মুশফিকের ব্যাটে রান, হেসেখেলে জিতল খুলনা টাইগার্স

মুশফিকের ব্যাটে রান, হেসেখেলে জিতল খুলনা টাইগার্স
Vinkmag ad

বর্ণিল সব চেয়ারে সেজেছে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের গ্যালারি। বিপিএলের ঢাকা পর্ব শেষে চট্টগ্রামে রান বন্যার প্রত্যশা ছিলো ক্রিকেটার, ভক্ত সমর্থকদের। তবে প্রথম ম্যাচে খুব বেশি রান দেখা না গেলেও অন্তত ঢাকা পর্বের তুলনায় ভালো কিছুর আভাস মিলছে। যে ম্যাচে ঘরের মাঠে হারতে হলো চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে। ৬ উইকেটের জয়ে চট্টগ্রাম পর্ব শুরু করলো খুলনা টাইগার্স।

আফিফ হোসেনের ৪৪ রানের সাথে উইল জ্যাকসের ২৮ ও নাইম ইসলামের অপরাজিত ২৫ রান। আর তাতে ৮ উইকেটে ১৪৩ রানের পুঁজি চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের। জবাবে আন্দ্রে ফ্লেচারের ৫৮ রানের সাথে মুশফিকু রহিমের অপরাজিত ৪৪ ও সেকুগে প্রসন্নের ২৩ রানের ক্যামিওতে ৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় পেলো খুলনা টাইগার্স।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ওপেনার সৌম্য সরকারকে হারায় খুলনা টাইগার্স। করোনা পজিটিভ হওয়ায় এর আগে টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচ না খেলা বাঁহাতি এই ব্যাতার ফিরেছেন ১ রান করে।

এরপর রনি তালুকদারকে (১৮ বলে ১৭) নিয়ে ৫০ রানের জুটি গড়েন আগের ম্যাচে একই প্রতিপক্ষের পেসার রেজাউর রহমান রেজার বাউন্সারে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়া আন্দ্রে ফ্লেচার।

নাসুম আহমেদের বলে উইল জ্যাকসকে ক্যাচ দেন রনি, এর আগের বলে অবশ্য এলবিডব্লিউর হাত থেকে রেহাই পেয়েছিলেন রিভিউ নিয়ে। রনির বিদায়ের পর অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে জয়ের পথটা মসৃণ রাখেন ফ্লেচার। যে পথে নিজে ৪২ বলে তুলে নেন ফিফটি।

যোগ্য সঙ্গ দেওয়া মুশফিক ১৪তম ওভারে রাজার স্লট জোনে পাওয়া বলকে ফ্লিক করে দারুণ এক ছক্কা হাঁকান, একই ওভারে এসেছে একটি চারও। তবে পরের ওভারেই ফ্লেচারকে (৪৭ বলে ৫৮) ফেরান মিরাজ। ভাঙে মুশফিকের সাথে ৪৬ রানের জুটি।

সেখান থেকে ৪৫ রানের জুটিতে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়ার দিকে এগোচ্ছিলেন মুশফিকুর রহিম ও সেকুগে প্রসন্ন। তবে দলকে জয় থেকে মাত্র ১ রান দূরে রেখে ১৫ বলে ১ চার ২ ছক্কায় ২৩ রান করে ফেরেন প্রসন্ন। তবে জয়সূচক রান সহ ৩০ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ৪৪ রানে।

টস হেরে আগে ব্যট করতে নামা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ওপেনার কেনার লুইসকে প্রথম ওভারেই ভড়কে দেন খুলনা টাইগার্স পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি। গুড লেংথে ফেলা ডেলিভারি খানিক আউট সুইং হয়ে বেশ অস্বস্তি তৈরি করে লুইসের জন্য।

এলবিডব্লিউ, কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদনও হয় দুইবার। তবে লুইস (৫ বলে ১ রান) ফিরেছেন পরের ওভারের প্রথম বলেই। বাঁহাতি স্পিনার নাবিল সামাদের বলে কাভারে যেনো ক্যাচ অনুশীলন করালেন।

তার বিদায়ের পর আফিফ হোসেন ও উইলস জ্যাকস মিলে জুটিতে যোগ করেন ৫৭ রান। দুজনেই ছিলেন সাবলীল, সামনের পায়ের দারুণ ব্যবহারে নিয়মিত বাউন্ডারি হাঁকান আফিফ। ২৩ বলে ১৮ রান করে থিসারা পেরেরার বলে জ্যাকস বোল্ড হলে ভাঙে জুটি।

এরপর আফিফ এক পাশ আগলে রাখার চেষ্টা করলেও অন্য প্রান্তে ছিলো আসা-যাওয়ার মিছিল। সাব্বির রহমান (৪), মেহেদী হাসান মিরাজ (৬), শামীম পাটোয়ারীর (২) আরেক দফা ব্যর্থ হওয়ার দিনে রান পাননি ফর্মে থাকা বেনি হাওয়েলও (৫)।

৩৭ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৪৪ রানে থামতে হয় আফিফকেও। ফরহাদ রেজার বলে উড়িতে মারতে গিয়ে লং অফে ধরা পড়েন শেখ মেহেদীর হাতে। ৯৯ রানে ৬ উইকেট হারানো চট্টগ্রামকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন ৭ নম্বরে নামা নাইম ইসলাম। ২ চার ১ ছক্কায় তার ব্যাটে ১৯ বলে অপরাজিত ২৫ রান।

কামরুল ইসলাম রাব্বির করা শেষ ওভারে ১৭ রান না এলে আরও বাজে পরিস্থিতিতে পড়তে হতো চট্টগ্রামকে। ৪ ওভারে ১৮ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে খুলনা টাইগার্সের সেরা বোলার থিসারা পেরেরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ১৪৩/৮ (২০), লুইস ১, জ্যাকস ২৮, আফিফ ৪৪, সাব্বির ৪, মিরাজ ৬, হাওয়েল ৫, নাইম ২৫*, শামীম ২, রাজা ৭, শরিফুল ১২*; রাব্বি ৪-০-৪১-১, নাবিল ২-০-১৪-১, মেহেদী ৪-০-২৭-১, প্রসন্ন ৩-০-২৪-১, পেরেরা ৪-০-১৮-৩, ফরহাদ ৩-০-১৬-১

খুলনা টাইগার্স ১৪৪/৪ (১৮.৫), ফ্লেচার ৫৮, সৌম্য ১, রনি ১৭, মুশফিক ৪৪*, প্রসন্ন ২৩, পেরেরা ০*; মিরাজ ৩.৫-০-২৪-২, শরিফুল ৩-০-৩২-১, নাসুম ৪-০-২৬-১

ফলাফলঃ খুলনা টাইগার্স ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ আন্দ্রে ফ্লেচার (খুলনা টাইগার্স)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

হেইন্সের নির্বাচিত প্রথম স্কোয়াডেই ফিরলেন রোচ, এসেছে ৬ পরিবর্তন

Read Next

ভারতের শক্তিমত্তা সম্পর্কে জানা রাকিবুলদের নজর ভয়ডরহীন ক্রিকেটে

Total
17
Share