বোল্টের ‘৫’ ইয়াসিরের ‘৫৫’, কিউইদের পাহাড়সম লিড

বোল্টের '৫' ইয়াসিরের '৫৫', কিউইদের পাহাড়সম লিড
Vinkmag ad

মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জিতে বড় স্বপ্ন নিয়েই ক্রাইস্টচার্চে এসেছিলো বাংলাদেশ। অন্তত ড্র করলেই যে ইতিহাস গড়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বাদ পাবে। অথচ হ্যাগলি ওভালে দ্বিতীয় দিন শেষে উল্টো চোখ রাঙাচ্ছে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়। ঘাসে মোড়ানো উইকেটে প্রথম দিন টাইগার বোলাররা সুবিধা করতে না পারলেও দ্বিতীয় দিন একই উইকেটে রাজত্ব করছে ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদিরা। আর তাতেই লণ্ডভণ্ড বাংলাদেশ ব্যাটিং লাইনআপ।

টম লাথামের ডাবল সেঞ্চুরি (২৫২), ডেভন কনওয়ের সেঞ্চুরি (১০৯), উইল ইয়াং (৫৪) ও ড্যারিল মিচেলের (৫৭*) জোড়া ফিফটিতে ৬ উইকেটে ৫২১ রানে ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে তৃতীয় দিন খেলা শেষ হওয়ার আগে টাইগাররা অলআউট ১২৬ রানে।

ফলো অনে পড়ে প্রথম ইনিংস শেষেই স্বাগতিকদের চেয়ে পিছিয়ে ৩৯৫ রানে। ইনিংসের শুরু থেকেই খেই হারায় বাংলাদেশ। চা বিরতির আগে ১১ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে ৪ উইকেটে তোলে ২৭ রান।

সাউদি-বোল্টের তোপে ১১ রানেই বিদায় নেয় সাদমান ইসলাম (৭), মোহাম্মদ নাইম (০), নাজমুল হোসেন শান্ত (৪) ও মুমিনুল হক (০)।

শুরুটা সাদমানকে দিয়ে, বোল্টের অফস্টাম্পের বাইরের বল খোঁচা দিয়ে ক্যাচ দেন তৃতীয় স্লিপে। এরপর অভিষিক্ত নাইম শেখের পালা। সাউদির মুখোমুখি প্রথম বলটিই খেললেন বাজে ফুটওয়ার্কে। লেগ স্টাম্প দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বল চালাতে চাইলেন।

ওই যাত্রায় বেঁচে গেলেও পঞ্চম বলে পারেননি। শরীরের ওপর তাক করা বাউন্স লাফিয়ে খেলতে গিয়ে উইকেটে টেনে আনেন। দুই ওপেনার নেই তিন ওভারেই।

শান্ত ও মুমিনুল ফিরলেন ৬ষ্ঠ ও ৭ম পরপর দুই ওভারে। বোল্টের সুইং ডেলিভারিতে ব্যাট ছুঁইয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল সাউদির ভেতরে ঢোকানো বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন।

চা বিরতির আগে সমান ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন লিটন দাস ও ইয়াসির আলি রাব্বি। চা বিরতির পর কোনো রান না করেই বোল্টের বলে ফেরেন লিটন। এরপর নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে রাব্বির ৬০ রানের জুটি।

যেখানে বেশ ইতিবাচক ব্যাটিং করছিলেন সোহান। কিন্তু আম্পায়ার্স কলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাউদির বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন। থেমেছেন ৬২ বলে ৪১ রান করে।

রাব্বি একপাশ আগলে রাখলেও অন্য প্রান্তে ব্যর্থ মেহেদী হাসান মিরাজ (৫), তাসকিন আহমেদরা (২)। মিরাজকে ফিরিয়ে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন বোল্ট। চতুর্থ কিউই বোলার হিসেবে এই কীর্তি বোল্টের।

শেষ ব্যাটার হিসেবে রাব্বি ফেরেন বোল্টের পঞ্চম শিকার হয়ে, ৯৫ বলে ৭ চারে তার ব্যাটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৫৫ রান। ৪৩ রান খরচায় বোল্টের ৫ ও ২৮ রান খরচায় সাউদির শিকার ৩ উইকেট।

এর আগে ১ উইকেটে ৩৪৯ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিলো নিউজিল্যান্ড। ৯৯ রানে কনওয়ে ও ১৮৬ রানে অপরাজিত ছিলেন ল্যাথাম। আগেরদিন ২০১ রানের জুটিতে অবিচ্ছেদ্য ছিলেন দুজনে।

আজ দ্বিতীয় দিন প্রথম সেশনেই ৪ উইকেট হারায় কিউইরা।

দিনের প্রথম বলেই চার মেরে সেঞ্চুরি তুলে নেন কনওয়ে। তবে রান আউটে কাটা পড়ে সেঞ্চুরিকে টেনে নিতে পারেননি বেশি দূর। থেমেছেন ১৬৬ বলে ১২ চার ১ ছক্কায় ১০৯ রানে। তাতে ভাঙে ল্যাথাম-কনওয়ের ২১৫ রানের জুটি।

দিনের ১১তম ওভারেই ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে যান ল্যাথাম । বিদায়ী টেস্ট খেলতে নামা রস টেইলরের সাথে ল্যাথামের জুটি ৪৮ রানের। টেইলরকে (৩৯ বলে ২৮) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ইনিংসজুড়ে সবচেয়ে খরুচে এবাদত।

দ্রুত ফিরতে পারতেন ল্যাথামও, শরীর তাক করা শর্ট অব লেংথ বল ব্যাটের কানায় লেগে ফিরতি ক্যাচ হয়। কিন্তু দৌড়ে গিয়েও তা লুফে নিতে পারেননি বোলার তাসকিন। সফল রিভিউতে হেনরি নিকোলসকে খালি হাতে ফেরান এবাদত, কট বিহাইন্ডের আবেদন শুরুতে নাকচ করেছিলো আম্পায়ার।

ড্যারিল মিচেলকে ৩ রানেই আটকান শরিফুল। ১২ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫ উইকেটে ৪২৩ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় কিউইরা। ২১৫ রানে অপরাজিত ছিলেন ল্যাথাম।

লাঞ্চের পর দ্রুত রান তোলাতে মনযোগ দেয় স্বাগতিকরা। ৪২ বলের জুটিতে ৫০ রান যোগ করে ফেলে টম ল্যাথাম ও টম ব্লান্ডেল। জুটির ফিফটির পর আরও বেশি আক্রমণাত্মক দুজনে। ৩৭২ বলে ছুঁয়ে ফেলেন ব্যক্তিগত ২৫০ রানও।

মুমিনুল হককে স্লগ খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন ইয়াসির আলি রাব্বিকে। ৩৭৩ বলে ৩৪ চার ও ২ ছক্কায় সাজান ২৫২ রানের ইনিংসটি। ভাঙে ব্লান্ডেলের সাথে ৭৬ রানের জুটি।

ল্যাথাম ফিরলেও ঝড়ো গতিতে রান তোলা থেকে বিরত হননি ব্লান্ডেল। ৫৬ বলে তুলে নেন ফিফটি, তার ফিফটির পর অবশ্য ইনিংস ঘোষণা করতে বেশিক্ষণ সময় নেয়নি কিউই দলপতি। ৬০ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত ছিলেন ব্লান্ডেল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (২য় দিন শেষে):

নিউজিল্যান্ড ৫২১/৬ (১২৮.৫ ওভারে ইনিংস ঘোষণা), ল্যাথাম ২৫২, ইয়াং ৫৪, কনওয়ে ১০৯, টেইলর ২৮, নিকোলস ০, মিচেল ৩, ব্লান্ডেল ৫৭*, জেমিসন ৪*; শরিফুল ২৮-৯-৭৯-২, এবাদত ৩০-৩-১৪৩-২, মুমিনুল ৩-০-৩৪-১

বাংলাদেশ ১২৬/১০ (৪১.২), সাদমান ৭, নাইম ০, শান্ত ৪, মুমিনুল ০, লিটন ৮, ইয়াসির ৫৫, নুরুল ৪১, মিরাজ ৫, তাসকিন ২, শরিফুল ২, এবাদত ০*; সাউদি ১২-৪-২৮-৩, বোল্ট ১৩.২-৩-৪৩-৫, জেমিসন ৯-৩-৩২-২

বাংলাদেশ ৩৯৫ রানে পিছিয়ে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

হতশ্রী ব্যাটিংয়ে ধুকছে টাইগাররা

Read Next

চমক জাগিয়ে নাইমের টেস্ট অভিষেক, ব্যাটিং কোচ বলছেন উত্তর জানে নির্বাচক প্যানেল

Total
13
Share