ধোনির বিপক্ষে অভিযোগ নেই হরভজনের

হরভজন সিং
Vinkmag ad

২০২২ এর আইপিএলে (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) নতুন ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছেন ভারতের সাবেক অফ স্পিনার হরভজন সিং৷ বড় কোন ফ্র‍্যাঞ্চাইজির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তাকে এবার দেখা যাবে। কয়েক সপ্তাহ আগে ৪১ বছর বয়সী বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এ ক্রিকেটার অবসর নেন। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন ঘটনাবলি নিয়ে ক্রিকেট নেক্সট ডট কমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি।

প্রশ্নঃ ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর আপনার সফল ক্যারিয়ারে নেতৃত্বের ব্যাপারটি কি সবাই ভুলে গেছে? মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে অধিনায়কত্ব করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আপনার সাফল্যের কথা কেউ কিন্তু বলছে না।

হরভজনঃ ও হ্যা! আমার অধিনায়কত্বের অর্জন নিয়ে কেউ কিছু বলছে না। বিসিসিআইতে আমি কাউকে চিনতাম না। কেউ থাকলে তাকে দিয়ে জাতীয় দলে অধিনায়কত্বের জন্য জোর দিতাম। যদি আপনার কোন পরিচিত শক্তিশালী ব্যক্তি না থাকে, আপনি যোগ্য সম্মান পাবেন না। এ টপিক বাদ দিন। আমি জানি দলকে পরিচালনা করার মত যথেষ্ট যোগ্যতা আমার আছে। ভারতের অধিনায়ক হতে পারলে আমার জন্য দায়িত্ব পালন করা কঠিন কিছু ছিল না। অবশ্য এ নিয়ে আমি অনুতপ্ত নই। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা আমার জন্য সবসময় সম্মানের।

প্রশ্নঃ অধিনায়কত্ব না পেলেও আপনার সময়কার প্রবল প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অনেক সম্মান পেয়েছেন আপনি। আপনার সময়কার অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বিশেষ করে রিকি পন্টিং বলেছেন, তার কাছে সবচেয়ে কঠিন বোলার ছিলেন আপনি।

হরভজনঃ পন্টিং, হেডেনরা বড় মাপের খেলোয়াড়। যখন তারা আপনার খেলা নিয়ে কিছু বলে, সেটা অবশ্যই ভালো লাগে। আপনি কিছু না করলে তারা কোন প্রশংসা করবে না। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি অবশ্যই বিশেষ কিছু করেছি। আমাদের জেনারেশনে অস্ট্রেলিয়া সবচেয়ে বড় দল ছিল। সেরার পক্ষে চ্যালেঞ্জ নেওয়া ও পরীক্ষা দেওয়াটা সবসময় আকর্ষণীয় ছিল আমার কাছে।

প্রশ্নঃ ২০০৮ সালে আইপিএল শুরুর আগে আপনার সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের কথা হেইডেন অস্বীকার করেছিল। আপনি কি মনে করেন বড় খেলোয়াড়দের মধ্যে আইপিএল নরম মনোভাব এনেছে? নাকি অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা সবসময় আপনার চিরশত্রুই ছিল?

হরভজনঃ (হাসি দিয়ে) আমি জানিনা তারা আমার চিরশত্রু কীনা। তবে নিজের দেশের হয়ে জয় পাওয়ার জন্য প্রতিপক্ষের কাছে যদি আমি শত্রু থাকি, তবে তা থাকাই ভালো। ২০০ বার এমন হয়েছে। হ্যা,আইপিএলের মাধ্যমে বিভিন্ন খেলোয়াড়দের মধ্যে শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব কমে গেছে এবং আমূল পরিবর্তন এনেছে। ৪৫-৫০ দিন আমরা একসাথে থাকতাম। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয় এবং অতীতের তিক্ততা ভুলে যাই। এখনকার সময় মাঠে শুধু শত্রুতা থাকে। আমাদের খেলার দিনগুলোতে হোটেলের লবিতে অস্ট্রেলিয়ানদের সাথে আমরা কথাই বলতাম না। তখনকার সময় তুমুল বৈরিভাব ছিল আমাদের মধ্যে।

প্রশ্নঃ আপনার খেলার দিনগুলোতে বেশিরভাগ সময় অনিল কুম্বলের চেয়ে আপনাকে ঊর্ধ্বে রাখা হতো। যদিও আপনাদের মধ্যে কোন সংবেদী আলোচনা হতো কীনা, তা সম্পর্কে জানা যায়নি।

হরভজনঃ অনিল ভাইয়ের প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা। তার চেয়ে ভালো ম্যাচ জয়ী ক্রিকেটার আমি আর দেখিনি। তার সাথে একই দলে খেলাটা আমার জন্য অনেক বড় সুবিধা ছিল। যদিও বিভিন্ন সময়ে দলে তার চেয়ে আমাকে বেশি নেওয়া হতো। ২০০৩ বিশ্বকাপে এমনটি হয়েছে। যদিও তাকে এ নিয়ে খুব একটা বিচলিত দেখতাম না। সে কখনো এটা মনে করতো না, কেন আমাকে নেওয়া হচ্ছে, কেন তাকে না। আমি তার সম্পর্কে একটি কথাই বলতে চাই। একজন মহান বোলারের চেয়ে সে দশগুণ বেশি ভালো মনের মানুষ। আমার জীবনে তার অবদান অনস্বীকার্য। প্রতিটি ক্ষেত্রে সে আমাকে নির্দেশনা দিয়েছে। যখন যেটা প্রয়োজন, সেটাই আমাকে করতে বলেছে।

প্রশ্নঃ অধিনায়ক যে তার চেয়ে আপনাকে বেশি দলে নেওয়া হতো, এটা কি আপনাকে ইতস্তত অবস্থায় ফেলতো?

হরভজনঃ না, এটা আমার জন্য নতুন কিছু ছিল না। আমি যখনই সুযোগ পেতাম, অধিনায়ককে হতাশ না করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতাম। যদিও আমি কুম্বলের ধারেকাছেও নেই। আমি শুধু আমার মনসংযোগের সর্বোচ্চটাই প্রয়োগ করতাম।

প্রশ্নঃ ভারতীয় ক্রিকেটে সবসময় শচীন টেন্ডুলকার ও মাহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। তবে ভাজ্জি-কুম্বলের সম্পর্ক নিয়ে আমরা খুব কম শুনেছি। একজন ক্রিকেটার কীভাবে নিজের অহং বোধ দমিয়ে রেখে দলের প্রতি নিজের আকর্ষণ তৈরি করতে পারে?

হরভজনঃ তবে আপনি সেটাই করুন। হ্যা, প্রতিযোগিরাও ভালো বন্ধু হতে পারে। উভয়ই নিজেদের ভালোর ব্যাপারটা ভাবে। কুম্বলের সহায়তার কারণে আমার ক্যারিয়ারে বড় সাফল্য পেয়েছি। নির্দেশকের মত সে আমাকে পরিচালিত করেছে। যদি সতীর্থদের সাথে আপনার ভালো যোগাযোগ থাকে, আপনি তাহলে আপনার দলকে সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে পারবেন। আপনারা ভারতের ক্রিকেটটা কাছ থেকে দেখছেন। আমার সাথে যদি অনিল ভাইয়ের কোন ইস্যু থাকতো, আমি সফল হতে পারতাম না। সে সবসময় আমার হিরো ছিল এবং থাকবে।

প্রশ্নঃ মাহেন্দ্র সিং ধোনি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?

হরভজনঃ বেশ ভালো। আমি তো তাকে বিয়ে করছি না।

প্রশ্নঃ কিছু ক্ষেত্রে শোনা গেছে, আপনি নাকি এখনও তার কারণে বেশি দুঃখবোধ করেন?

হরভজনঃ দেখুন, প্রত্যেকে বিভিন্নভাবে এ ব্যাপারটি দেখে। ২০১২ এর বিভিন্ন পোস্টে আমি এমন কিছু দেখেছিলাম। বীরেন্দর শেওয়াগ, আমি, যুবরাজ সিং, গৌতম গম্ভীর ভারতীয় দলে খেলা চলাকালীন অবস্থায় অবসর নিতে পারতো, প্রত্যেকে তখনও আইপিএলে খেলতো। ২০১১ সালের চ্যাম্পিয়ন দলের ক্রিকেটাররা আর একসাথে খেলেনি, এটা বেশ দুঃখজনক। অল্প কিছু সংখ্যক খেলোয়াড় ২০১৫ বিশ্বকাপে খেলেছে। কেন?

প্রশ্নঃ তার মানে আপনি ধোনির কারণে বেশ বিমর্ষ?

হরভজনঃ না, একদমই না। ধোনির ব্যাপারে আমার কোন অভিযোগ নেই। বরং, সে বিগত কয়েক বছরেও আমার বেশ ভালো বন্ধু। বিসিসিআই-এর প্রতি আমার অভিযোগ আছে। আমি বিসিসিআই-কে সরকার বলি। তখনকার সময় নির্বাচকরা সঠিক বিচার করতো না খেলোয়াড়দের প্রতি। তারা দলে একতা আনতে দিতো না। যখন মহান খেলোয়াড়রা দলে থেকে পারফর্ম করছে, তখন কি দরকার ছিল তাদের বাদ দিয়ে নতুনদের নেওয়া? আমি এক্ষেত্রে নির্বাচকদের একহাত নিয়ে নিলাম। তাদের জবাবও তাদের হাতে ছিল না। তখন আমি প্রশ্ন করলাম, কেন তারা নির্বাচক হলো?

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও নেই উইলিয়ামসন

Read Next

করোনা পজিটিভ ভারতীয় চার ক্রিকেটারের, প্রথম ওয়ানডের একাদশ সাজাতে ছুটছে ঘাম

Total
1
Share