কুমিল্লাকে উড়িয়ে দিয়ে প্লে অফে খুলনা টাইগার্স

RMP 2239 scaled
Vinkmag ad

চলতি বিপিএলের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটিতে না খেলেও ছিলো মিনিস্টার ঢাকা। কারণ খুলনা টাইগার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মধ্যকার ম্যাচে খুলনা হেরে গেলেই তাদের প্লে-অফ খেলার সুযোগ আসতো। তবে দুর্দান্ত এক ম্যাচ জিতে ঢাকাকে হতাশায় ডুবিয়ে নিজেদের ঝুলে থাকা প্লে-অফ নিশ্চিত করলো খুলনা।

ফাফ ডু প্লেসিসের সেঞ্চুরিতে (৫৪ বলে ১০১) ভর করে আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৮২। জবাবে আন্দ্রে ফ্লেচারের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতেছে খুলনা টাইগার্স। তাকে সঙ্গ দেওয়া শেখ মেহেদী হাসানের ব্যাটে ৭৪ রান।

আরেক দফা সেঞ্চুরির বিপরীতে সেঞ্চুরি দেখলো বিপিএল। চলতি আসরে গত ২৮ জানুয়ারি মিনিস্টার ঢাকা ও সিলেট সানরাইজার্স ম্যাচে লেন্ডল সিমন্স ও তামিম ইকবাল করেছেন সেঞ্চুরি।

আজ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিসের সেঞ্চুরির জবাবে সেঞ্চুরি হাঁকালেন খুলনা টাইগার্স ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার। যেখানে শেষ হাসি হেসেছেন ফ্লেচার, দলকে প্লে-অফে তোলা ইনিংস যে তার ব্যাটে।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে যেমন শুরু দরকার তার চাইতেও দারুণ কিছু পেলো খুলনা টাইগার্স। কোনো উইকেট না হারিয়েই দুই ওপেনার শেখ মেহেদী ও আন্দ্রে ফ্লেচার পাওয়ার প্লেতে তোলেন ৬৯ রান। দুজনে জুটি অবিচ্ছেদ্যই থাকতো, জয় থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে ফেরেন শেখ মেহেদী।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সমান একটি করে চার, ছক্কা ফ্লেচারের ব্যাটে। নাহিদুল ইসলামের করা পরের ওভারে ২ ছক্কার সাথে ১ চার। পরের ওভারে বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলামকে হাঁকান ২ ছক্কা। নিয়মিত এমন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ২৫ বলেই তুলে নেন ফিফটি।

ততক্ষণে তার সাথে রান তোলাতে যোগ দেন শেখ মেহেদীও। দুজনের ব্যাতে ১০ম ওভারেই দলীয় সংগ্রহ ১০০ পেরোয়। ১৪তম ওভারে ৩১ বলে ফিফটি তুলে নেন ফ্লেচারের মতো সমান তালে রান করে যাওয়া শেখ মেহেদীও।

১৬তম ওভারে আবু হায়দার রনিকে স্কুপ করে মারা চারটিতে ছিলো আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়া। ঐ ওভারে আরও একটি চার, ছক্কা আসে শেখ মেহেদীর ব্যাট থেকে।

১৮তম ওভারে শহিদুল ইসলামকে ছক্কা মেরে ৯৮ রানে পৌঁছান ফ্লেচার, চতুর্থ বলে স্কয়ার লেগে ঠেলে দিয়ে ছুঁয়েছেন তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার। বিপিএলে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। দল জেতানোর পথে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৬২ বলে সমান ৬ টি করে চার, ছক্কায়।

কিন্তু জয় থেকে মাত্র ১ রান দূরে থেকে ফেরেন শেখ মেহেদী, ভাঙে ১৮২ রানের জুটি। ৪৯ বলে তার ব্যাটে ৬ চার, ৪ ছক্কায় ৭৪ রান।

আগে ব্যাট করা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এদিন ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন আনে। লিটন দাসকে বিশ্রাম দিয়ে মাহমুদুল হাসান জয়ের সাথে ওপেন করতে পাঠানো হয় পারভেজ হোসেন ইমনকে।

টুর্নামেন্টে প্রথমবার সুযোগ পেয়ে শেখ মেহেদীকে দারুণ এক ছক্কায় ভালো কিছুর আভাস দেন। কিন্তু কাট করতে গিয়ে ফিরেছেন পরের বলেই (৭ বলে ৭)। ইমনের পর দ্রুত ফিরেছেন মুমিনুল হকও (৭ বলে ৭)।

৩১ রানে ২ উইকেট হারানো কুমিল্লার ভীত গড়ে দেয় ফাফ ডু প্লেসিস ও মাহমুদুল হাসান জয়ের ৪৯ রানের জুটি। ২৭ বলে ৩১ রান করে জয় ফিরলেও এদিন অধিনায়কত্ব পাওয়া ডু প্লেসিস চালান তান্ডব। মাঝে মইন আলিকে (৮) হারালেও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে নিয়ে যোগ করেন ৫০ রান।

৩০ বলে ফিফটি তুলে নেওয়া ডু প্লেসিস সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে খরচ করেন মাত্র ২২ বল। ৫২ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অবশ্য টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ৫৪ বলে ১২ চার ৩ ছক্কায় ১০১ রান করে আউট হন এই প্রোটিয়া।

ডু প্লেসিস ফেরার পর কুমিল্লার স্কোরবোর্ডে বাড়তি রান যোগ করেন অঙ্কন। তার ১১ বলে ২০ রানের অপরাজিত ইনিংসে স্কোরবোর্ডে ৫ উইকেটে ১৮২ রান।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সিলেটকে হারিয়ে প্লে অফ নিশ্চিত করল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স

Read Next

মুস্তাফিজের নতুন ঠিকানায় সঙ্গী ওয়ার্নার, মার্শ

Total
15
Share