টেস্ট দলে নাইম শেখ, ঘরোয়া লিগের পারফরম্যান্স অবমূল্যায়ণ?

শতভাগ দিয়ে পরিপূর্ণ হবার চেষ্টা করছেন নাইম শেখ
Vinkmag ad

একের পর এক চমক উপহার দেওয়া বাংলাদেশ জাতীয় দলের নির্বাচকরা চমক থেকে বঞ্চিত করেননি পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেও। দেড় বছর আগে সর্বশেষ লাল বলে খেলা এবং নিয়মিত সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলা নাইম শেখকে হুট করেই ভেড়ালেন টেস্ট দলে। অথচ ঘরোয়া লিগে টানা রান করে যাওয়াদের সুযোগ মিলছে না। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর মতো অধিনায়ক মুমিনুল হকও নাইমকে অন্তর্ভূক্ত করতে গিয়ে দিলেন অনেকটা খোঁড়া যুক্তি।

মূলত তামিম ইকবাল না থাকাতে সাদমান ইসলামের ওপেনিং সঙ্গী হিসেবে বিকল্প কাউকে জায়গা দিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তরুণ সাইফ হাসানকে দিয়ে চেষ্টা করা হলেও ব্যর্থতাই দিয়েছেন উপহার। এদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বতীয় টেস্টের আগে সাইফ টাইফয়েডে পড়ে ছিটকেও গেছেন। যে কারণে দলে বিকল্প ওপেনার নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।

আর সেটা করতে গিয়েই বাঁহাতি ওপেনার নাইম শেখকে দলে ভেড়ানো হয়। এর আগে প্রথম টেস্টের স্কোয়াডেই যুব বিশ্বকাও জয়ী দলের সদস্য মাহমুদুল হাসান জয়কে অন্তর্ভূক্ত করে নির্বাচকরা। অধিনায়ক মুমিনুল জানিয়েছেন জয় যদি খেলেন সেক্ষেত্রে ওপেনার হিসেবেই খেলবেন, তাকে দলে নেওয়া ব্যাকাপ ওপেনার হিসেবে।

জয়ের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট পারফরম্যান্সের কারণে এতটুকুও প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি তার অন্তর্ভূক্তি। বরং তার সুযোগ পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখা হয়েছে। কিন্তু নাইমের অন্তর্ভূক্তি নিয়েই যত প্রশ্ন। সর্বশেষ জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) ভালো করাদের কিংবা দল থেকে বাদ পড়া কাউকে সুযোগ না দেওয়াটাই বিতর্কের মূল কারণ।

অধিনায়ক মুমিনুল হক বলছেন নাইম সিস্টেমের মধ্যেই ছিলেন বলে তাকে দলে নেওয়া। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুও এমনটাই জানিয়েছেন এর আগে।

মুমিনুল আজ (৩ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগে ম্যাচ পূর্ববর্তী দিনের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘দেখেন সত্যি বলতে আমার আর কোনো ব্যাকআপ ওপেনার ছিল না। আপনি যদি নাইম শেখের কথা বলেন তাহলে বলব, আমরা এমন একজনকে চেয়েছি যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে আছে।’

‘ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা কাউকে হুট করে নিয়ে আসলে তার জন্য কঠিন হয়ে যাবে। কারণ প্রতিপক্ষও খুব শক্ত। তার জন্য কঠিন হয়ে যেত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা কাউকে আনলে সে ভালো বুঝবে। তাই তাকে নিয়েছি।’

তবে কি সাদা-বল লাল বলের যোগ্যতা বিবাচনায় নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি টিম ম্যানেজমেন্ট? মুমিনুলের উত্তরে এমন প্রশ্নও উঠে সংবাদ সম্মেলনে।

জবাবে টাইগারদের টেস্ট কাপ্তান যোগ করেন, ‘অবশ্যই এখানে লাল-বল বা সাদা-বল অবশ্যই ম্যাটার করে। তবুও যে খেলার ভেতরে থাকে সে অনেক কিছু বুঝবে। খেলার মধ্যে থাকাটাই মনে হয় বেশি গুরত্বপূর্ণ। ব্যাক আপ হিসেবে কেউ খেললে খেলার মধ্যে থাকাটা ভালো।‘

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সহজ জয় দিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করল বাংলা টাইগার্স

Read Next

মুমিনুল বলছেন ধানক্ষেতে খেললেও ভালো করা উচিৎ

Total
3
Share