। শেষ ১২ বলে সমীকরণ ২৪!

ফ্লেচারকে এক পাশে রেখে রাব্বি যেনো ঝড় শুরু করেন। শরিফুলের করা ১৯তম ওভারের প্রথম বলেও ছক্কা, কিন্তু আউট হয়েছেন এক বল পরেই। বেনি হাওয়েলের দুর্দান্ত এক ক্যাচে পরিণত হয়ে ফেরেন ২৪ বলে ২ চার, ৪ ছক্কায় ৪৫ রান করে। ঐ ওভারে আর ১ রানের বেশি আসেনি। ৬ বলে প্রয়োজন পড়ে ১৬!

কিন্তু অফ স্পিনার মিরাজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে থিসারা পেরেরা, ফ্লেচার নিতে পারেনি ৮ রানের বেশি। শেষ পর্যন্ত থামতে হয় ৫ উইকেটে ১৮২ রানে। ৭ রানে হারা ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের হয়ে ফ্লেচার অপরাজিত ছিলেন ৫৮ বলে ৬ চার, ৪ ছক্কায় ৮০ রানে।

পেটের পীড়ায় ভোগা উইল জ্যাকসকে ছাড়াই চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে নামতে হয়েছে। কিন্তু তার না থাকার আক্ষেপ মিটে যায় ওয়ালটেনের ঝড়ে। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

খুলনার বোলারদের দিশেহারা করে ওয়ালটন মাত্র ৪৪ বলে ৮৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন। তার ইনিংস সাজানো ছিল ৭টি করে চার, ছক্কা। ফিফটি করেছেন মাত্র ২৮ বলে।

অথচ ওয়ালটন রাউন্ড রবিন লিগের ১০ ম্যাচের মধ্যে খেলেছেন মাত্র ৪টিতে। তাতে করেছেন মাত্র ৫১ রান। আর আজ ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকে। ওয়ালটনের শুরুটা হয়েছিল ধীর গতির।

ইনিংসের ১২তম ওভারের চতুর্থ বলে শেখ মেহেদীকে ফাইন লেগে চার মেরে শুরু, পরের বলে আবার মেহেদীর মাথার উপর দিয়ে ছয়! মাঝে রুয়েল মিয়ার করা ১৫তম ওভারে ওয়ালটন দুই ছয় দুই চারে নেন ২২ রান।

থিসারা পেরেরার করা ১৯তম ওভারে আবার চওড়া হয় ওয়ালটনের ব্যাট। ৩ চার ও ১ ছয়ে নেন ২০ রান! ওয়ালটন-মিরাজের পঞ্চম উইকেটের জুটি থেকে ৫৮ বলে আসে ১১৫ রান। মিরাজ ৩০ বলে ৩৬ রান করে ফিরলে ইনিংসের শেষ ওভারে ভাঙে এই জুটি।

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ওপেনিংয়ে দেখা যায় বিবর্ণ অবস্থা। কেনার লুইস ও জাকির হাসানের (০) ওপেনিং জুটি ভেঙে যায় ১২ রানে। তিনে নেমে আফিফও (৩) ফেরেন দ্রুত।

শামীম পাটোয়ারিও (৭ বলে ১০) বিপদের মুহূর্তে দলের হাল ধরতে পারেনি। এরপর শুধু ওয়ালটন-মিরাজের গল্প। শেষ ওভারে মিরাজ আউট হলে ক্রিজে আসেন বেনি হাওয়েল। ১ ছয়ে ৩ বলে ৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন হাওয়েল। খুলনার হয়ে সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নিয়েছেন খালেদ আহমেদ।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

তামিমের কাছে কমেন্ট্রি ‘ইন্টারেস্টিং’

Read Next

ফ্লেচারের বিদায় মন খারাপ করাচ্ছে ওয়ালটনেরও

Total
18
Share