অবশেষে জয়ের দেখা পেল মিনিস্টার ঢাকা

অবশেষে জয়ের দেখা পেল মিনিস্টার ঢাকা
Vinkmag ad

১২৯ রানের পুঁজি নিয়ে এমনিতেই মিরপুরে জয়ের ব্যাপারে ঝুঁকি নেওয়া যায় অনায়েসে। সাথে যদি যোগ হয় দুই পেসার আলঝারি জোসেফ ও শফিকুল ইসলামের দুর্দান্ত স্পেল তবে জয়ের গল্পে আধিপত্য বিস্তার হবেই। কিন্তু খাদের কিনারায় থাকা দলকে টেনে তুলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অধিনায়কোচিত এক ইনিংসের সাথে শুভাগত হোমের যোগ্য সঙ্গ ও শেষদিকে আন্দ্রে রাসেল ঝড়, এমন কিছুতে পরাজিত দলের নাম ফরচুন বরিশাল।

বিপিএলে টানা দুই ম্যাচ হারের পর তৃতীয় ম্যাচে এসে জয়ের দেখা পেলো মিনিস্টার ঢাকা। জোসেফ-শফিকুলের শুরুর অমন স্পেলের পরও ৪ উইকেতে হারতে হলো সাকিব আল হাসানে ফরচুন বরিশালকে।

ক্রিস গেইল, ডোয়াইন ব্রাভোর ৩৬ ও অপরাজিত ৩৩ রানে ভর করে ফরচুন বরিশালের স্কোরবোর্ডে ৮ উইকেটে ১২৯ রান। জবাবে বাজে শুরুর পরেও রাসেলের ১৫ বলে অপরাজিত ৩১ ও ইনিংস মেরামত করা রিয়াদের ৪৭ রানে ১৫ বল হাতে রেখেই জিতলো মিনিস্টার ঢাকা। রিয়াদকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া শুভাগতর ব্যাটে ২৯ রান।

১০ রান তুলতেই সাজঘরে ফিরেছেন মিনিস্টার ঢাকার তামিম ইকবাল (০), নাইম শেখ (৪), জহরুল ইসলাম (০) ও মোহাম্মদ শেহজাদ (৫) । ইনিংসের প্রথম ওভারেই বাঁহাতি পেসার শফিকুল ইসলামকে তেড়েফুড়ে খেলতে চান তামিম। ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলা বলটি নিচু হয়ে স্টাম্প ভাঙে তামিমের। পুরো ওভারে দারুণ আউট সুইং পান শফিকুল।

পরের ওভারে আলঝারি জোসেফ তুলে নেন নাইম শেখ ও জহরুল ইসলামকে। নাইমকে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করলেও জহরুলকে বল বোঝার আগেই বোল্ড করেন। ১০ রানে ৪ উইকেট হারানো মিনিস্টার ঢাকাকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও শুভাগত হোমের।

দুজনে মিলে ৫ম উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৬৯ রান। ২৫ রানে ২৯ রান করা শুভাগতকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। শেষ ৬ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৪৭ রান। আলঝারি জোসেফের করা ১৫তম ওভারেই ১৯ রান নেন আন্দ্রে রাসেল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

হারের শঙ্কা জাগানো মিনিস্টার ঢাকার জয়ের পথটা আর কঠিন করেননি রাসেল। তাইজুলের করা ১৭তম ওভারেই আসে ১৬ রান। ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই সাকিবকে দারুণ এক ছক্কা রিয়াদের। অবশ্য ফিরেছেন পরের বলেই, দল তখন জয় থেকে মাত্র ১ রান দূরে।

রাসেলের সাথে ২৫ বলে ৫০ রানের জুটি গড়ে রিয়াদ ফেরেন ৪৭ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলে। তবে রাসেল আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি, দলকে ১৫ বল আগেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার পথে ৩১ রানের ইনিংসটি খেলেন ৩ চার ২ ছক্কায়।

টস হেরে ব্যাট করতে নামে ফরচুন বরিশাল। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে হারায় ৩ উইকেট, তুলতে পারেনি ২৪ রানের বেশি।

শুরুটা নাজমুল হোসেন শান্তরকে (৯ বলে ৫) দিয়ে, লং অফে নাইম শেখকে ক্যাচ দেন শুভাগত হোমের বলে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে। একই ওভারে জীবন পেয়েছেন সৈকত আলি, কাভারে ব্যক্তিগত ১৩ রানে তার সহজ ক্যাচ মিস করেন তামিম।

জীবন পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ সৈকত (১৮ বলে ১৫), বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদের বলে ক্যাচ দেন তামিমকেই। নতুন ব্যাটার তৌহিদ হৃদয়কে খালি হাতেই ফেরান আন্দ্রে রাসেল।

৩ নম্বরে সাকিব আল হাসান ও গতকাল বাংলাদেশে এসে আজই মাঠে নামা ক্রিস গেইল ৫ নম্বরে নামেন। তবে তাতেও প্রথম ১০ ওভারে ফরচুন বরিশালের স্কোরবোর্ডে আসেনি ৪৯ রানের বেশি। সাকিব কিছুটা মেরে খেললেও, গেইল যথারীতি সময় নেন থিতু হতে। তার ব্যাটে প্রথম বাউন্ডারি আসে ১৭তম বলে, শুভাগত হোমকে মিড উইকেট দিয়ে হাঁকান ছক্কা।

রুবেল হোসেনের করা ১২তম ওভারেই ফিরতে হয় সাকিবকে (১৯ বলে ২৩), কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। ভাঙে গেইলের সাথে ৩৭ রানের জুটি। ক্রিজে এসে ১ রানের বেশি করতে পারেননি নুরুল হাসান সোহান।

৬১ রানে ৫ উইকেটে হারানো ফরচুন বরিশাল শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১২৯ রান পর্যন্ত যেতে পারে ক্রিস গেইলের ৩০ বলে ৩৬ ও ডোয়াইন ব্রাভোর ২৬ বলে ৩৩ রানে ভর করে। মিনিস্টার ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট আন্দ্রে রাসেল ও ইসুরু উদানার।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ফরচুন বরিশাল ১২৯/৮ (২০), সৈকত ১৫, শান্ত ৫, সাকিব ২৩, হৃদয় ০, গেইল ৩৬, নুরুল ১, ব্রাভো ৩৩, জিয়া ১, জোসেফ ৪, তাইজুল ৫*; রুবেল ৩-০-৮-১, শুভাগত ৪-০-১৯-১, মুরাদ ২-০-১২-১, রাসেল ৪-০-২৭-২, উদানা ৪-০-২৯-২, মাহমুদউল্লাহ ৩-০-৩১-১

মিনিস্টার ঢাকা ১৩০/৬ (১৭.৩), তামিম ০, শেহজাদ ৫, নাইম ৪, জহুরুল ০, মাহমুদউল্লাহ ৪৭, শুভাগত ২৯, রাসেল ৩১*, উদানা ১*; শফিকুল ৩-১-২০-১, জোসেফ ৩-০-৩৪-২, সাকিব ৩.৩-০-২১-১, ব্রাভো ৩-০-১৬-১

ফলাফলঃ মিনিস্টার ঢাকা ৪ উইকেটে জয়ী।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ব্রেন্ডন টেইলরের বিস্ফোরক দাবি, স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য টাকা নিয়েছেন, তবে…

Read Next

আইসিসির বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার জো রুট

Total
20
Share