সৌম্য’র অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সিলেটকে হারাল খুলনা

সৌম্য'র অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সিলেটকে হারাল খুলনা
Vinkmag ad

ব্যাটে-বলে সৌম্য সরকারের স্মৃতির পাতায় টুকে রাখার মতো একটি দিন। অধিনায়ক পরিবর্তন করে ভাগ্য বদলের প্রয়াস সিলেট সানরাইজার্সের। অধিনায়কত্ব পাওয়া ম্যাচে বল টেম্পারিং সন্দেহে অভিযুক্ত রবি বোপারা, মাঠেই পেনাল্টিতে দিয়েছেন রান জরিমানা। শেষ ওভারে টানা ৩ ছক্কায় আলাউদ্দিন বাবুর অসম্ভবকে সম্ভব করার উত্তেজনা ছড়ানো। এতো সব টুকরো টুকরো গল্পে মোড়ানো ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ১৫ রানের পরাজয়ই ভাগ্যে জুটেছে সিলেট সানরাইজার্সের।

আগে ব্যাট করা খুলনা টাইগার্স সৌম্য সরকারের অপরাজিত ৮২ ও মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ৬২ রানে ভর করে ৩ উইকেটে ১৮২ রানের পুঁজি পায়। জবাবে এনামুল হক বিজয় (৪৭), কলিন ইনগ্রাম (৩৭), মোসাদ্দেক হোসেনের (৩৯*) থিতু হওয়া কিছু ইনিংসের সাথে আলাউদ্দিন বাবুর শেষের ক্যামিওতেও (৭ বলে ২৫*) জিততে পারেনি সিলেট সানরাইজার্স।

এই হারে ৭ ম্যাচে ১ জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতেই আছে সিলেট সানরাইজার্স। অন্যদিকে এই ম্যাচ জিতে ৭ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে মিনিস্টার ঢাকাকে পেছনে ফেলে ৩ নম্বরে উঠে এলো খুলনা টাইগার্স।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দারুণ শুরু পায় সিলেট সানরাইজার্স। উদ্বোধনী জুটি পাওয়ার প্লেতে তোলে ৪১ রান। যেখানে লেন্ডল সিমন্সের অবদান মাত্র ১০ রান, নাবিল সামাদের বলে আউট হলে ভাঙে জুটি।

সিমন্সের বিদায়ের পরও শুরুর মতো আক্রমণাত্মক এনামুল হক বিজয়। ৩৩ বলে সমান ৩ টি করে চার, ছক্কায় তার ব্যাটে ৪৭ রান। দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে ফিরেছেন থিসারা পেরেরার বলে।

৩ রানের ব্যবধানে ফেরেন মোহাম্মদ মিঠুন (২), রবি বোপারাও (০)। ৭৩ রানে ৪ উইকেট হারানো সিলেট সানরাইজার্সের জন্য ম্যাচ ততক্ষণে কঠিন হয়ে যায়। কলিন ইনগ্রাম ও মোসাদ্দেক হোসেনের ৫৮ রানের জুটি কিছুটা স্বস্তি দিলেও চূড়ান্ত লাভ হয়নি।

২৮ বলে ২ ছক্কায় ইনগ্রাম করেছেন ৩৭ রান। ব্যর্থ হন অলক কপালিও (২), পরিণত হন ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সৌম্যের দ্বিতীয় শিকারে। এরপর খুলনা টাইগার্সের দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়া ম্যাচে একটু নাটকীয়তা জুড়ে দেন আলাউদ্দিন বাবু।

শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৩৬ রান, কামরুল ইসলাম রাব্বির করা প্রথম ৩ বলেই ছক্কা হাঁকান বাবু। তবে চতুর্থ বলে আর পেরে উঠেননি, ওভারে আসেনি আর কোনো বাউন্ডারি। ১৬৭ রানে থেমে হেরেছে ১৫ রানে, এই হারে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা সিলেটের প্লে-অফ স্বপ্ন ফিকে হওয়ার পথে।

মোসাদ্দেক অপরাজিত ছিলেন ২২ বলে ৩৯ রানে, বাবু ৭ বলে ২৫ রানে। খুলনা টাইগার্সের হয়ে সর্বোচ্চ ২ টি করে উইকেটে সৌম্য ও থিসারার।

আগে ব্যাট করতে নামা খুলনা টাইগার্সের শুরুটা যেমন বাজে হয়েছে শেষটা তার চেয়েও দারুণ হয়েছে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট আন্দ্রে ফ্লেচার (১), খালি হাতে ফেরেন শেখ মেহেদী হাসান (০)।

সেখান থেকে ইয়াসির আলি রাব্বিকে নিয়ে ৪৫ রানের জুটি সৌম্য সরকারের। সিলেট সানরাইজার্স বোলারদের সাফল্য বলতে ওটুকুই। পরের গল্পটা কেবলই সৌম্য সরকার ও মুশফিকুর রহিমের।

দুজনে মিলে অবিচ্ছেদ্য জুটিতে যোগ করেন ১৩৬ রান। যা বিপিএল ইতিহাসে চতুর্থ উইকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। আগের ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষেই ৪৩ রান করে ফর্মে ফেরার আভাস দিয়েছেন সৌম্য।

আজ যেনো শুরু করেছেন ঠিক সেখান থেকেই। ৪৩ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি, ফিফটির পর হয়েছেন আরও আক্রমণাত্মক। পরের ১৯ বলে তার নামের পাশে ৩২ রান। সিলেট সানরাইজার্স পেসার এ কে এস স্বাধীনকে ১৮ ও ২০ তম ওভারে হাঁকানো ছক্কা দুইটি ছিলো নজর কাড়া। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৬২ বলে সমান ৪ টি করে চার, ছক্কায় ৮২ রানে।

ততক্ষণে ফিফটির দেখা পেয়ে যান তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া মুশফিকুর রহিমও। সৌম্যের চেয়েও মিস্টার ডিপেন্ডেবল রান তুলেছেন দ্রুত গতিতে। ৩২ বলেই পেয়ে যান ফিফটির দেখা। শেষ ৫ ওভারে দুজনে মিলে যোগ করেন ৫৭ রান, মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ৩৮ বলে ৬ চার ২ ছক্কায় ৬২ রানে।

সিলেট দলপতি বোপারা নিজে সহ মোট ৫ জন বোলার ব্যবহার করেন, তবে স্বীকৃত বোলার নাজমুল হোসেন অপু এদিন কোনো বলই করার সুযোগ পাননি।

মাঝে ইনিংসের ১০ তম ওভারে ঘটে বিতর্কিত কান্ড। আজই মোসাদ্দেক হোসেনের পরিবর্তে অধিনায়ক করা সিলেট সানরাইজার্সের অলরাউন্ডার রবি বোপারা বলে সন্দেহজনক কিছু করেন।

বল করার আগে বাঁহাতে লুকিয়ে ডান হাত দিয়ে খোঁচানোর মতো কিছু করতে দেখা যায়, ব্যাটার মুশফিকের নজরে আসতেই জানান আম্পায়ারকে।

মাঠের আম্পায়ার সাথে সাথে বল পরিবর্তন করেন এবং পেনাল্টি হিসেবে খুলনা টাইগার্সের স্কোরবোর্ডে যোগ করে দেন ৫ রান। বল টেম্পারিং ইস্যুতে বোপারাকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়তো ম্যাচ শেষে জানা যাবে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ইংল্যান্ডের হেড কোচ কলিংউড

Read Next

সিলেটের অধিনায়ক বদলও হয়েছে সবার অগোচরে

Total
8
Share