বৈচিত্র নয়, লাইন-লেংথের প্রয়োজনীয়তা বোঝালেন মিরাজ

মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং
Vinkmag ad

বৃষ্টি ও আলোক স্বল্পতা মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ৫৭ ওভার। তাতে ২ উইকেটে ১৬১ রান তুলে দিন শেষ করে পাকিস্তান। বাংলাদেশের সাফল্য প্রথম সেশনে আগের টেস্টে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা দুই ওপেনার আবিদ আলি ও আব্দুল্লাহ শফিককে ফেরানো। দিন শেষে টাইগার স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ বলছেন টেস্ট জিততে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিংটাও ভালো করতে হবে।

টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। সকালের মেঘলা আকাশ দেখে যেকোনো পেসারেরই চোখ চকচক করার কথা। তবে বাংলাদেশ দলের দুই পেসার খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেন চৌধুরী দিনের শুরুতে দিতে পারেননি দারুণ কিছু উপহার।

দুজনে মিলে প্রথম স্পেলে ৯ ওভার করেন। এরপরই আক্রমণে আসেন স্পিনাররা। পেসারদের জন্য আদর্শ মঞ্চে দলকে সাফল্য এনে দেন আগের ম্যাচে ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়া স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

আগের ম্যাচে দুই ইনিংসেই শত রানের উদ্বোধনী জুটি গড়া পাকিস্তানের ওপেনার আবিদ আলি ও আব্দুল্লাহ শফিকের জুটি আজ ৫৯ রানেই থামে। প্রথমে শফিককে (২৫) ও পরে আবিদকে (৩৯) ফেরান তাইজুল।

৭০ রানে ২ উইকেট হারানো পাকিস্তান লাঞ্চে যায় ২ উইকেটে ৭৮ রানে। বাবর আজম ও আজহার আলির ব্যাটে দিনে যেটুকু সময় খেলা মাঠে গড়ায় পুরোটাই পার করে সফরকারীরা। বাবর ৬০ ও আজহার ৩৬ রানে অপরাজিত আছেন।

দিন শেষে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যাটিং, বোলিং দুই বিভাগেই ভালো করতে হবে বলছেন স্পিনার মিরাজ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচ জিততে গেলে দুটা দিকই ভালো করতে হবে। ২০ উইকেটও নিতে হবে। আবার রানও করতে হবে। আমি মনে করি দুটাই করতে হবে। জিততে হলে বোলারদের উইকেট নিতে হবে। ব্যাটসম্যানদের রান করতে হবে। বোলাররা যেরকম করছে,,, রানটা যদি কন্টেইন করতে পারি আর ব্যাটসম্যানরা যদি রান করতে পারি তাহলে আমাদের কাজটা সহজ হবে।’

‘আমরা যেটা পরিকল্পনা করছি, আমরা বোলিং করছি সেদিকে ফোকাস থাকা উচিত। প্রথমে আমাদের ১০ উইকেট নিতে হবে। এরপর স্কোর দেখে আমাদের এগোতে হবে যে কিভাবে কি করলে ভালো হয়।’

টেস্টে ক্রিকেটে বোলারদের অতিমাত্রায় বৈচিত্র না আনার পরামর্শ মিরাজের। তার মতে এই ফরম্যাটে লাইন লেংথ ঠিক রেখে এক জায়গায় বল করে যাওয়াই এনে দিতে পারে সাফল্য।

মিরাজ যোগ করেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে বৈচিত্র থেকে লাইন ও লেংথ গুরুত্বপূর্ন। বৈচিত্র তখনই কাজে লাগে যখন লাইন ও লেংথ ভালো থাকে। ওয়ানডে ক্রিকেটে অনেক বৈচিত্র থাকতে হয়। ওখানে অল্প সময়ের খেলা, ৫০ ওভার ২০ ওভার। বিভিন্ন রকমের বল করতে হয়। বিভিন্ন জিনিস চেষ্টা করতে হয়। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে একই রকমের বল করতে হয়। এখানে বিভিন্ন রকমের বল করলে রান হয়ে যায়। চাপ তৈরি হয়, টেস্ট ক্রিকেট ধৈর্যের খেলা। এখানে একই জায়গায় বল করতেই হবে। একই জায়গায় বল করতে করতে ব্যাটসম্যানরা ভুল করে।’

‘তখন উইকেট পড়বে। আপনি যদি মনে করেন ২-৩ ওভারে উইকেট পড়বে তাহলে ভুল হবে। বৈচিত্র প্রত্যেক ওভারে ওভারে… এটা টেস্ট ক্রিকেটে হয় না। বোলার হিসেবে আমি পাঁচ-সাত ওভার বল করার পর একটা ভেরিয়েশন বল করতে পারি ওটাতে উইকেট নাও পরতে পারে। ভেরিয়েশন এভাবেই হয়। পরিবর্তন করতে থাকলে বিপক্ষ ব্যাটসম্যানের ওপর চাপ তৈরি হয়না। তখন সাফল্য আসার সুযোগটাও কম থাকে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বিকল্পের অভাবেই বারবার টিকে যাচ্ছেন ডোমিঙ্গো, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানুয়ারিতে

Read Next

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবস্থাপনায় ক্রিকেটারদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ

Total
1
Share