লিটনের প্রথম টেস্ট শতক, চট্টগ্রামে টাইগারদের দিন

লিটনের প্রথম টেস্ট শতক, চট্টগ্রামে টাইগারদের দিন

দিন কয়েক আগেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় লিটন দাসের উপর দিয়ে। ব্যর্থ মুশফিকুর রহিমেরও একই পরিণতি, সংবাদ সম্মেলনে মেজাজ হারানো সহ নানা কারণে ছিলেন বিতর্কিত। লিটনকে সরাসরি ও মুশফিককে বিশ্রামের আদলে বাদ দেওয়া হয় পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও। বাস্তবতা মানতে গেলে তাদের বাদ পড়া অযৌক্তিকও ছিলো না। এবার দুজনের ব্যাটেই পথ খুঁজে পেলো বাংলাদেশ। ফরম্যাট বদলে টেস্ট শুরু হতেই হেসেছে দুজনের ব্যাট।

সকালে খেই হারানো বাংলাদেশ পড়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে। সেখান থেকে টানা দুই সেশন উইকেট বিহীন থাকতে হয় পাকিস্তানি বোলারদের। এমন কঠিন সময় উপহার দিয়েছেন লিটন ও মুশফিকের রেকর্ড গড়া এক জুটি।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ (২৬ নভেম্বর) শুরু হয় পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক। বাংলাদেশ একাদশে সুযোগ পাওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অভিষেক হলো ইয়াসির আলি রাব্বির।

৪৯ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশ দিন শেষ করেছে ৪ উইকেটে ২৫৩ রান তুলে। ফলে টানা ৬৮ ওভার ৪ বল উইকেট শূণ্য কেটেছে পাকিস্তানি বোলারদের। প্রথম টেস্ট শতকের দেখা পেলেন লিটন (১১৩*), সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে আছেন মুশফিকও (৮২*)।

চা বিরতির আগের সেশনের মতো বাংলাদেশ শেষ সেশনও নিজেদের করেছে লিটন-মুশফিকের ব্যাটে। ৪ উইকেটে ১৭১ রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। লিটন ৬২ ও মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ৫৫ রানে।

চা বিরতির পরেও দুজনে সাবলীল ব্যাটিংই করেছেন। যদিও ব্যক্তিগত ৬৭ রানে জীবন পান লিটন। আফ্রিদির করা ৬৫তম ওভারে পুল করেন লিটন, বল সোজা মিড উইকেটে দাঁড়ানো সাজিদ খানের হাতে। কিন্তু তা লুফে নিতে ব্যর্থ হন সাজিদ।

জীবন পেয়ে আর পেছনে ফিরে তাকাননি। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। বাঁহাতি স্পিনার নুমান আলির করা ৭৮ তম ওভারের তৃতীয় বলে মিড অফে ঠেলে দিয়ে ছুঁয়েছেন তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার। যদিও ফিল্ডারের সরাসরি থ্রোতে স্টাম্প ভাঙলে রান আউটই হতে হত লিটনকে।

এর আগে টেস্টে দুইবার আউট হয়েছেন ৯০ এর ঘরে। আগের ক্যারিয়ার সেরা ৯৫ এসেছে আগের ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে। ২০১৮ সালে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেই ৯৪ রানে আউট হন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

লিটন-মুশফিকের জুটি দারুণভাবে প্রভাব ফেলে পাকিস্তানি বোলারদের উপর। এমনকি ৮০ ওভার শেষে নতুন বল হাতে নিয়েও হাসান আলি, শাহীন শাহ আফ্রিদিরা ছন্দ হারিয়েছে, এলোমেলো হয়েছে লাইন লেংথও।

ততক্ষণে জুটির ২০০ পার করে মুশফিক-লিটন। আলোক স্বল্পতায় যখন ৫ ওভার আগে দিনের খেলা শেষ হয় তখনো অবিচ্ছেদ্য ২০৪ রানে। যা ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে ৫ম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ডে ঢুকে পড়ে। এর আগের সর্বোচ্চ ১৪৪ রানের জুটি ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মেহরাব হোসেন জুনিয়র ও মুশফিকুর রহিমের।

শেষ পর্যন্ত লিটনও ছুটছেন সেঞ্চুরির দিকে, অপরাজিত ১৯০ বলে ১০ চারে ৯২ রানে। লিটন অপরাজিত ২২৫ বলে ১১ চারে ১ ছক্কায় ১১৩ রানে। শেষদিকে বেশ অস্বস্তি নিয়ে ব্যাট করেছেন। বিশেষ করে বাঁহাতের কব্জি ও পিঠের ব্যথায় কয়েকবারই ডেকে আনতে হয়েছে ফিজিওকে।

এর আগে দিনের শুরুতে টস জিতে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ আভাস দেয় বাজে কিছুর। ওপেনার সাইফ হাসান, সাদমান ইসলাম ও ৩ নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত সমান ১৪ রান করে আউট হন। অধিনায়ক মুমিনুল ফেরেন মাত্র ৬ রানে।

অথচ খালি চোখেও দেখে বোঝা যায় ব্যাটিং উইকেটই বানানো হয়েছে চট্টগ্রাম টেস্টের জন্য। টস হেরে ফিল্ডিং করা পাকিস্তান দলপতি বাবর আজম তো হাসতে হাসতে সেটাই বলে রাখলেন যে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন। বাংলাদেশও সে সিদ্ধান্তই নিয়েছে।

শুরুতে বিপাকে পড়লেও শেষে মুশফিক-লিটন সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণের জন্য যা করা দরকার তার চেয়েও বেশিই যেনো করে দিলেন। ৪৯ রানে ৪ উইকেট হারনোর পর লাঞ্চের আগে দুজনের ২০ রানের জুটি, বাংলাদেশ লাঞ্চে যায় ৪ উইকেটে ৬৯ রান নিয়ে। এরপর চা বিরতির আগে দুজনে যোগ করেন আরও ১০২ রান। শেষ সেশনে যোগ হয় ৮২ রান।

আলোক স্বল্পতায় আজ ১১ মিনিট ও ৫ ওভার আগে খেলা শেষ হওয়ায় আগামীকাল দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হবে সকাল ৯ টা ৪৯ মিনিটে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ (১ম দিন শেষে)

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসঃ ২৫৩/৪ (৮৫ ওভার) সাদমান ১৪, সাইফ ১৪, শান্ত ১৪, মুমিনুল ৬, মুশফিক ৮২*, লিটন ১১৩*; আফ্রিদি ১৮-৪-৫০-১, হাসান ১৩-৩-৩৮-১, ফাহিম ১০-২-৩৮-১, সাজিদ ২২-৩-৬৮-১

চট্টগ্রাম থেকে, ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মুশফিক-লিটনের শতরানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ

Read Next

লিটন-মুশফিককে প্রশংসায় ভাসালেন হাসান আলি

Total
6
Share