অনেক কিছু করে না ফেললেও বিশ্বমানের বোলার হতে চান তাসকিন

অসহায় কণ্ঠে তাসকিন বললেন- 'আমরা এর চেয়ে ভালো দল'

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ হতাশ করলেও পেসার তাসকিন আহমেদ হতে পারেন অন্ধকারের প্রদীপ। ৬ ম্যাচে ৬.১২ ইকোনোমিতে উইকেট ৬ টি। তবে বল হাতে তার দাপট হয়তো এই পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝানো যাবে না। আগ্রাসী মানসিকতার সাথে ছিলো বৈচিত্র। ক্যারিয়ারের শুরুতে কেবল গতিকেই অস্ত্র হিসেবে নেওয়া তাসকিন এখন পরিবর্তন এনেছেন অনেক কিছুতেই। নিজে অবশ্য বলছেন এখনো খুব বেশি কিছু করে ফেলেননি, তবে স্বপ্ন দেখেন একদিন বিশ্বমানের বোলার হবেন।

গতি দিয়ে নজর কেড়ে বাংলাদেশ দলে জায়গা করেন তাসকিন। তবে ক্যারিয়ারের শুরুতে লাইন, লেংথ কিংবা অন্য কোনো বৈচিত্র তেমন একটা দেখা যেতোনা। একটা সময় তো অবৈধ বোলিং অ্যাকশন সন্দেহে অভিযুক্ত হওয়া এবং চোট মিলিয়ে হারিয়ে যেতেই বসেছেন। সেখান থেকে অদম্য ইচ্ছে, মানসিকতা ও পরিশ্রমের সংমিশ্রণে ফিরে এসেছেন দারুণভাবে।

এবার ৩ ফরম্যাটেই সমান তালে খেলার সামর্থ্য নিয়েই প্রত্যাবর্তন করেন। সুযোগও পেয়ে যান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার আগ্রাসী বোলিংয়ের সাথে ছিলো গতির হেরফের করার নজির, দিয়েছেন কিছু কাটারও।

পাকিস্তান সিরিজ সামনে রেখে আজ (১৫ নভেম্বর) বিসিবির পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় কথা বলেন তাসকিন। যেখানে নিজের উন্নতি নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন এই ডানহাতি।

‘সত্যি বলতে বোলিংয়ে উন্নতির জন্য গত ২-৩ বছর ধরেই প্রসেস চলছে। এটা দুই-আড়াই মাসে হয়নি। এটার জন্য গত ২-৩ বছর ধরে কষ্ট করছি। আগের চেয়ে উন্নতি হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ। এখনও প্রসেসেই আছি। এখনও অনেক কিছু শিখে ফেলিনি বা অনেক কিছু করে ফেলিনি। আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। আগের চেয়ে গতি ও লেন্থ ধারাবাহিক হয়েছে।’

এখনো শেখার মধ্যে আছেন উল্লেখ করে ২৬ বছর বয়সী এই পেসার যোগ করেন,

‘তবে আমি এখনও শিখছি। দেশি ও বিদেশি কোচরা আমাকে অনেক সাহায্য করছেন। ভবিষ্যতে একজন বিশ্বমানের বোলার হওয়া, বড় মানের বোলার হওয়া আমার স্বপ্ন। এজন্য প্রসেস ঠিক রাখছি। ভালো খারাপ হবেই, কিন্তু প্রসেস ঠিক রাখতে চাই।’

বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে অতি স্পিন নির্ভর উইকেট বানিয়ে সমালোচিত হয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডকে খাবি খাওয়ালেও বিশ্বকাপে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে টাইগাররা।

এবার অবশ্য তাসকিন স্পোর্টিং উইকেট প্রত্যাশা করছেন। ৩ ম্যাচ টি-টোয়েন্টির প্রথমটা মাঠে গড়াবে ১৯ নভেম্বর। সিরিজে আছে দুইটি টেস্টও।

উইকেট প্রসঙ্গে তাসকিন বলেন,

‘ফাস্ট বোলাররা সবসময় বোলিং সহায়ক উইকেটে খেলতে চায়। কিন্তু সাদা বলে বোলিং সহায়ক উইকেটে কম খেলা হয়নি। স্পোর্টিং উইকেটই বেশি খেলা হয়। মিরপুরেও স্পোর্টিং উইকেট আশা করছি যেখানে ব্যাটার বোলার উভয়ই সুবিধা পাবে।’

‘কন্ডিশন যেমনই থাক, বোলার হিসেবে ঐ কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়াটাই চ্যালেঞ্জ। আমিও শিখছি কীভাবে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া যায়, সব কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া যায়। সব কন্ডিশনে যাতে সেরাটা দিয়ে ভালো করতে পারি এটাই আমার চ্যালেঞ্জ।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

পাকিস্তানি পেসারদের কাছ থেকে শেখার অপেক্ষায় তাসকিন

Read Next

বিকেএসপিতে দ্বিতীয় দিনেও বৃষ্টি, সিলেটের বিপক্ষে উজ্জ্বল আল-আমিন

Total
1
Share