রুমানা ঝলকে পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের পথে বাংলাদেশ

রুমানা ঝলকে পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের পথে বাংলাদেশ

ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলালো ম্যাচে, শুরুতেই পাকিস্তান নারী দলকে চেপে ধরে বাংলাদেশ নারী দলের বোলাররা। এরপর নিদা দার ও আলিয়া রিয়াজের শত রানের জুটিতে লড়াকু সংগ্রহ। ২০২ রানের সহজ লক্ষ্য পেয়েও ধীর গতির ব্যাটিংয়ে ম্যাচ হাত ফসকে যাওয়ার অপেক্ষায়, মাঝে উইকেট হারিয়েও বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। সেখান থেকেই অসাধারণ এক ফিফটি হাঁকিয়ে রুমানা আহমেদ দল জেতালেন ৩ উইকেটে, মেলালেন শেষ ১০ ওভারে ৮৯ রানের সমীকরণও।

নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের হারারের ওল্ড হারারিয়ান্স স্পোর্টস ক্লাবে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ৪৯ রানে ৫ উইকেট তুলেও নেয়, কিন্তু নিদার ৮৭ ও আলিয়ার অপরাজিত ৬১ রানে ভর করে ২০১ রানের পুঁজি পায় পাকিস্তান।

বাংলাদেশের লক্ষ্য তাড়ার গল্পটা ছিলো রোমাঞ্চে মোড়ানো। ৪০ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে মাত্র ১১৩, পরের ৫৮ বলেই এসেছে ৮৯ রান। ২৫ বলে ৪২ রানের জুটি রুমানা ও সালমা খাতুনের। রুমানা ৫০ ও সালমা ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে টাইগ্রেসরা শুরুতেই হারায় ওপেনার মুর্শিদা খাতুনকে (৯)। তার বিদায়ের পর আরেক ওপেনার শারমিন আক্তার ও তিন নম্বরে নামা ফারজানা হক ধীর গতির ব্যাটিংয়ে ছোট লক্ষ্যকে প্রায় অসম্ভব লক্ষ্যে পরিণত করেন।

দুজনে মিলে গড়েন ১১৯ বলে ৭০ রানের জুটি। ১৮ রানের ব্যবধানে শারমিন, ফারজানার সাথে বিদায় নেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিও।

৬৭ বলে ধীরগতির ৩১ রানের ইনিংস শারমিনের, ৯০ বলে একই ঘরানার ৪৫ রানের ইনিংস ফারজানার। ২৬ বল খেলে জ্যোতির ব্যাটে মাত্র ৪ রান।

ততক্ষণে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান অনেকটাই ধরা ছোঁয়ার বাইরে। শেষ ১০ ওভারে প্রয়োজন ৮৯ রান। রিতু মনি ও রুমানা আহমেদের ৬১ রানের জুটিতে পথে ফেরে টাইগ্রেসরা।

ফাতিমা সানার বলে বোল্ড হয়ে রিতু মনি ফিরলে ভাঙে জুটি। ৩৭ বলে ৩৩ রান রিতুর ব্যাটে, আবারও ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। শেষ ৩০ বলে প্রয়োজন ৪৩। কিন্তু ওমাইমা সোহেল ৪৬ তম ওভারে পরপর দুই বলে ফেরান লতা মন্ডল (০) ও ফাহিমা খাতুনকে (০)।
এরপরের গল্প শুধুই রুমানার, এক পাশ আগলে রাখা এই ব্যাটার সালমা খাতুনকে নিয়ে পাড়ি দের দারুণ এক যাত্রা। শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন ৩৫ রান, ৪৮তম ওভারে সালমা-রুমানা মিলে নেন ১৮ রান। টানা ৩ চার আসে রুমানার ব্যাট থেকে।

ঐ ওভারেই জয়ের পথটা সহজ হয়ে যায়, পরের ওভারে আসে ১২ রান। শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় ৫ রান আসে ২ বল আগেই।

৪৪ বলে ৫০ রানে অপরাজিত ছিলেন রুমানা, ১৩ বলে কার্যকর ১৮ রানের অপরাজিত ইনিংস সালমার ব্যাটে। দুজনে অবিচ্ছেদ্য ৪২ রানের জুটিতে।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে মুখ থুবড়ে পড়ে পাকিস্তান নারী দলের টপ অর্ডার। রিতু মনি-নাহিদা আক্তারদের তোপে ৪৯ রানেই হারিয়ে বসে ৫ উইকেট। ওপেনার মুনিবা আলির ব্যাট থেকে আসে ২২ রান।

কিন্তু সেখান থেকে দলকে টেনে তোলা এক জুটি গড়েন নিদা দার ও আলিয়া রিয়াজ। দুজনে ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে যোগ করেন ১৩৭ রান।

দুজনেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা। ৪৯তম ওভারে জুটি ভাঙেন সালমা খাতুন, আর তাতে সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পুড়তে হয় নিদাকে। ১১১ বলে ৮ চার ২ ছক্কায় ৮৭ রানের ইনিংস খেলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন।

তবে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন আলিয়া, ৮২ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় সাজান ৬১ রানের ইনিংসটি। দল পায় ৭ উইকেটে ২০১ রানের সংগ্রহ।

বাংলাদেশ নারী দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২ টি করে উইকেট রিতু ও নাহিদার। ১ টি করে নেন সালমা ও রুমানা আহমেদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

পাকিস্তান নারী দল ২০১/৭ (৫০), মুনিবা ২২, আয়েশা ৬, জাভেরিয়া ১২, ওমাইমা ০, ইরাম ৩, নিদা ৮৭, আলিয়া ৬১*, ফাতিমা ৫, ডায়ানা ১*; সালমা ১০-২-৩২-১, রিতু ৯-০-৩৬-২, নাহিদা ১০-১-২৫-২, রুমানা ৮-০-৪০-১

বাংলাদেশ নারী দল ২০২/৭ (৪৯.৪), মুর্শিদা ৯, শারমিন ৩১, ফারজানা ৪৫, নিগার ৪, রুমানা ৫০*, রিতু ৩৩, লতা ০, ফাহিমা ০, সালমা ১৮*; আনাম ১০-১-৩০-১, ফাতিমা ৪.৪-০-৩৫-১, নাশ্রা ১০-২-২৪-২, নিদা ১০-১-১৭-১, ওমাইমা ৭-০-৪৪-২

ফলাফলঃ বাংলাদেশ নারী দল ৩ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ রুমানা আহমেদ (বাংলাদেশ নারী দল)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

টেস্ট খেলতে বাংলাদেশে পৌঁছেছে আজহার আলিরা

Read Next

যেভাবে চেয়েছেন সেভাবেই হয়েছে, পাকিস্তান বধের পর বলছেন জ্যোতি

Total
37
Share