মাঠে দর্শক ফেরার দিনেও বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা

মাঠে দর্শক ফেরার দিনেও বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা

বিশ্বকাপের ভরাডুবি, দর্শকদের মনে যেনো সেটার প্রভাব পড়েনি একটুও। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি মিরপুরে বদলায়নি বাংলাদেশের পারফরম্যান্স, পরিবর্তন কেবল ফাঁকা গ্যালারির পরিবর্তে ভরা গ্যালারি। প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশের মাঠে দর্শক। ছন্নছাড়া টাইগারদের সমর্থন জুগাতে এসে এ দফায়ও হতাশ ভক্তরা। আগে ব্যাট করে টি-টোয়েন্টি বিরুদ্ধ ব্যাটিংয়ে পেয়েছে মাত্র ১২৭ রানের সংগ্রহ।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ রান আসে আফিফ হোসেনের ব্যাটে, ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন শেখ মেহেদী হাসান। ২৮ রান করে আউট হন নুরুল হাসান সোহান।

বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচের একাদশ থেকে চার পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। যেখানে মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও সৌম্য সরকার আগে থেকেই স্কোয়াডে জায়গা হারান। দলে সুযোগ হয় সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, নুরুল হাসান সোহান ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের। অভিষেক হয় সাইফ হাসানের। অন্যদিকে পাকিস্তান এদিন একাদশে রাখেনি শাহীন শাহ আফ্রিদিকে।

টস জিতে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি টিকেনি ৭ বলের বেশি। হাসান আলির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে নাইম শেখ ফেরেন ১ রান করে। বেশ চমক জাগিয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হওয়া সাইফ হাসানও থামেন ১ রানেই। কখনোই টি-টোয়েন্টির উপযুক্ত ব্যাটসম্যান বলে বিবেচিত না হওয়া এই ডানহাতি অভিষেকেও নড়বড়ে। মোহাম্মদ ওয়াসিমের অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের কিছুটা সুইং করা বলে ক্যাচ দেন স্লিপে।

সিরিজ শুরুর আগে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের বার্তা দেওয়া নাজমুল হোসেন শান্তও ব্যর্থ। এই নিয়ে তৃতীয় দফা টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়ে আজ থেমেছেন ১৪ বলে ৭ রান করে। ওয়াসিমের দ্বিতীয় শিকার হন শর্ট বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ তোলে ৩ উইকেটে মাত্র ২৫ রান।

আশা দেখিয়ে আরেক দফা হতাশ করলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়ায়দও। তবে তাকে দুর্ভাগাই বলতে ভবে, মোহাম্মদ নওয়াজের হাল্কা টার্ন করা বল বেরিয়ে যাওয়ার আগে চুমু খেয়ে যায় স্টাম্পে। যা খেয়ালই করতে পারেননি ব্যাটসম্যান কিংবা আম্পায়ারের কেউই। আত্মবিশ্বাসী উইকেট রক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের আপিলের প্রেক্ষিতে টিভি রিপ্লে দেখে আউট দিতে বাধ্য হয় আম্পায়ার।

৪০ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা আফিফ হোসেন ধ্রুবর। শুরু থেকে বলে মেধা বিচার করে নিজের শক্তির জায়গা কাজে লাগান এই বাঁহাতি। ১১তম ওভারে মোহাম্মদ নওয়াজকে হাঁকান টানা ২ ছক্কা। কিন্তু শাদাব খানের গুগলি বুঝতে না পেরে স্টাম্পড হন, থেমেছেন ৩৪ বলে সমান ২ টি করে চার, ছক্কায় ৩৬ রান করে।

তবে এরপর বাংলাদেশের যে সংগ্রহ তাতে বড় অবদান নুরুল হাসান সোহান ও শেখ মেহেদীর। দুজনে মিলে জুটিতে যোগ করেন ২৪ বলে ৩৫ রান। সোহানের ব্যাটে আসে ২২ বলে ২৬ রান। শেষ পর্যন্ত শেখ মেহেদীর ২০ বলে ৩০ রানের অপরাজিত ইনিংস। শেষ বলে তাসকিনের ছক্কায় বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে ৭ উইকেটে ১২৭।

পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট হাসান আলির। ২ টি উইকেট নেন মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র। একটি করে শিকার মোহাম্মদ নওয়াজ ও শাদাব খানের।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ক্রিকেটকে বিদায় বললেন মহাতারকা এবি ডি

Read Next

টিম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে মুশফিকের খোলামেলা মন্তব্য, পেয়েছেন কারণ দর্শানো নোটিশ

Total
1
Share