ওপেন করে মিঠুনের বাজিমাত, পাচ্ছেন জাতীয় দলে ফেরার আভাস

ওপেন করে মিঠুনের বাজিমাত, পাচ্ছেন জাতীয় দলে ফেরার আভাস

সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মোহাম্মদ মিঠুন। জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টের নির্দেশনায় টুর্নামেন্ট জুড়ে ওপেন করে দুর্দান্ত ব্যাটিং উপহার দিয়েছেন। খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস, পেয়েছেন প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির দেখা। নিজের ভূমিকায় সফল মিঠুন জানালেন ওপেনিংয়েই উপভোগ করছেন। জাতীয় দলে যে তাকে নিয়ে ভাবনা আছে সেটাও পরিষ্কার করেন।

ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের হয়ে বিসিএলের প্রথম ম্যাচে ওপেন করতে নেমেই বাজিমাত মিঠুনের। খেলেছেন ১৭৬ রানের ইনিংস, ঐ ইনিংসের পরই মিঠুন জানিয়েছেন তাকে ওপেন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে।

মূলত মিডল অর্ডারে ব্যাট করা মিঠুন জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন গত বছর জিম্বাবুয়ে সফরের পর। আর এদিকে জাতীয় দলের ওপেনিংয়ে চলছে বিরাট সমস্যা, ফর্মে ফেরানো যাচ্ছে না কাউকেই। তামিম ইকবালের অনপস্থিতিতে সাদমান ইসলামের সাথে যে দায়িত্ব সামলাতে কখনো নাজমুল হোসেন শান্ত, কখনো সাইফ হাসান চেষ্টা করেছেন। সর্বশেষ সমাধান ঘরোয়া ক্রিকেট ও বয়সভিত্তিকে নিয়মিত ৩ নম্বরে ব্যাট করা মাহমুদুল হাসান জয়।

পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেকে জয়ের ব্যাট না হাসলেও দারুণ এক ইনিংস খেলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে অবদান রাখেন বেশ ভালোভাবে। তবে স্থায়ী সমাধানের পথ খুজতেই হয়তো মিঠুনকে বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত করতে চেয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

চলতি বিসিএলে মিঠুন সেটি করেছেন দারুনভাবে। ৪ ম্যাচে ৭ ইনিংসে ৬৬.৮৬ গড়ে রান করেছেন ৪৬৮। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার পথে আছে দুই সেঞ্চুরি, যেখানে ফাইনালের সেঞ্চুরিকে রূপ দেন ডাবল সেঞ্চুরিতে, থেমেছেন ক্যারিয়ার সেরা ২০৬ রানে।

এমন পারফর্ম করে মিঠুন বলছেন উপভোগ করছেন, ‘এখন পর্যন্ত উপভোগ করছি (ওপেনিং), ভালো লাগছে। এটা আসলে আমার কোনো প্ল্যান ছিলো না। এ ধরণের কোনো চিন্তা আমার মধ্যে আসেনি যে আমি ওপেনিং চেষ্টা করে দেখি বা এ ধরণের কিছু। এটা মূলত কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্ট থেকে আমাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তারা বিশ্বাস করে যে আমার যে টেকনিক আমি ওপেন করতে পারবো।’

‘তাদের বিশ্বাস থেকেই আমাকে বলে। পরে অধিনায়কের সাথে কথা হয়, এখন আমি সালাউদ্দিন স্যারের সাথে কাজ করছি। উনার সাথেও বিষয়টা নিয়ে আমি আলোচনা করি এবং উনিও ইতিবাচক ছিলেন। তারপর থেকেই আসলে আমি মাথায় নেওয়া শুরু করি, দেখি চেষ্টা করি।’

ওপেনিং করতে নেমে এমন দুর্দান্ত এক টুর্নামেন্ট শেষ করে মিঠুন বলছেন তিনি চান এই পজিশনেই চালিয়ে নিতে।

এ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘আপনি যখন যেখানে সফল হবেন আপনারতো ইচ্ছে থাকবে সে পজিশনে খেলার। আমাদের ক্যারিয়ারটাই এমন যে সবার একটা কমফোর্টেবল জায়গা থাকে, সে চায় যে এখানে সফল সেখানে খেলতে। তো সে হিসেবে, যদিও আমার অল্প সময়…এখনো আমি বলবোনা যে আমি প্রোপার ওপেনার হয়ে গেছি , নামলেই সফল হব (হাসি)। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমি ৪ টা ম্যাচে ওপেন করেছি, এই ৪ ম্যাচে আমি বেশ কমফোর্টেবল ছিলাম। এখন পর্যন্ত উপভোগ করছি।’

তাকে ওপেন করতে বলার মানে টিম ম্যানেজমেন্ট চায় তাকে দিয়ে জাতীয় দলের ওপেনিং চ্যালেঞ্জের সমাধান খুঁজতে। এই ডানহাতি ব্যাটার নিজেও আভাস পাচ্ছেন সেরকম কিছুর।

মিঠুন বলেন, ‘হ্যাঁ সেটাই অনেকটা। নাহলেতো আমাকে নির্দেশনা দেওয়া হতো না ম্যানেজমেন্ট থেকে যে ওপেনিং করে দেখো। কোনো প্ল্যান হয়তো আছে আমাকে নিয়ে সেজন্যই বলেছে। ওটাই চেষ্টা করছি এ জায়গাটায় নিজেকে যত তাড়াতাড়ি উন্নতি করা যায়, প্রকৃত যে পরীক্ষাগুলো আসে সেগুলো কীভাবে মোকাবেলা করা যায়।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ভাঙাচোরা দল নিয়ে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়, পুরো কৃতিত্ব মুমিনুলকে দিলেন মাশরাফি

Read Next

আয়ারল্যান্ডের কোচ হলেন ওয়াগনারদের সতীর্থ

Total
13
Share