হ্যাটট্রিক যে হবে তা মাথায় ছিল না মৃত্যুঞ্জয়ের

হ্যাটট্রিক যে হবে তা মাথায় ছিল না মৃত্যুঞ্জয়ের
Vinkmag ad

প্রথম চার ম্যাচে সুযোগ পাননি, তবে পঞ্চম ম্যাচে সুযোগ পেয়ে দু হাত ভরে নিলেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এক হ্যাটট্রিকে দোদুল্যমান ম্যাচকে নিজেদের করে নিলেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের এই পেসার। ম্যাচ শেষে জানালেন হ্যাটট্রিকের কথা মাথায়ই ছিলো না।

গতকাল (২৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে চলতি বিপিএলে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে সিলেট সানরাইজার্সের মুখোমুখি হয় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। আগে ব্যাট করে ২০২ রান তুলেও স্বস্তিতে ছিলোনা দলটি।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে কলিন ইনগ্রাম (৫০) ও এনামুল হক বিজয়ের (৭৮) ব্যাটে জয়ের পথেই যে হাঁটছিল সিলেট সানরাইজার্স। ইনগ্রামের বিদায়ের পরও চেষ্টা চালিয়ে যান বিজয়।

শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন ৪৭ রান, ১৮তম ওভারের প্রথম ২ বলে এক ছক্কা, এক চারে ১০ রান হজম করেন মৃত্যুঞ্জয়। এমন পরিস্থিতিতে চাপ বোলারকে না দিয়ে নিজেই যেনো নিয়ে নিলেন বিজয়। তৃতীয় বলেই ক্যাচ দিলেন নাসুম আহমেদকে। পরের ২ বলেও মৃত্যুঞ্জয় ফেরান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (০) ও রবি বোপারাকে (১৬)।

আর তাতেই বিপিএল ইতিহাসের ৬ষ্ঠ হ্যাটট্রিকের নজির, তৃতীয় বাংলাদেশী বোলার হিসেবে এই কীর্তি মৃত্যুঞ্জয়ের। ওই ওভারেই ম্যাচ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে যায়।

১৮৬ রানে সিলেট সানরাইজার্সকে আটকে দিয়ে ৫ ম্যাচে তৃতীয় জয়ের দেখা তাদের। ম্যাচ সেরার পুরষ্কার জেতা বাঁহাতি পেসার মৃত্যুঞ্জয় সংবাদ সম্মেলনে জানান হ্যাটট্রিকের কথা তার ভাবনাতেও ছিলো না।

তিনি বলেন, ‘আসলে এই মুহূর্তের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম বলা যায়। হ্যাটট্রিকের প্রত্যাশা কখনো ছিলো না, আমার শেষদিকে ইয়র্কারগুলো…মানে দলকে জয়ের অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু যেহেতু প্রয়োগ ভালো হয়েছে, ব্যাটসম্যানের জন্য কঠিন ছিলো বলগুলো মারা এবং ভাগ্য সহায় হলো, হ্যাটট্রিকটা পেয়ে গেলাম।’

‘সত্যি বলতে হ্যাটট্রিক যে হবে আমি উইকেট পড়ার পরেও বুঝি নাই। হ্যাটট্রিক হওয়ার পরে বুঝেছি, হ্যাটট্রিক হয়েছে। আমি গেমের ভেতর এতোটাই ফোকাস ছিলাম যে আমি এটা ফিল করিনাই যে দুইটা উইকেট পড়ে গেছে টানা। কারণ প্রত্যেকটা বলেই লক্ষ্য করছি কীভাবে ডট দেওয়া যায়।’

দলের প্রথম চার ম্যাচে সুযোগ না পেলেও টিম ম্যানেজমেন্টের সমর্থন নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত তরুণ এই পেসার। মাঠে পাওয়া সতীর্থদের সমর্থন নিয়েও আলাদা করে জানালেন এই বাঁহাতি।

‘অল্প সময় বলতে যখন থেকে দলে আসছি তখন থেকেই কোচ, টিম ম্যানেজমেন্ট সহ সবাই সাপোর্টিভ ছিলো। তারা চাচ্ছিলো সুযোগ দিতে কিন্তু আমাদের পেস বোলাররা অসাধারণ করছিলো এবং তরুণ দল হিসেবে আমাদের দলটাও অসাধারণ খেলছিলো প্রথম ৩-৪ ম্যাচে। সে ক্ষেত্রে আমার জায়গাটা কঠিন ছিলো। কিন্তু আজকে সুযোগ এসেছে, তারা প্রথম থেকে যেভাবে আত্মবিশ্বাস দিয়ে আসছিলো আজকেও একইভাবে আত্মবিশ্বাস দিয়েছিলো।’

‘সব থেকে ভালো লাগার বিষয় যখন কেউ বাউন্ডারি হজম করছিলো তখন দলের প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ই সাপোর্টিভ আছে। আর আত্মবিশ্বাস দিচ্ছিলো যে সামনের বলগুলো যেনো আরও ভালোভাবে করা যায়। এসব দিক থেকে মুহূর্তগুলো অসাধারণ ছিলো।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মাশরাফিকে আদর্শ মানা মৃত্যুঞ্জয় বিপিএলকে দেখেন শেখার মঞ্চ হিসেবে

Read Next

যে ছবি দিয়ে লিনটটকে ক্যারিয়ার হাইলাইট করতে বলছেন গেইল

Total
14
Share