সিমন্সের সেঞ্চুরির জবাব সেঞ্চুরি দিয়েই দিলেন তামিম

সিমন্সের সেঞ্চুরির জবাব সেঞ্চুরি দিয়েই দিলেন তামিম
Vinkmag ad

বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্ব মাঠে গড়ানোর আগেই বাড়তি উন্মাদনা, উত্তেজনার ঝিলিক ক্রিকেটার, ভক্ত সমর্থকদের চোখে মুখে। রান বন্যা হোক কিংবা চার, ছক্কার ফুলঝুরি, বিপিএলের বিনোদন মানেই যে সাগরাপড়ের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। হতাশ করেনি সাগরিকা, চট্টগ্রাম পর্বের প্রথম দিনই উপহার দিলো দুর্দান্ত এক ম্যাচ।

সিলেট সানরাইজার্স ব্যাটার লেন্ডল সিমন্সের সেঞ্চুরির জবাবে মিনিস্টার ঢাকার তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি। আগেরদিন সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে আগামী ৬ মাসের জন্য আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে দূরে রাখার ঘোষণা দেওয়া তামিমের মুখেই টিকেছে শেষ হাসি।

বিপিএলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড গড়ে ১৭৫ তাড়া করে মিনিস্টার ঢাকা জিতেছে ৯ উইকেট ও ১৮ বল হাতে রেখে।

টস হেরে আজ (২৮ জানুয়ারি) আগে ব্যাট করা সিলেট সানরাইজার্স সিমন্সের ১১৬ রানে ভর করে পায় ৫ উইকেটে ১৭৫ রানের পুঁজি। জবাবে তামিম ইকবাল ও মোহাম্মদ শেহজাদের ১৭৩ রানের উদ্বোধনী জুটিতে মিনিস্টার ঢাকার বড় জয়। তামিম ১১১ রানে অপরাজিত থাকলেও ৫৩ রান করে জয় থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থেকে আউট হন শেহজাদ।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে তাসকিন আহমেদের করা ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই অবশ্য ফিরতে পারতেন তামিম। স্লিপে দাঁড়ানো মোহাম্মদ মিঠুনের জন্য ক্যাচটা অবশ্য কিছুটা কঠিনই ব্যাটার

জীবন পেয়েই তান্ডবের শুরু তামিমের। আলাউদ্দিন বাবুর করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারে হাঁকান ২ চার ১ ছক্কা। যেখানে ছিলো চোখ ধাঁধানো কাভার ড্রাইভ, পুল শট, লেট কাট। পরের ওভারে বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলামকে হাঁকান একটি করে চার, ছক্কা।

তাসকিনের করা পঞ্চম ওভারেও হাঁকান একটি করে চার, ছক্কা। ৬ষ্ঠ ওভারে মোসাদ্দেক হোসেনকে হাঁকান আরও তিনটি চার। আর তাতেই ২৮ বলে ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটি, পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ঢাকার স্কোরবোর্ডে ৭৪।

শুরুর এই ঝড় চলেছে নিয়মিত, সঙ্গ পান মোহাম্মদ শেহজাদের কাছ থেকেও। ৯ ওভারেই দলীয় সংগ্রহ ১০০। রান তোলার এ গতি থামার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি সিলেট সানরাইজার্সে।

সানজামুলের করা ১৪তম ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে ৯০ এর ঘরে প্রবেশ করেন তামিম। ওভারের শেষ বলে চার মেরে ৯৪ তে পৌঁছান বাঁহাতি এই ব্যাটার। তামিমকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া শেহজাদ ফিফটি তুলে নেন ৩৪ বলে।

১৭তম ওভারের তৃতীয় বলে লং অফ দিয়ে চার মেরে ৬১ বলে তামিম ছুঁয়েছেন সেঞ্চুরি। যা এবারের বিপিএলের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি, বিপিএলে তামিমেরও এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। পরের বলে হাঁকান দারুণ এক ছক্কা। জয় যখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা তখনই তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ৩৯ বলে ৭ চার ১ ছক্কায় ৫৩ রান করে আউট হন শেহজাদ।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

তাতে ভাঙে তামিমের সাথে ১৭৩ রানের উদ্বোধনী জুটি। যা ২০১৩ সালে খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের শাহরীয়ার নাফিস ও লু ভিনসেন্টের ১৯৭ রানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সবমিলিয়ে বিপিএলের পঞ্চম সর্বোচ্চ রানের জুটি তামিম-শেহজাদের।

জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারতে তামিম এক বলের বেশি সময় নেননি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৬৪ বলে ১৭ চার ৪ ছক্কায় ১১১ রানে।

আগে ব্যাট করা সিলেট সানরাইজার্স ইনিংসের পুরোটা জুড়েই সিমন্স। দলীয় ১৭৫ রানের ১১৬ এসেছে তার ব্যাটে। যেখানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এনামুল হক বিজয়ের ১৮ রান।

পাওয়ার প্লেতে সিলেট সানরাইজার্সের স্কোরবোর্ডে ১ উইকেটে ৫০। যেখানে সিমন্সেরই ২৯, বিজয় আউট হন ১৮ রান করে। বিজয়ের পর দ্রুত ফেরেন মিঠুন (৬), কলিন ইনগ্রাম (০)।

৬৫ রানে ৩ উইকেট হারানো সিলেট সানরাইজার্সকে একাই টেনে নেন সিমন্স। চতুর্থ উইকেট জুটিতে রবি বোপারার সাথে ৬৩ রানের জুটি গড়েন। যেখানে নিজের ভুলে রান আউট হওয়া বোপারার অবদান ১৩। ১১তম ওভারে আন্দ্রে রাসেলকে চার মেরে ৩৪ বলে সিমন্স ছুঁয়েছেন ফিফটি। ওই ওভারে হাঁকান ২ চার ১ ছক্কা।

এরপর আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত সিমন্স উইকেটের চারপাশেই খেলেছেন শট। ১৭তম ওভারে রুবেল হোসেনকে চার মেরে ৯০ এর ঘরে ঢুকেন সিমন্স। এবাদত হোসেনের করা পরের ওভারে টানা দুই চারে ৯৩ থেকে পৌঁছান সেঞ্চুরিতে।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

এটি তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। এটিই এবারের বিপিএলে প্রথম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত সিমন্স থেমেছেন ৬৫ বলে ১৪ চার ৫ ছক্কায় ১১৬ রান করে আন্দ্রে রাসেলের বলে তামিম ইকবালকে ক্যাচ দিয়ে।

শেষদিকে অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেনের বব্যাটে ৮ বলে অপরাজিত ১৩ রানে ৫ উইকেটে ১৭৫ রান পর্যন্ত যেতে পারে সিলেট সানরাইজার্স।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

সিলেট সানরাইজার্স ১৭৫/৫ (২০), সিমন্স ১১৬, বিজয় ১৮, মিঠুন ৬, ইনগ্রাম ০, বোপারা ১৩, বাবু ২*; মাশরাফি ৪-০-২৯-১, রাসেল ৩-০-৪৫-১, এবাদত ৪-০-২৯-১, কায়েস ৪-০-২৬-১

মিনিস্টার ঢাকা ১৭৭/১ (১৭), তামিম ১১১*, শেহজাদ ৫৩, ইমরান ০*; বাবু ২-০-৩২-১

ফলাফলঃ মিনিস্টার ঢাকা ৯ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ তামিম ইকবাল (মিনিস্টার ঢাকা)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

চলতি বিপিএলে প্রথম সেঞ্চুরি সিমন্সের ব্যাটে

Read Next

নারীদের বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের স্কোয়াডে জাহানারা

Total
1
Share