নান্নু বলছেন স্বাধীনভাবে কাজ করেন, তবে…

নান্নু বলছেন স্বাধীনভাবে কাজ করেন, তবে
Vinkmag ad

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে যে বাজে সময় যাচ্ছে তাতে অনেকেই কাঠ গড়ায় দাঁড় করান নির্বাচকদের। টানা ১০ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করা মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর প্যানেল অবশ্য সমালোচিত হওয়ার মতো বেশ কিছু সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। যেসবের ব্যাখাও আবার ঠিকঠাক দিতে পারেন না। তবে নান্নু নিজে অবশ্য বলছেন দল হারে বলেই সমালোচনার তীর তাদের দিকে ছোঁড়া হয়। এর পাশাপাশি তিনি এটাও জানান দল নির্বাচন তাদের সাথে জড়িত থাকে কয়েক স্তরে ভিন্ন ভিন্ন লোকজন।

নিজের খেলোয়াড়ী জীবনের উদাহরণ টেনে প্রধান নির্বাচক বলছেন সমালোচনা তাদের কাছে প্রত্যাশিত। কিন্তু একাদশ নির্বাচন নিয়ে হওয়া সমালোচনার দায় তারা নিতে চান না। কারণ একাদশ নির্বাচন করে কোচ, অধিনায়ক সহ টিম ম্যানেজমেন্ট।

আজ (৯ ডিসেম্বর) সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন খেলতাম, তখনো খারাপ খেললে একটা চিন্তা থাকতো মুখ দেখাবো কি করে মোহামেডানের সমর্থকদের, আবাহনীর সমর্থকদের। এখন দেশ যখন খারাপ খেলছে সমালোচনা হবে স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় বোঝা উচিৎ, একাদশ নির্বাচনটা কিন্তু নির্বাচক প্যানেল করে না।’

বাংলাদেশ দলের স্কোয়াড বাছাই থেকে একাদশ নির্বাচনেও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের হস্তক্ষেপ থাকে এমন বিষয় এখন ওপেন সিক্রেট। নানা সময়ে পাপনের চাওয়া মতো দল, একাদশ কিংবা টস জিতে ব্যাটিং/ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত না হওয়াতে প্রকাশ্যে ক্ষোভও ঝেড়েছেন। এতে প্রশ্ন থেকেই যায় নির্বাচক প্যানেল কি সত্যিকার অর্থেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে?

এ প্রশ্নের জবাবে নান্নু বলেন, ‘অবশ্যই (স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারা), এই যে খেলোয়াড়গুলো আমরা আনছি এটা কারা দিচ্ছে? ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলাতো আমরা দেখছি। টিম ম্যানেজমেন্ট তো খেলা দেখেনা। কোচরাতো ওরকম খেলোয়ারই চিনে না। যে খোলায়ড়গুলো আমরা দিচ্ছি সবইতো খেলা দেখে, পারফরম্যান্স সহ সব দিক দেখে নির্বাচন করি।’

তবে সব ছাপিয়ে দল খারাপ করলে যে সমালোচনায় পড়তে হয় নির্বাচকদের সেটা কীভাবে দেখেন এমন প্রশ্নও ছোঁড়া হয় প্রধান নির্বাচকের দিকে। আর এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েই সামনে আনেন কয়েক স্তর হয়ে একটা দল চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়কে। যেখানে কোচ, অধিনায়ক, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ হয়ে জড়িয়ে আছে বিসিবি সভাপতিও।

নান্নু বলেন, ‘সমালোচনা করলে তো অনেক কিছু শুনতে পাবেন। আপনি দেখেন দল নির্বাচনে দুইটা স্তর আছে। একটা আমরা হেড কোচের সাথে মিটিং করি। তারপরে অধিনায়কের সাথে করি। দুইটা মিটিং শেষ হলো, এরপর দলটা প্রস্তুত করে আমরা ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগে দিই। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান হয়ে মাননীয় সভাপতির কাছে যায় অনুমোদনের জন্য। কয়টা স্তরে যেতে হয়? অধিনায়ক, কোচ, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ হয়ে বোর্ড সভাপতি।’

‘যেহেতু উনি বোর্ড সভাপতি অবশ্যই উনি দল নিয়ে জিজ্ঞেস করবেন যে দল কেমন হচ্ছে। এটা সমালোচনা না, সিস্টেমই এটা। আমি অধিনায়ক, কোচকে বাদ দিয়েতো দল প্রস্তুত করতে পারবোনা। এরপর ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ হয়ে বোর্ড সভাপতির কাছে আসে। ৫ টা স্তর হয়ে দল নির্বাচন হয়। এখন দল খারাপ করলে সব দিক দিয়ে সমালোচনা হয়। যখন জিতে তখন কিন্তু কোনো সমালোচনাই করা হয়না।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

আগামী বছর থেকে সাকিবকে টেস্টে নিয়মিত পাওয়া যাবে

Read Next

দুই বছরে বদলে যাবে টেস্ট ক্রিকেট এমন পরিকল্পনাই বোর্ডে জমা দিয়েছেন নির্বাচকরা

Total
55
Share