টি-টোয়েন্টি ইস্যু, নিজের স্টেটমেন্টে যা বললেন তামিম ইকবাল

টি-টোয়েন্টি ইস্যু, নিজের স্টেটমেন্টে যা বললেন তামিম ইকবাল
Vinkmag ad

বেশ কিছুদিন ধরেই ক্রিকেট পাড়া সরগরম তামিম ইকবাল ইস্যুতে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিনি অবসর নিচ্ছেন কি নিচ্ছেন না এই নিয়ে আলোচনা ছিল তুঙ্গে। সেই আলোচনায় আপাতত ইতি টানলেন তামিম ইকবাল। 

মিনিস্টার ঢাকার হয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) ২০২২ খেলতে থাকা তামিম ইকবাল চট্টগ্রামে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। 

তামিম ইকবালের পূর্নাঙ্গ স্টেটমেন্ট- 

‘গেল কয়েকদিন ধরে তো এটা নিয়ে আলোচনা চলছিল যে টি-টোয়েন্টিতে আমার ভবিষ্যত কি হবে, বা আমি কি সিদ্ধান্ত নিবো। আমার সাথে শেষ কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ভাবে অনেক জায়গায়ই মিটিং হচ্ছিল। মিটিং হয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির (নাজমুল হাসান পাপন) সঙ্গে, জালাল ভাইয়ের (ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস) সঙ্গে, কাজী ইনাম ভাইয়ের সঙ্গে (বিসিবি পরিচালক)। একটা জায়গায় ছিলাম যে ওনারা চাচ্ছেন যে আমি যেনো টি-টোয়েন্টি টা চালিয়ে যাই, অন্তত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। আমার ভার্সনটা একটু অন্যরকম ছিল।’

‘সবার সঙ্গে আলোচনা করে বেস্ট পসিবল যে সিদ্ধান্ত এসেছে যেটা আপনাদের আমি বলতে পারি যে আগামী ৬ মাস আমি টি-টোয়েন্টি (আন্তর্জাতিক) ক্রিকেট কন্সিডার করছি না। এই ৬ মাসে আমার ফোকাস পুরোপুরি টেস্ট ক্রিকেট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে থাকবে। আমাদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ আছে, ২০২৩ বিশ্বকাপ আছে, এগুলোর প্রস্তুতি আছে। তো পুরোপুরিভাবে আমার ফোকাস থাকবে এই দুই ফরম্যাটে।’

‘টি-টোয়েন্টির ব্যাপার টা হল, ৬ মাস আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ে কিছু ভাবব না। আর আশা এটাই করব এই ৬ মাসে যে ইয়াং ছেলেরা খেলবে, বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলবে এরা এতই ভালো খেলবে যে আমার আর দরকার পড়বে না। আল্লাহ না করুক যদি এমন হয় ৬ মাস পর ক্রিকেট বোর্ড মনে করে আমার দরকার আছে ওয়ার্ল্ড কাপের আগে, সাথে আমিও যদি ঐসময় রেডি থাকি তখন এটা নিয়ে আমরা আলোচনা ঐসময় করব। নেক্সট ৬ মাস আমি টি-টোয়েন্টি নিয়ে কিছুই ভাবছি না। আবার বলছি এই সময়ে আমার পজিশনে যারাই খেলবে আশা করি তারা এত ভালো করবে যে আমার দরকার পড়বে না।’

‘আমি অসংখ্য ধন্যবাদ দিতে চাই, জালাল ভাইকে স্পেশালি। উনি আমার সঙ্গে বিভিন্ন ভাবে কয়েকবার বসেছেন, কয়েকবার শুনেছেন আমার ভার্সনটা কি। তাদের কি ভাষ্য ছিল সেটাও শুনেছি। প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে চাই, তার সঙ্গে দুই দিন আগেও কথা হয়েছে, আজও কথা হয়েছে। উনি ওনার কথা টা বলেছেন, আমি আমারটা শেয়ার করেছি। কাজী ইনামের কথা বলতে হয় কারণ উনিও আমার এই ডিসকাশনে ছিলেন। তার সাথেও আমার আলোচনা হয়েছে। তো আমার কাছে মনে হয় আলোচনা হবার পর বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বেস্ট আউটকাম যেটা সেই সিদ্ধান্তই আমি নিয়েছি।’

‘মিডিয়াতে তো অনেক কথা হয়, মান-অভিমান এমন অনেক কথাই হয়। আমি সবসময় একটা কথা বলি যে, বাংলাদেশ ক্রিকেটকে যে আমি প্রতিনিধিত্ব করি এর চেয়ে ভালো ফিলিং আমার জন্য কেনো যেকারো জন্য আর হইতে পারে না। মান-অভিমানের জায়গা অতটুক না। আমি যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছি এটা পিওরলি, পিওরলি অন ক্রিকেট বেসিস। এছাড়া আর কোন কিছু না। আমি যেটা বললাম আরেকবার রিপিট করি- ৬ মাস পর আমি আশা করব আমাকে আর দরকার পড়বে না, আমাদের দল অসম্ভব ভালো খেলবে। যদি এমন কোন সিচুয়েশন আসে, বড় কোন ইভেন্টের আগে টিম-ম্যানেজমেন্ট, বোর্ড, আমি নিজেও যদি মনে করি আমার দরকার আছে দলে তাহলে অবশ্যই রিকন্সিডার করব। তবে এই মুহূর্তে আমি আর এই ব্যাপারে কিছু চিন্তা করছি না।’

‘এটাই আমার স্টেটমেন্ট। এখানে কন্ট্রোভার্সি বা অন্য কোন কিছুর কোন জায়গা নেই। আমি সবসময় বলি যে আমি খুবই ওপেন। আমার স্টেটমেন্টে আমি যখনই কিছু বলেছি বা আমার সঙ্গে বোর্ডের যখনই কোন ডিসকাশন হয়েছে আমি সবসময়ই ওপেন ছিলাম। কমি আমার মনের কথা তাদেরকে বলেছি এবং সবসময় প্রটোকল ফলো করেছি। প্রটোকল বলতে বোঝাচ্ছি আমার যেখানে যেখানে বোর্ডকে বলে এসে মিডিয়ায় বলা উচিৎ আমি সবসময় সেটা করেছি। এরকম না যে আমি কাউকে না জানিয়ে ফট করে একটা কথা বলে দিলাম। আমি এমন কোনসময় করি না, করবোও না। দ্যাটস ইট।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

৬ মাস টি-টোয়েন্টি কন্সিডার করছি নাঃ তামিম ইকবাল

Read Next

সৌম্যদের ফেরা স্বস্তি ফিরিয়েছে মুশফিকদের শিবিরে

Total
2
Share