স্নায়ুযুদ্ধ জয়ের গল্প শোনালেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী

স্নায়ুযুদ্ধ জয়ের গল্প শোনালেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী
Vinkmag ad

অন্যদের ভালো করায় সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে টুর্নামেন্টের মাঝপথ পর্যন্ত। সুযোগ পেয়ে অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক, চলতি বিপিএলে পরের ম্যাচগুলোতেও ছিলেন ধারবাহিক। আর গতকাল (৮ ফেব্রুয়ারি) হারের দ্বারপ্রান্তে থাকা ম্যাচই শেষ ওভারের নাটকীয়তায় জেতালেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে। যে জয়ে দলের প্লে-অফ খেলার স্বপ্ন টিকে আছে। পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী জানালেন কীভাবে শেষ ওভারের স্নায়ু যুদ্ধে সফল হয়েছেন।

১৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে হাতে ৬ উইকেট নিয়ে শেষ ২ ওভারে মিনিস্টার ঢাকার প্রয়োজন ছিলো ২০ রান। ততক্ষণে ফিফটি তুলে নেওয়া সেট ব্যাটার তামিম ইকবাল ও ৯ বলে ১৬ রান করা শুভাগত হোম।

১৯তম ওভারের প্রথম বলেইশুভাগত ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। পরের বলে আউট হলেও মিনিস্টার ঢাকার জন্য ১০ বলে ১৪ রানের সমীকরণ সহজই ছিলো, যেখানে ক্রিজে ছিলেন তামিম ইকবাল। শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সমীকরন দাঁড় করার ৬ বলে ৯।

তবে মৃত্যুঞ্জয়ের করা শেষ ওভারেই যত বিপত্তি, স্ট্রাইক পান কায়েস আহমেদ, বোল্ড হন প্রথম বলেই। ৫ বলে প্রয়োজন ৯ রান।

ক্রিজে আসা নতুন ব্যাটার নাইম শেখ পরের দুই বলই দেন ডট। পরের বলেই ওয়াইড, ৩ বলে প্রয়োজন ৮। চতুর্থ বৈধ বলে নাইম নেন সিঙ্গেল, ২ বলে সমীকরণ দাঁড়ায় ৭। পঞ্চম বলে তামিম নেন সিঙ্গেল, শেষ বলে সমীকরণ ৬ রানের।

কিন্তু নো বল করে বসেন মৃত্যুঞ্জয়, যদিও ঐ বল থেকে কোনো রান নিতে পারেননি নাইম, বরং ফিরতি ক্যাচ দেন বোলারকেই। শেষ বলে ছক্কা মারলে ম্যাচ জেতা যায়, চার মারলে টাই। নাইম নিতে পেরেছেন মাত্র সিঙ্গেল।

চাপের মুখে কীভাবে মৃত্যুঞ্জয় পেরেছন অমন দুর্দান্ত বল করতে? ওভারের আগে কি ছিলো তার পরিকল্পনা?

এক ভিডিও বার্তায় সেটিই জানালেন, ‘যখন দেখি শেষ ওভারে ৯ রান লাগে তখন আমার পরিকল্পনা ছিলো এমনভাবে বোলিং করবো যেনো ডট বলটা বেশি হয়। আর খেলাটা যেনো লাস্ট ২-৩ বল পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারি। কারণ কম রানের ক্ষেত্রে হয় কি আমি যদি আগেই রান দিয়ে দেই, খেলাটা আর থাকবে না।’

‘যখন শেষের দিকে নিয়ে যাবো তখন তাদের চাপে রাখতে পারবো। তাদের উপর দেওয়া চাপটা কাজে লাগিয়ে নিজে ভালো কিছু করতে পারবো। আর শেষে ওটাই কাজে দিয়েছে।’

নাইমকে পর পর দুই বলে ডট খেলতে বাধ্য করে মৃত্যুঞ্জয় করেছেন উদয়াপন। স্বাভাবিকভাবে উইকেট নেওয়ার পর এমন উদযাপন দেখা গেলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় গতকালকের ঐ ম্যাচে ডট বলই ছিলো উইকেটের চেয়ে বেশি কিছু।

উদয়াপনের ব্যাখ্যায় তরুণ এই বাঁহাতি পেসার বলেন, ‘কারণ কিছু কিছু সময় উইকেটের চেয়ে ডট বল গুরুত্বপূর্ণ থাকে। আমার ক্ষেত্রে ওটাই হয়েছে। আমার ক্ষেত্রে উইকেটের চেয়ে ডট বল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। আমি যেসময় উদয়াপনটা করেছি সে সময় আনন্দটা লাগছিলো এ কারণে যে আমি আমার দলের প্রয়োজনে যেটা চাচ্ছিলাম সেটাই হচ্ছিলো।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

আপিল করে শাস্তি কমল রবি বোপারার

Read Next

খুলনাকে হারিয়ে স্বপ্ন বাচিয়ে রাখল ঢাকা

Total
11
Share