মইন আলির দিনে খুলনাকে উড়িয়ে দিল কুমিল্লা

received 230136409333718
Vinkmag ad

মিরপুরে দিনের ম্যাচেও রান হওয়া সম্ভব এমন কিছু প্রমাণ করলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এবারের বিপিএলে নিজেদের ৬ষ্ঠ জয় তোলার পথে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ছক্কা বৃষ্টি নামিয়েছেন মইন আলি। সেঞ্চুরি নয় এমন ইনিংসে বিপিএল ইতিহাসের রেকর্ড ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে এনে দেন বড় সংগ্রহ। তার অমন ইনিংসের পর বোলারদের কল্যাণে ৬৫ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

কুমিল্লার শুরুর ভীত গড়ে দিয়ে যান অবশ্য লিটন দাস। তার ১৭ বলে ৪১ রানের ক্যামিও ইনিংসের পর মইনের ব্যাটে ৩৫ বলে ৭৫ রান, ছিলো ৯ ছক্কা। সাথে ফাফ ডু প্লেসিসের যোগ্য সঙ্গ দেওয়া ৩৮ রানের ইনিংস। তাতে কুমিল্লা পায় ৬ উইকেটে ১৮৮ রানের পুঁজি। জবাবে শুরু থেকে ধুঁকতে থাকা খুলনা টাইগার্স করতে পারেনি ১২৩ রানের বেশি।

এই জয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৯ ম্যাচে ৬ জয়ে উঠে গেলো পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। যেখানে ৯ ম্যাচে ৫ম হারে প্লে অফের পথটা কঠিন হয়ে গেলো খুলনা টাইগার্সের জন্য।

১৮৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় যেমন শুরু প্রয়োজন ছিলো তেমনটা পায়নি খুলনা টাইগার্স। পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ৪১। আন্দ্রে ফ্লেচার (৭ বলে ১৬), রনি তালুকদার (০) ও ইয়াসির আলিকে (১৯ বলে ১৮) হারানো খুলনা পথ খুঁজে পেতে পারতো অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে। আবু হায়াদার রনির বলে তাকে ফিরতে হয় খালি হাতে, ৪ উইকেটে ৪৪ রানে পরিণত হয় খুলনা টাইগার্স।

সেখান থেকে আর ম্যাচে ফেরা হয়নি মুশফিকদের। রনির দ্বিতীয় শিকার হয়ে সিকান্দার রাজে ফেরেন ৮ রান করে। একপাশ আগলে রেখে কিছুটা চেষ্টা করা সৌম্য সরকারও ব্যর্থ হন ইনিংস লম্বা করতে। ২৫ বলে ২২ রান করে মইন আলির বলে জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন এক্সট্রা কাভারে।

শেষ পর্যন্ত থিসারা পেরেরার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৩ বলে ২৬ রান কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। খুলনা টাইগার্সকে ১২৩ রানে আটকে দেওয়ার পথে সর্বোচ্চ ৩ উইকেটে আবু হায়দার রনির। ৪ ওভারে এই বাঁহাতি পেসার খরচ করেন ১৯ রান।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই খুলনা টাইগার্স বোলারদের উপর চড়াও হন লিটন । মাহমুদুল হাসান জয়কে নিয়ে ৪.৩ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৪৩ রান। যেখানে জয়ের অবদান ১৫ বলে ১১। নাবিল সামাদের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই লিটনের ব্যাটে ২ চার ১ ছক্কা। খালেদ আহমেদের করা পরের ওভারে আবারও ২ চার ১ ছক্কা।

নাবিলের বলে জয় ফিরলেও লিটন ছিলেন ছন্দে। যদিও রুয়েল মিয়ার বলে ব্যক্তিগত ৩২ রানে তার সহজ ক্যাচ ছাড়েন খালেদ। জীবন পেয়ে অবশ্য ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। থিসারা পেরেরার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ১৭ বলে ৪ চার, ৩ ছক্কায় ৪১ রান করে।

লিটনের পর অধিনায়ক ইমরুল কায়েসও (৮ বলে ৫) ফেরেন দ্রুত। ৭১ রানে ৩ উইকেট হারানো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ইনিংসের বাকি অংশজুড়ে মইন আলি তান্ডব।

ফাফ ডু প্লেসিসকে নিয়ে ৪৬ বলের জুটিতে যোগ করেন ৮৩ রান। ৩৬ বলে ৩৮ রান করা ডু প্লেসিস আউট হলে ভাঙে জুটি। ততক্ষণে মাত্র ২৩ বল খেলে ফিফটি তুলে নেন মইন। নিজের খেলা ৯ম বলে হাঁকান প্রথম বাউন্ডারি। শেখ মেহেদী হাসানের করা ইনিংসের ১৩তম ওভারে হাঁকান ৩ ছক্কা।

এরপর প্রায় প্রতি ওভারেই হাঁকিয়েছেন ছক্কা। ১৭তম ওভারে সৌম্য সরকারকে হাঁকান আরও ৩ ছক্কা। ১৯তম ওভারে আউট হওয়ার আগের বলেও হাঁকিয়েছেন ছক্কা। ৩৫ বলে ১ চারের বিপরীতে ৯ ছক্কায় তার ব্যাটে ৭৫ রান।

বিপিএলে সেঞ্চুরি না করা ইনিংসে এটিই যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড। এর আগে ক্রিস গেইল, সাব্বির রহমান, এভিন লুইস, ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম, নিকোলাস পুরান ও দাসুন শানাকা সেঞ্চুরি করেননি এমন ইনিংসে ৯ ছক্কা হাঁকিয়েছেন।

মইনের এমন ইনিংসেই ৬ উইকেটে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের স্কোরবোর্ডে ১৮৮ রান। মাহিদুল ইসলাম অঙকন অপরাজিত ছিলেন ৬ বলে ১২ রানে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

এবার আইপিএল নিলামে থাকছেন না প্রীতি জিনতা

Read Next

পিএসএলের উদাহরণ টেনে বিপিএলের উন্নতির জায়গা দেখালেন সালাউদ্দিন

Total
1
Share