মুমিনুলের চোখে যেখানে এবাদত-রাহিদের চেয়ে এগিয়ে আফ্রিদি-হাসানরা

উইকেট নয়, বোলারদের দুষলেন মুমিনুল

চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। ম্যাচে ব্যাটে-বলে দলটির সেরা পারফর্মারদের খুব বেশি নেই অভিজ্ঞতা। তবে বাংলাদেশের ব্যর্থ হওয়া ক্রিকেটারদের পেছনে কারণ খুঁজতে গেলেই যথারীতি একই উত্তর তাদের অভিজ্ঞতা কম। শাহীন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলি, আবিদ আলি কিংবা আব্দুল্লাহ শফিকরা চোখে আঙুল দেখিয়েছেন অনভিজ্ঞ হলেও কীভাবে স্কিলের প্রদর্শন করতে হয়। মুমিনুল বলছেন মানসিকতার কারণে পারফরম্যান্সে পার্থক্য।

ম্যাচ সেরার পুরষ্কার জেতা পাকিস্তানি ওপেনার আবিদ আলি প্রথম ইনিংসে খেলেন ১৩৩ রানের ইনিংস, দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাটে ৯১ রান। অথচ এই নিয়ে তিনি খেললেন মাত্র ১৫ তম টেস্ট, যেখানে ব্যাটিং গড় ৫০ ছুঁইছুঁই। আরেক ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিকের তো অভিষেকই হলো এই টেস্ট দিয়ে। এর আগে প্রথম শ্রেণির ম্যাচই খেলেছেন তিনটি। অথচ প্রথম ইনিংসে ৫২ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করলেন ৭৩ রান।

অথচ বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও সাদমান ইসলামও যে খুব বেশি পিছিয়ে আছেন তাদের থেকে তাও নয়। সাইফ ষষ্ঠ ও সদমান নিজের নবম টেস্ট খেলেছেন। দুজনেই ম্যাচে হয়েছেন ব্যর্থ। সাইফ ১৪ ও ১৮ এবং সাদমান ১৪ ও ১ রান করেন।

বোলারদের ক্ষেত্রেও বিষয়টা অনেকটা একই রকম। বাঁহাতি পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি এ নিয়ে খেললেন নিজের ২০তম টেস্ট। যেখানে সব মিলিয়ে তার উইকেট ৮৩ , চলতি বছর আবার শীর্ষ উইকেট শিকারিও, ৮ ম্যাচে নিয়েছেন ৪৪ উইকেট। চট্টগ্রাম টেস্টে ইনিংসে ৫ উইকেট সহ তার পকেটে ৭ উইকেট।

অন্যদিকে হাসান আলি এই নিয়ে টেস্ট খেললেন ১৬ টি, যেখানে উইকেট সংখ্যা ৭০ টি। চলতি বছর নিয়েছেন ৭ ম্যাচে ৯ উইকেট। বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে নিয়েছেন ইনিংসে ৫ উইকেট সহ ৭ উইকেট।

অথচ আবু জায়েদ রাহি, এবাদত হোসেনদের অভিজ্ঞতাও প্রায় তাদেরই মতো। রাহির ১৩ ম্যাচের ক্যারিয়ার, উইকেট ৩০ টি। চট্টগ্রাম টেস্টে ১৬ ওভারের বেশি করতে পারেননি, নেই কোনো উইকেট।

এবাদতের অবস্থা আরও খারাপ। ৯ ম্যাচের ক্যারিয়ার, উইকেট মাত্র ১০ টি। ৩৮ ওভার বল করে চট্টগ্রাম টেস্টে অবশ্য কিছুটা সফল, নিয়েছেন ২ উইকেট।

অভিজ্ঞতায় খুব বেশি হেরফের না হলেও কেন বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা পিছিয়ে? সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচ শেষে এমন প্রশ্নের জবাবে অধিনায়ক মুমিনুলের উত্তর একটাই, মানসিকতা।

তিনি বলের, ‘আমার কাছে মনে হয় পুরোপুরি একটা মানসিক ব্যাপার। ওরা (পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা) মানসিকভাবেও শক্ত আছে। তারপর মনে করেন স্কিলফুল বোলারদের বিপক্ষে যখন ব্যাট করবেন তখন মানসিকভাবেও শক্ত। ঐ জায়গায় কাজ করার সুযোগ নেই। একজন ব্যাটসম্যানের স্কিল নিয়ে কাজ করার হয়ত সুযোগ নেই এখন, তবে মেন্টালি কতটা নিজেকে শক্ত রাখতে পারে সেটাই আসল।’

এদিকে ম্যাচে বাংলাদেশ কেবল ব্যক্তিগত কিছু পারফরম্যান্সকে সামনে আনতে পারে। যেখানে তাইজুল ইসলামের ইনিংসে ৭ ও ম্যাচে ৮ উইকেট থাকছে উপরের দিকেই। মুমিনুল হক বলছেন তাইজুলের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার আছে, বিশেষ করে ফ্ল্যাট উইকেটে যেভাবে টানা বল করে গেছেন এবং সাফল্য পেয়েছেন সে কারণে।

মুমিনুল যোগ করেন, ‘আমি বলবো যে এই ম্যাচে আমাদের ২-৩ টা প্রাপ্তির মধ্যে ওর টা সেরা। এমন ফ্ল্যাট উইকেটে ৭ উইকেট নেওয়া এত সহজ না। ও যে কাজটা করেছে সেটা দুর্দান্ত। গত এক দেড় বছরে নিজের উন্নতি করতে সে যে কাজ করেছে তা অবশ্যই অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার।’

চট্টগ্রাম থেকে, ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

প্রয়োজনে জুনিয়রদের পরিবর্তনের পক্ষে মুমিনুল

Read Next

আক্ষেপ নেই আবিদের, ঢাকায়ও ধরা দিতে চান একই রূপে

Total
1
Share