সিলেটের ১ম জয়, ঢাকার ৩য় পরাজয়

সিলেটের ১ম জয়, ঢাকার ৩য় পরাজয়
Vinkmag ad

মিরপুরে ১০০ রানের পুঁজি নিয়েও লড়াই করা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দিনের ম্যাচে জয়ও পাওয়া সম্ভব। এমনটাই যেনো নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিলো চলতি বিপিএলে। তবে চতুর্থ দিন এসে ভেঙেছে রীতি, মিনিস্টার ঢাকাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে প্রথম জয় পেলো সিলেট সানরাইজার্স।

আগে ব্যাট করা মিনিস্টার ঢাকা স্পিন ঘূর্ণিতে খাবি খেয়ে করতে পারে সাকূল্যে ১০০ রান। যেখানে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বায়টে সর্বোচ্চ ৩৩ রান। জবাবে ১৭তম ওভার পর্যন্ত ব্যাট করতে হলেও সিলেট সানরাইজার্স পেলো ৭ উইকেটের সহজ জয়ই। সিলেট সানরাইজার্সের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ রান এনামুল হক বিজয়ের ব্যাটে।

ছোট ও সহজ লক্ষ্যে তাই চাপটাও তেমন ছিল না। তারপরও বড় শটস খেলতে গিয়ে পাওয়ার প্লে-তেই রুবেল হোসেনের তালুবন্দি হয়ে সাজঘরে লেন্ডল সিমন্স। ২১ বলে ১৬ রান করা এই ব্যাটারকে সাঝঘরের পথ দেখান ৪০২ দিন পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলতে নামা মাশরাফি বিন মর্তুজা।

সঙ্গী হারালেও মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন এনামুল হক বিজয়। তাদের ব্যাটে দলীয় ৫০ পার করে সিলেট। তবে ৫৯ রানে মিঠুনকে বিদায় করেন হাসান মুরাদ। এরপর ক্রিজে নেমে বিজয়ের সঙ্গে জুটি গড়েন কলিন ইনগ্রাম।

এই জুটিতেই জয়ের খুব কাছে চলে যায় সিলেট। তবে জয় থেকে ২ রান দূরে থাকাকালীন ব্যক্তিগত ৪৫ রানে মাশরাফির বলে তামিমের তালুবন্দি হন বিজয়। ক্রিজে নেমে রবি বোপারা ১ বল খেলে কোন রান নেননি। তবে জয়সূচক রানটি আসে ইনগ্রামের ব্যাট থেকে। ১৯ বলে ২১ রান করেন এই প্রোটিয়া। মাশরাফি নেন ২ উইকেট।

টস জিতে যথারীতি আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত সিলেট সানরাইজার্স অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দিনের ম্যাচে মিরপুরে যেভাবে স্পিনাররা সুবিধা পায় সেটাই কাজে লাগিয়েছে দলটির সোহাগ গাজী, মোসাদ্দেক হোসেন, নাজমুল ইসলাম অপুরা। তাদের স্পিন ঘূর্ণির বিপরীতে কেবল কিছুটা লড়াই করেছেন মিনিস্টার ঢাকা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে মাত্র ২২ রান। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল (৩) ও মোহাম্মদ শেহজাদের (৫) সাথে জহরুল ইসলামও (৫) হয়েছেন ব্যর্থ।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ক্রিজে এসে ১৩তম ওভার পর্যন্ত টিকেছেন নাইম শেখ। কিন্তু খেলেছেন আরেক দফা টি-টোয়েন্টি বিরুদ্ধ দৃষ্টিকটু ৩০ বলে ১৫ রানের ইনিংস। নাইমের সাথে নাজমুল ইসলাম অপু ফেরান আন্দ্রে রাসেলকেও (০)। তাতে ৫৭ রানেই মিনিস্টার ঢাকা হারায় ৫ উইকেট।

এক পাশ আগলে রেখে যা একটু চেষ্টা করেন অধিনায়ক রিয়াদ। দলের প্রথম ৬৬ রানের ৩৩ (২৬ বলে) রানই এসেছে তার ব্যাটে, আউট হন অপুর তৃতীয় শিকার হয়ে। এরপর মিনিস্টার ঢাকা যে ১০০ পর্যন্ত যেতে পেরেছে তা কেবল শুভাগত হোমের ১৬ বলে ২১ রানে ভর করে। শেষদিকে রুবেল হোসেনের ৬ বলে ১২ রানও ছিলো কার্যকর।

ইনিংসের ৮ বল আগেই মিনিস্টার ঢাকাকে অলআউট করার পথে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট বাঁহাতি স্পিনার অপুর। ৩ টি উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। এ ছাড়া সোহাগ গাজী দুইটি ও মোসাদ্দেকের শিকার একটি উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

মিনিস্টার ঢাকা ১০০/১০ (১৮.৪), তামিম ৩, শেহজাদ ৫, নাইম ১৫, জহুরুল ৪, মাহমুদউল্লাহ ৩৩, রাসেল ০, শুভাগত ২১, মাশরাফি ২, রুবেল ১২, মুরাদ ০*; তাসকিন ২.৪-০-২২-৩, গাজী ৪-১-১৭-২, মোসাদ্দেক ৪-০-১২-১, অপু ৪-১-১৮-৪

সিলেট সানরাইজার্স ১০১/৩ (১৭), সিমন্স ১৬, বিজয় ৪৫, মিঠুন ১৭, ইনগ্রাম ২১*, বোপারা ১*; মাশরাফি ৪-০-২১-২, মুরাদ ৪-০-৩১-১

ফলাফলঃ সিলেট সানরাইজার্স ৭ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ নাজমুল ইসলাম অপু (সিলেট সানরাইজার্স)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

১০০ তেই থেমে গেল মিনিস্টার ঢাকার ইনিংস

Read Next

নিজের অমন উদযাপনের কারণ জানালেন অপু

Total
12
Share