টেপ টেনিসের মাঠ থেকে যেভাবে টেস্ট দলে রাজা

InShot 20211122 211706966 700x390 1

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে দুই নতুন মুখ মাহমুদুল হাসান জয় ও রেজাউর রহমান রাজা। যেখানে পেসার রাজা অনেকের কাছেই পরিচিত মুখ নন। যদিও দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখাদের নজর এড়ানোর কথা নয়। প্রথম শ্রেণিতে ইতোমধ্যে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন, ছিলেন হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটে। ডানহাতি এই পেসার জানালেন কীভাবে টেপ টেনিস থেকে উঠে এসেছেন।

২২ বছর বয়সী এই পেসার উঠে এসেছেন সিলেট থেকে। বাংলাদেশের বর্তমান টেস্ট দলে সিলেটি পেসারদের আধিক্যই বেশি। আবু জায়েদ রাহি, এবাদত হোসেন চৌধুরী, খালেদ আহমেদের পর এবার যোগ হয়েছে রাজা।

টেপ টেনিস খেলে পাড়ার বড় ভাইদের অনুপ্রেরণায় যোগ দেন ক্রিকেট বলের অনুশীলনে। সেখান থেকে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স হান্ট হয়ে প্রথম শ্রেণির অভিষেক, ৩ বছরের মাথায় ডাক পেলেন জাতীয় দলেই!

নিজের উঠে আসার গল্প জানাতে গিয়ে বিসিবির পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় রাজা বলেন, ‘আসলে টেপ টেনিস খেলা থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া। এলাকায় টেপ টেনিস খেলার পর একটা ক্রিকেট বলের টুর্নামেন্ট হয়েছিল। আমি সেখানে খেলতে যাই। তখন বড় ভাইরা বোলিং দেখে বলছিলেন, তোর বোলিং ভালো হচ্ছে, তুই চাইলে স্টেডিয়ামে গিয়ে ক্রিকেট প্র্যাকটিস করতে পারিস।’

‘তো আমি বড় ভাইদের কথা শুনে প্র্যাকটিসে গেলাম। প্র্যাকটিসে গিয়ে আমার মনে হইলো যে, ইন শা আল্লাহ আমি পারবো। তো এভাবেই আসলে আমার ক্রিকেটে আসা।’

ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন ১০ টি। ২৪.২৭ গড়ে উইকেট নিয়েছেন ৩৩ টি। এবারে এনসিএলে সিলেট বিভাগের হয়ে ৩ ম্যাচে নিয়েছেন ১২ উইকেট।

স্কোয়াডে ডাক পেলেও রাহি, এবাদত, খালেদদের টপকে একাদশে সুযোগ পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জেরই। তবে চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন বলছেন এই ডানহাতি পেসার।

রাজা যোগ করেন, ‘আসলে চ্যালেঞ্জ নেওয়া পছন্দ করি। আমাদের বড় ভাইদের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া… আমাদের সিলেটে যেমন রাহি ভাই, এবাদত ভাই, খালেদ ভাইদের কাছ থেকে মোটিভেশন পাওয়া। এই থেকেই আসলে পেস বোলার হওয়ার একটা উৎসাহ জেগেছে।’

নিজের শক্তির জায়গা কোনটি তা জানাতে গিয়ে অবশ্য কিছুটা অসংলগ্ন বক্তব্য ঝরে রাজার কণ্ঠে। মূলত বোঝানোর চেষ্টা করেন সারাদিনে কয়েক স্পেলে একই মান বজায় রেখে বল করতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘টেস্ট খেলা আমি উপভোগ করি। আলহামদুলিল্লাহ্‌ ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম শ্রেণিতে ভালো করেছি। চারদিনের খেলায় ডে বাই ডে কয়েকটা স্পেলে বোলিং করতে পারি। আমার স্ট্রেংথটা ধরে রাখতে পারি, এটাই আমার স্ট্রেংথ।’

‘আমার নিজের যেটা মনে হয় যে, এক জায়গায় টানা বল করতে পারি। বলে কিছু মুভমেন্ট করাইতে পারি। এক রিদমে টানা বল করতে পারি। দিনের শুরুতে যেই পেসে বোলিং করি, দিনের শেষে আলহামদুলিল্লাহ তার চেয়ে একটু বেশি পেসে বল করতে পারি।’

চট্টগ্রাম থেকে, ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটারদের উন্নতি

Read Next

নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই জয়ের, করতে চান স্বাভাবিক ব্যাটিং

Total
1
Share