রিয়াদ ফেরালেন ২০১৬ বিপিএল, তবে বাংলাদেশ ফেরেনি জয়ে

featured photo updated v 10

১২৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শেষ ১৮ বলে প্রয়োজন মাত্র ১৯, হাতে ৮ উইকেট। এমন ম্যাচই কিনা শেষের রোমাঞ্চে হারের শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তান। এক পেশে পানসে হতে যাওয়া ম্যাচকে রুদ্ধশ্বাস করার কৃতিত্ব অবশ্যই বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। শেষ ওভারে ৮ রান আটকাতে হতো দলকে জেতাতে হলে, ঐ ওভারেই নিলেন ৩ উইকেট। শেষ বলে গড়ানো ম্যাচে যদিও ৫ উইকেটের হারই সঙ্গী হল টাইগারদের।

১ ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ আগেই নিশ্চিত করা পাকিস্তান এই জয়ে ২০১৮ সালের পর ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবল ধোলাইয়ের স্বাদ দিল।

এদিন পাকিস্তান একাদশে আসে ৪ পরিবর্তন। শোয়েব মালিক ছেলের অসুস্থতায় আগেই রওয়ানা দেন দুবাইয়ের উদ্দেশে। বিশ্রামে শাহীন শাহ আফ্রিদি, ফখর জামান ও শাদাব খান। সুযোগ পান সরফরাজ আহমেদ, উসমান কাদির, ইফতিখার আহমেদ। অভিষেক হয় শাহনেওয়াজ দাহানির।

বাংলাদেশ একাদশেও একাধিক পরিবর্তন। সাইফ হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম ছিলেন বাইরে। সুযোগ পান শামীম হোসেন, নাসুম আহমেদ ও অভিষেক হয় পেসার শহিদুল ইসলামের।

টানা তিন ম্যাচে টস জিতেছে বাংলাদেশ অধিনায়ক, আগের দুই ম্যাচের মতো এদিনও ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন। মিরপুরে সোমবার (২২ নভেম্বর) আবারও ব্যর্থ বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগ। ধীর গতির ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেটে তুলতে পারে ১২৪ রান। যেখানে সর্বোচ্চ স্কোরার ওপেনার নাইম শেখের ব্যাটে ৫০ বলে ৪৭ রান।

জবাবে সহজ জয়ের পথে থাকা পাকিস্তান খেই হারায় নিজেদের ইনিংসের শেষ ৩ ওভারে। তাসকিন আহমেদ, শহিদুল ইসলামের সাথে শেষ ওভারে রিয়াদের চমকপ্রদ বোলিং।

রিয়াদ যেনো ফিরিয়ে আনলেন ২০১৬ সালের বিপিএলকে। ঐ আসরে খুলনা টাইটান্সকে নেতৃত্ব দেওয়া রিয়াদ শেষ ওভারে গড়ানো দুইটি ম্যাচ জেতান। রাজশাহী কিংস ও চট্টগ্রাম ভাইকিংসের বিপক্ষে শেষ ওভারে ডিফেন্ড করেন মাত্র ৭ ও ৬ রান। কিন্তু এ দফায় হলেন ব্যর্থ।

আজ ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ধীরে লয়েই এগিয়েছে পাকিস্তান। তবে বাংলাদেশকে ধবল ধোলাই করা সিরিজে আক্ষেপে পুড়তে পারেন বাবর আজম। পাকিস্তান দলপতি প্রথম দুই ম্যাচ ৭ ও ১ রান করার পর আজ করতে পেরেছেন ১৯ রান।

আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের বলে বাবর আউট হলে ভাঙে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সাথে ৩২ রানের উদ্বোধনী জুটি। অধিনায়কের বিদায়ের পর ৩ নম্বরে নামা হায়দার আলিকে নিয়ে দলকে সহজ জয়ের পথেই রাখেন রিজওয়ান। ৪৮ বলে গড়েন জুটির ফিফটিও।

শেষ ৫ ওভারে সফরকারীদের প্রয়োজন ছিল ৪২ রান। অভিষিক্ত বাংলাদেশ পেসার শহিদুল ইসলামের বল স্টাম্পে টেনে এনে বোল্ড হন রিজওয়ান। ৪৩ বলে তার ব্যাটে ৪০ রান। ঐ ওভারেই দুই ছক্কা হাঁকিয়ে পুরো চাপ বাংলাদেশকে ফেরত দেন হায়দার।

শেষ ৩ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন পড়ে ১৯। ১৮ তম ওভারে তাসকিন আহমেদ দেন মাত্র ৪ রান। ১৯তম ওভারে শহিদুল দেন ৭ রান। ফলে শেষ ওভারের সমীকরণ ৮ রানের। প্রথম বলে ডট দিয়ে দ্বিতীয় বলেই অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ তুলে নেন সরফরাজ আহমেদকে (১২ বলে ৬)।

পরের বলে সেট ব্যাটার হায়দার আলিকেও (৩৮ বলে ৪৫) লং অনে ক্যাচে পরিণত করেন টাইগার দলপতি। নতুন ব্যাটার ইফতিখার আহমেদ চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকান, আউট হন পরের বলেই। শেষ বলে প্রয়োজন ২, চার মেরে দলের ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন মোহাম্মদ নওয়াজ।

আরেক দফা বাংলাদেশের ওপেনিং জুটিতে এসেছে বদল। সাইফ হাসানের ব্যর্থতায় আজ নাইম শেখের সাথে ইনিংসের গোড়াপত্তন করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে বদলায়নি বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটির ব্যর্থতার গল্প।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে অভিষিক্ত পাকিস্তানি পেসার শাহনেওয়াজ দাহানির বলে বোল্ড শান্ত (৫)। একাদশে ফেরা শামীম হোসেন এদিন উঠে আসেন ৩ নম্বরে। নাইমকে নিয়ে জুটিতে যোগ করেন ৩০ রান।

কিন্তু পাকিস্তানি লেগ স্পিনার উসমান কাদেরের করার প্রথম ওভারেই তেড়েফুঁড়ে মারতে গিয়ে আউট হন ২৩ বলে ২২ রান করে । এরপর খোলস ছেড়ে বেরোনোর চেষ্টা করেন নাইম। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন সিরিজ জুড়ে ইতিবাচক ব্যাটিং উপহার দেওয়া আফিফ হোসেন।

দুজনের ৪২ বলে ৪৩ রানের জুটি ভাঙেন উসমান কাদির। স্লগ খেলতে গিয়ে শর্ট থার্ড ম্যানে ক্যাচ চেন আফিফ। থামেন ২১ বলে ২০ রান করে। শেষদিকে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও নাইম শেখের ৩১ রানের জুটি। কিন্তু ৫ রানের ব্যবধানে ফেরেন নাইম, রিয়াদ সহ নুরুল হাসান সোহানও (৪)।

নাইমের ব্যাটে ৫০ বলে সমান ২ টি করে চার, ছক্কায় ৪৭ রানে। রিয়াদ যেতে পারেননি ১৩ রানের বেশি। বাংলাদেশকেও থামতে হয় ৭ উইকেটে ১২৪ রানে।

পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ২ টি করে উইকেট উসমান কাদির ও মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রের। একটি করে উইকেট শাহনেওয়াজ দাহানি ও হারিস রউফের।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ধীর গতির ব্যাটিংয়ে ১২৪ রানেই আটকে গেল বাংলাদেশ

Read Next

জানুয়ারিতেই বিপিএল, ফ্র্যাঞ্চাইজি চেয়ে দরপত্র আহ্বান

Total
3
Share