সেন্ট্রাল জোনকে হারিয়ে তাদেরকে সাথে নিয়ে ফাইনালে সাউথ জোন

সেন্ট্রাল জোনকে হারিয়ে তাদেরকে সাথে নিয়ে ফাইনালে সাউথ জোন
Vinkmag ad

ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন ও বিসিবি সাউথ জোন দুই দলই নিশ্চিত করলো ফাইনাল। ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের ২২১ রানের লক্ষ্য ৫ উইকেট হাতে রেখে টপকেছে বিসিবি সাউথ জোন।

দুই দলই সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে নাম লেখালো। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চারদিনের ফরম্যাটেও ফাইনাল খেলে এই দুই দল।

টানা দুই ম্যাচ জিতে আগেই ফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছিল ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন। ফলে শেষ ম্যাচে বিসিবি সাউথ জোনের বিপক্ষে হেরেও ক্ষতি হয়নি।

আজ (১৩ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন ৮ উইকেট হারিয়ে ২২০ রান করে। শেষদিকে আবু হায়দার রনির ব্যাটে ঝড় না উঠলে এই রানও হতো না মোসাদ্দেক হোসেনের দলের। রনির ব্যাটে ২৭ বলে সর্বোচ্চ ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংস।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে তৌহিদ হৃদয়ের অপরাজিত ৬৫ রানে ৫ উইকেটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বিসিবি সাউথ জোন।

দুই ওপেনার পিনাক ঘোষ ও এনামুল হক বিজয়ের ব্যাটে দারুণ শুরু পায় বিসিবি সাউথ জোন। ২৪ রান করা বিজয়কে ফেরান মোসাদ্দেক হোসেন। তাতে ভাঙে ৬০ রানের উদ্বোধনী জুটি।

নতুন ব্যাটার মাইশুকুর রহমান (৭) ফেরেন দ্রুত। তবে ফিফটি তুলে নেন আরেক ওপেবার পিনাক ঘোষ। অবশ্য ইনিংস লম্বা করতে পারেননি, আউট হন ৭৯ বলে ৫৪ রান করে।

তবে তৌহিদ হৃদয় ও জাকির হাসানের ৮০ রানের জুটিতেই সহজ জয় পায় বিসিবি সাউথ জোন। ৪৯ বলে ৪ চারে ৪০ রান আসে জাকিরের ব্যাটে। তবে তৌহিদ হৃদয় দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন।

৭৮ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ৬৫ রানে ছিলেন অপরাজিত। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে নাহিদুল ইসলাম খেলেন ২২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের হয়ে সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নেন হাসান মুরাদ।

এর আগে আবু হায়দার রনির ঝড়ে ওয়ালটন সেন্ট্রাল ২২১ রানের লক্ষ্য দিতে পারে। মুস্তাফিজুর রহমানের করা ইনিংসের শেষের কয়েক ওভারে ঝড় তোলেন রনি।

অথচ মুস্তাফিজের বোলিংয়েই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন। শেষ ওভারে রনির ২ ছয় ও ২ চারে ২১ রান তোলে তারা, তাতে লড়াকু স্কোর পেয়ে যায় দলটি। ২৭ বলে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন রনি।

মুস্তাফিজের করা শেষ ওভারেই আসে ২১ রান। প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে রনিকে স্ট্রাইক দেন নাজমুল ইসলাম অপু। এরপর শুরু হয় রনি ঝড়।

ডিপ মিড উইকেটে দারুণ চার দিয়ে শুরু, একই জায়গায় ছয় দিয়ে শেষ। মাঝে কাউ কর্নারে একটি ছয় ও লং অফে এক চার। হাফ সেঞ্চুরি করা এই ইনিংসে ছিল ৪ চার ও ২ ছয়।

আবদুল মজিদ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত হাফ সেঞ্চুরির কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন। তিন উইকেট পড়ার পর খেলার হাল ধরেন মজিদ-মোসাদ্দেক। দুজনে জুটি গড়ে সচল রেখেছিলেন রানের চাকা।

৪৬ রান করে মজিদ ফিরলে ভাঙে ৬৪ রানের জুটি। মজিদের ফেরার পর মোসাদ্দেকও বেশিক্ষণ টিকেননি। মুস্তাফিজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৪৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওয়ালটন সেন্ট্রালের অধিনায়ক।

এছাড়া আল আমিন ২৫ ও তাইবুর রহমান ২৩ রান করেন। ১০ ওভারে তিনি ৬৩ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। এছাড়া ৩ উইকেট নেন মেহেদী হাসান। ১ উইকেট নেন কামরুল ইসলাম রাবি।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন ২২০/৮ (৫০), মিজানুর ০, সৌম্য ৫, মজিদ ৪৬, তাইবুর ২৩, মোসাদ্দেক ৪৪, আল আমিন ২৫, জাকের ৪, মৃত্যুঞ্জয় ৯, রনি ৫৪*, অপু ২*; মুস্তাফিজ ১০-২-৬৩-৪, রাব্বি ৫-০-৩১-১, মেহেদী ১০-১-২৬-৩

বিসিবি সাউথ জোন ২২৫/৫ (৪৮.৪), পিনাক ৫৪, বিজয় ২৪, মাইশুকুর ৭, হৃদয় ৬৫*, জাকির ৪০, নাহিদুল ২২, মেহেদী ৫*; মোসাদ্দেক ১০-০-৩৩-১, সৌম্য ৬.৪-০-৪২-১, মুরাদ ১০-০-২৯-২, মৃত্যুঞ্জয় ৮-০-৪৩-১

ফলাফলঃ বিসিবি সাউথ জোন ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ তৌহিদ হৃদয় (বিসিবি সাউথ জোন)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ইমরুলে ম্লান মাহমুদউল্লাহর অলরাউন্ড নৈপুণ্য

Read Next

লম্বা বিরতির পর ম্যাচ খেলছেন তামিম, যেমন দেখলেন ইমরুল

Total
1
Share