সাকিবের ফুটেজ মিসের শঙ্কা ও চাকরি হারানোর আতঙ্ক!

দেশের মানুষ ও মিডিয়ার চিন্তা-ভাবনায় পরিবর্তন আনা জরুরিঃ সাকিব
Vinkmag ad

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ইনডোরের বাংলাদেশ দলের অনুশীলন শুরু হয়ে গেছে ততক্ষণে। ঘড়ির কাটা দুপুর দুইটা ছুঁইছুঁই। সাকিব আল হাসানের সাথে বসে আড্ডায় মশগুল আবু জায়েদ রাহি, টেস্ট কাপ্তান মুমিনুল হক। একদিন পরই পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট মাঠে গড়াচ্ছে, খুব সিরিয়াস কোনো আলোচনা হচ্ছিলো ভাবলে ভুল করবেন। বেশ আমুদে মেজাজে রাহি, মুমিনুলকে হাতের নানা অঙ্গভঙ্গিতে কিছু একটা বোঝানোর চেষ্টা সাকিবের। আর এই দৃশ্যগুলো প্রায় ৫০ টি ক্যামেরায় বন্দী করার জোর চেষ্টা।

যেনো উপরের ঐ দৃশ্য ক্যামেরা বন্দী করতে না পারলে নিশ্চিত চাকরি হারাবেন ক্যামেরা ম্যান কিংবা মুঠোফোনে ধারণ করা সংশ্লিষ্ট মিডিয়া হাউজের প্রতিনিধি। বিষয়টা এমন নয় যে মাঠের অন্য কার্যক্রম তারা ধারণ করা বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে এটা সত্য সাকিবকে ঘিরে যতক্ষণ ছিলেন ততক্ষণ অন্য দিকে কি হচ্ছে সেটা নিয়ে মাথা ব্যথা ছিলো না কারো।

দিন শেষে এটাই হয়তো বাস্তবতা, বাংলাদেশে ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান যতই সমালোচিত, বিতির্কিত চরিত্রই হোন না কেন সংবাদ মাধ্যমের রসদ জোগানোর জন্য তার মতো একটি চরিত্রই যথেষ্ট।

দেশের ক্রিকেটের বড় ইস্যুগুলোই অনেকটা এরকম, এক সাকিব কেন্দ্রিক। সাকিবের দলে থাকা, না থাকা, ছুটি, বিশ্রাম, অন্য কোনো বিতর্ক। বছরজুড়ে একটা বড় অংশই কেটে যায় এসবে।

সাকিব ছুটিতে গেলে তার ফিরে আসার পর বড় সংবাদ প্রকাশ হয়, সাকিব মাঠে ফিরেছেন, অনুশীলন করেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ এসব একদমই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। বলা হয়ে থাকে আমাদের দেশে সাকিবের মতো এমন তারকা ক্রিকেটার আর নেই বলেই হয়তো সব আলো তিনি একাই কেড়ে নেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দায়টা সংবাদ মাধ্যমেরও কম নয়।

আমাদের দেশের ভক্ত সমর্থক, পাঠক, দর্শকদের চাহিদাও এ ক্ষেত্রে বড় প্রভাব রাখতে পারে। বিশেষ করে কোনো ক্রিকেটারের বিতর্ক যতটা পাঠক চেটেপুটে খায় ততটা একজন ক্রিকেটারের সামর্থ্য, দুর্বলতা নিয়ে এনালাইসিস ঘরানার প্রতিবেদন পড়ে না, এমনকি আগ্রহও প্রকাশ করে না।

এই যে সাকিব ইস্যুতে এই লেখা, এটাও হয়তো প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে লিখতে বাধ্য করেছেন সাকিব নিজেই। নিজেকে অন্যদের চেয়ে যোজন যোজন দূরত্বে নিয়ে গিয়ে তার দিকে তাক করা সব ক্যামেরার গল্পও লিখতে বাধ্য করেছেন।

চোট পেয়ে বিশ্বকাপের মাঝপথে ছিটকে যান, এরপর পরিবারের সাথে সময় কাটান যুক্তরাষ্ট্রে। চোটের অবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি না হওয়াতে খেলেননি পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। প্রথম টেস্টের আগে দেশে ফিরে স্কোয়াডেও ছিলেন তবে হ্যামস্ট্রিং চোটের স্ক্যান করানো হয়।

যার প্রতিবেদন অনুসারে বাড়তি কয়দিন বিশ্রাম প্রয়োজন পড়ে। আর তাতে চট্টগ্রাম যেতেই পারেননি, অবশ্য দল চট্টগ্রাম থেকে ফেরার আগেই নিজ উদ্যোগে শুরু করে দেন অনুশীলন।

নিজের একাডেমি মাসকোতে অনুশীলনের পর করেছেন শের-ই-বাংলাতেও। তবে ঢাকা টেস্টের আগে আজই (২ ডিসেম্বর) প্রথম দলীয় অনুশীলনে যোগ দেন। কিন্তু তার আগেই তিনি আলোচনায়।

দল বায়ো বাবলে, ফলে তাকে দলের সাথে যোগ দিতে হলে করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ হতে হবে। তাই দলের অনুশীলনের নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘন্টা আগে মিরপুরে হাজির সাকিব।

দুপুর দেড়টায় বাংলাদেশ দলের অনুশীলন, সাকিব মাঠে আসেন ১১ টায়। ইনডোরে একা একা অনুশীলন করেন এক ঘন্টার মতো। যেখানে তাকে বল করেছেন ৩ জন পেসার ও ৩ জন স্পিনার (নেট বোলার)। সাকিব খেলেছেন সুইপ, রিভার্স সুইপ, অফ ড্রাইভ, কাট, স্লগ সহ সাধ্যের মধ্য থাকা প্রায় সব শট।

ঘন্টা খানেকের ব্যাটিং অনুশীলন শেষে বেলা ১২ টায় দেন করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা। এরপর ফের ব্যাটিং অনুশীলন, ততক্ষণে ফলাফলও জানতে পারেন। করোনা পরীক্ষায় হয়েছেন নেগেটিভ।

এরপর দলের অনুশীলন শুরু হলে ইনডোরের এক পাশে গাছের ছায়ায় চেয়ার পেতে মুমিনুল, রাহিদের সাথে তার ঐ আড্ডামুখর আলাপচারিতা। দলের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কয়েকজন ক্রিকেটারের সাথে সাকিব এরপর দিয়েছেন ডোপ টেস্টও।

দলীয় অনুশীলন তখন শেষের দিকে, মূল মাঠে ফিল্ডিং অনুশীলন করাচ্ছিলেন কোচ মিজানুর রহমান বাবুল। সাকিব তখন ব্যস্ত শের-ই-বাংলার চারদিকে রানিং করাতে। প্রায় মিনিট বিশেক চলেছে তার এই রানিং সেশন।

চট্টগ্রাম টেস্টের পর সাকিবকে ঢাকা টেস্টে অনিশ্চিত বলা হচ্ছিলো গতকাল পর্যন্তও। তবে যে সাকিবকে আজ মিরপুরে দেখা গিয়েছে এই সাকিব ফিটনেসের কারণে ম্যাচ না খেললে সেটা হবে অবাক করার বিষয়ই।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

চ্যালেঞ্জ মাড়িয়ে স্বপ্নের সীমা ছাড়িয়ে রাব্বির নতুন ভূবন

Read Next

সাকিবের দাপুটে বোলিংয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক করল বাংলাদেশের যুবারা

Total
1
Share