৬১৭ দিন পর বাংলাদেশের মাঠে দর্শক, পাকিস্তানিদের চাওয়া জয় হোক ক্রিকেটের

৬১৭ দিন পর বাংলাদেশের মাঠে দর্শক, পাকিস্তানিদের চাওয়া জয় হোক ক্রিকেটের

গত বছর মার্চে সর্বশেষ বাংলাদেশের মাঠে দর্শক প্রবেশ করে। এরপর করোনা বাঁধা পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক সিরিজ আয়োজন হলেও অনুমোদন মেলেনি দর্শকদের। অবশেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ (১৯ নভেম্বর) প্রথম টি-টোয়েন্টি দিয়ে দলকে সমর্থন জুগাতে মাঠে আসার সুযোগ পেলো বাংলাদেশী দর্শকরা।

বিশ্বকাপে দল হতাশাজনক পারফরম্যান্স উপহার দিলেও আস্থার জায়গা কমেনি এতটুকুও। ভক্ত-সমর্থকদের বিশ্বাস ঘুরে দাঁড়াবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। বেশ ভালো সংখ্যক পাকিস্তানি দর্শকদের দেখাও মিলেছে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

দুপুর দুইটা থেকে মাথে গড়াচ্ছে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। দর্শকদের গেইটগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় বেলা ১২ টায়। কিন্তু তার আগেই মিরপুর রূপ নেয় জনসমুদ্রে। প্রতিটি গেইটেই ছিল উপচে পড়া ভীড়। তবে গেইটের দায়িত্বে থাকাদের নিয়ম শৃঙ্খলা যথাযথভাবে পালন হওয়াতে গ্যালারিতে প্রবেশে খুব একটা ঝামেলা পোহাতে হয়নি দর্শকদের।

আজ ম্যাচের দিনেও অবশ্য কালোবাজারিদের আনাগোনা দেখা যায়। টিকিটের অতি মাত্রায় চাহিদার কারণে যারা আগেরদিন টিকিট সংগ্রহ করতে পারেনি তারাও কিনেছে কয়েক গুণ বেশি টাকা দিয়ে। যদিও সেসব ভুলে দীর্গদিন পর মাঠে ফিরে টাইগারদের খেলা দেখার রোমাঞ্চের কাছে সব যেন পরাজিত।

গেইটে এক দর্শক যেমন বলছিলেন, ‘বিশ্বকাপে খারাপ খেললেও আমরা আশা হারাচ্ছিনা। এ সিরিজে বাংলাদেশ ভালো করবে বলে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে যেহেতু নতুন কয়েকজন ক্রিকেটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাদের কারণে স্বপ্ন দেখাই যায়। আমরা আশাবাদী শান্ত (নাজমুল হোসেন), সাইফ হাসানরা আমাদের ভালো খেলা উপহার দিবে।’

এদিকে আজ টিকিট পাওয়া ১৮ বছর বেশি বয়সী দর্শকদের জন্য মাঠে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ছিলো করোনা টিকার সনদ সঙ্গে আনা। বিষয়টি যথাযথভাবে দেখভাল হচ্ছে কিনা তা অনুসন্ধান করতে গেলে দেখা যায় বেশ কঠোর ভূমিকা পালন করছিলো দায়িত্বরত সিকিউরিটিরা। এমনকি করোনা সনদ দেখাতে না পারায় ফেরত পাঠানোর নজিরও দেখা গিয়েছে।

এদিকে আগেরদিন সিরিজ পূর্ববর্তী দিন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম বলেছেন বাংলাদেশেও তাদের ভালো সংখ্যক দর্শক আছে। বিষয়টি আজ খেলার শুরুর আগে গ্যালারিতে পাকিস্তানি দর্শকদের প্রবেশের সময়ই টের পাওয়া যায়। বিভিন্ন গ্রুপ হয়ে পাকিস্তানকে সমর্থন জানাতে এসেছেন তারা। তাদের বেশিরভাগই পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশে বসবাস করছেন বর্তমানে। ঢাকার বাইরে গাজীপুর সহ আশেপাশের এলাকা থেকেও এসেছেন তাদের অনেকে।

ঢাকা মেডিকেলে পড়াশোনার সূত্রে ৪ বছর ধরে বাংলাদেশে মোহাম্মদ আমীর ও ২ বছর ধরে অবস্থান করছেন মোহাম্মদ সারেক। দুজনেই আশাবাদী বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তান বিশ্বকাপের সাফল্য ধরে রাখবে। বাংলাদেশে অবস্থানেই কারণে ইতোমধ্যে বাংলা ভাষাও প্রায় আয়ত্ব করে ফেলেছেন, বাংলাতেই জানিয়েছেন তাদের অনুভূতি।

মোহাম্মদ সারেক বলেন, ‘আমরা অনেকদিন ধরে বাংলাদেশে, আমি ২ বছর ও আমীর ৪ বছর ধরে এখানে আছি। আমরা ঢাকা মেডিকেলে পড়াশোনা করছি। এই প্রথম বাংলাদেশের মাঠে পাকিস্তানের খেলা দেখতে এলাম। পাকিস্তান বিশ্বকাপে দারুণ খেলেছে আমরা আশাবাদী তারা এখানেও সেটা ধরে রাখবে।’

বাংলাদেশে থাকার কারণে ম্যাচে বাংলাদেশ দলের প্রতি কিছুটা সমর্থন কাজ করবে কিনা জানতে চাইলে মোহাম্মদ আমীর বলেন, ‘তাতো অবশ্যই। আসলে এখন তো দুইটাই আমাদের দল বলা যায়। আমরা আসলে খেলাটাকে সমর্থন দিতে এসেছি। ক্রিকেটের জয় হোক দিনশেষে এটাই চাওয়া।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

Read Next

ক্রিকেটকে বিদায় বললেন মহাতারকা এবি ডি

Total
4
Share