নাইমের ৮ ও মাশরাফির ৪ নম্বরে নামার ব্যাখ্যা যা বললেন কোচ

নাইমের ৮ ও মাশরাফির ৪ নম্বরে নামার ব্যাখ্যা যা বললেন কোচ
Vinkmag ad

মূলত ওপেনার হলেও চলতি বিপিএলে মিনিস্টার ঢাকার হয়ে নানা ব্যাটিং পজিশনে দেখা যাচ্ছে নাইম শেখকে। ৩ নম্বর থেকে ৮ নম্বর পজিশনে খেলতে হয়েছে এই বাঁহাতিকে, কিন্তু কোনো পজিশনেই পাননি সাফল্য। তার ব্যাটিং অর্ডার আরেক দফা আলোচনায় এসেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে জেতা ম্যাচে হারের পর। যেখানে তাকে খেলতে হয়েছে ৮ নম্বরে, সুযোগ পেয়েও পারেননি দল জেতাতে। ম্যাচ শেষে তার ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন কোচ মিজানুর রহমান বাবুল।

এমনিতেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তামিম ইকবাল না খেলায় সর্বশেষ কয়েক মাসে নাইম ছিলেন নিয়মিত ওপেনার। কিন্তু বিপিএলে মিনিস্টার ঢাকায় এসেই হারাতে হলো ওপেনিং স্লট। মূলত তামিম ইকবালের সাথে আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শেহজাদ নিয়মিত হওয়াতে নাইমকে নামতে হয়েছে নিচের দিকে।

নিজের খেলা প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচে ৩ নম্বরে ব্যাট করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ৪, ৬ষ্ঠ ম্যাচে ৭ ও ৭ম ম্যাচে ৮ নম্বরে ব্যাট করেন। ব্যাট করতে হয়নি ৫ম ম্যাচে। আজ (৮ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ৫ ম্যাচে রান মাত্র ৪২, দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন মাত্র একবার।

তবে সব ছাপিয়ে আজকের ম্যাচে তার ব্যাটিং অর্ডারই আলোচনায়, খেলেছেন ৮ নম্বরে। যেখানে মাশরাফি বিন মর্তুজাকেও নামানো হয়েছে ৪ নম্বরে। তামিম ইকবালের ব্যাটে ভর করে বাকিদের আসা যাওয়ার মিছিলের ভীড়েও জয়ের পথেই ছিলো মিনিস্টার ঢাকা।

শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ২০, শেষ ওভারে যা দাঁড়ায় ৯ রানে। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর করা শেষ ওভারে মিনিস্টার ঢাকা নিতে পারেনি ৫ রানের বেশি। প্রথম বলে কাইস আহমেদ আউট হন, ৫ বলে প্রয়োজন ৯ রান।

ক্রিজে আসা নতুন ব্যাটার নাইম পরের দুই বলই দেন ডট। পরের বলেই ওয়াইড, ৩ বলে প্রয়োজন ৮। চতুর্থ বৈধ বলে নাইম নেন সিঙ্গেল, ২ বলে সমীকরণ দাঁড়ায় ৭। পঞ্চম বলে তামিম নেন সিঙ্গেল, শেষ বলে সমীকরণ ৬ রানের।

কিন্তু নো বল করে বসেন মৃত্যুঞ্জয়, যদিও ঐ বল থেকে কোনো রান নিতে পারেননি নাইম, বরং ফিরতি ক্যাচ দেন বোলারকেই। শেষ বলে ছক্কা মারলে ম্যাচ জেতা যায়, চার মারলে টাই। নাইম নিতে পেরেছেন মাত্র সিঙ্গেল। তামিমের ৭৩ রানের ইনিংসের পরও দল হেরেছে ৩ রানে। ম্যাচ শেষে কোচ মিজানুর রহমান বাবুল জানালেন মাশরাফির ৪ ও নাইমের ৮ নম্বরে নামার কারণ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যাটিং অর্ডার এমনই ছিলো সবসময়। হয়তো প্রয়োজন হয়নি দেখে দেখেননি। নতুন ইনক্লুশন শুধু মাশরাফি, মাশরাফি ৬ ওভারে সামনে থেকে এসে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। এই সুবিধাটা নেওয়ার জন্যই মাশরাফি উপরে এসেছে, এছাড়া সব একরকমই ছিলো। ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনের একটা ব্যাপার ছিলো।’

‘নাইম ওপেনার হলেও এসে ৫ বল খেলেছে, প্রথম ২ বল সে কানেক্ট করতে পারেনি, পরেরটা ফুলটস ছিলো। আমি বলবো এটা আমাদের ভাগ্যে ছিলো না, ওই ফুলটস বলটা এদিক ওদিক গেলেও তামিম স্ট্রাইক পেতো। সেটা সরাসরি বোলারের হাতে গেলো। ভাগ্যটা আমাদের দিকে ছিলো না বলে ম্যাচের ফল আমাদের অনুকূলে আসেনি।’

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই নাইমের এলোমেলো ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন বাবুল, ‘অবশ্যই নাইম ওপেনিং ব্যাটসম্যান। আমাদের স্লটে এ রকম থাকে যে তামিম এবং(মোহাম্মদ শাহজাদ)। মানে জিনিসটা বাঁহাতি ডানহাতির কম্বিনেশনের একটা ব্যাপার আসে। তামিম ভালো খেলছে, আমাদের একটা পরিকল্পনা থাকে যে তামিম যদি দ্রুত আউট হয়ে যায় নাইম শেখ যাবে। নাইম আমাদের তিন নম্বর স্লটেই থাকে।’

‘কিন্তু মূলত ওরা ভালো খেলতে থাকে, ওভারটা যখন পেছনে যেতে থাকে, তখন হয়তো স্কোরবোর্ডটা সচল রাখার জন্য… আর আমাদের ওরকম আরও ব্যাটসম্যান আছে যারা ১০-১২ করে নেওয়ার সামর্থ্য রাখে। পাশাপাশি বাঁহাতি-ডানহাতি ব্যাপার থাকে, সেজন্য হয়তো নাইমের ব্যাটিং অর্ডারটা ওখানে চলে যাচ্ছে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ইমরান খানের সঙ্গে বসে গল্পে মেতে স্যান্ডউইচ খেতে চান বোর্ডার

Read Next

আরও এক সাকিবময় ম্যাচে ফরচুন বরিশালের জয়

Total
20
Share