আইসিসি হল অফ ফেমে মাহেলা, পোলক, ব্রিটিন

আইসিসি হল অফ ফেম

আইসিসি ‘হল অব ফেম’ এ যুক্ত হলেন শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনে, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অলরাউন্ডার শন পোলক এবং প্রাক্তন ইংল্যান্ড নারী ব্যাটার জ্যানেট ব্রিটিন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে এই তিন কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে বিশেষভাবে হল অফ ফেমে অন্তর্ভূক্ত করবে আইসিসি। 

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আগামীকাল রবিবার (১৪ই নভেম্বর) নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার বহুল প্রতিক্ষিত ফাইনালের আগে এই কিংবদন্তিদের আইসিসি হল অব ফেমে স্যার ক্লাইভ লয়েড আনুষ্ঠানিক ভাবে অন্তর্ভূক্ত করবেন।

আইসিসি ক্রিকেট হল অব ফেম ক্রিকেটের বর্ণাঢ্য ইতিহাস থেকে এই খেলার কিংবদন্তিদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেয়। ২০০৯ সাল থেকে চালু হওয়ার পর থেকে এখন অবধি ১০৬ জন খেলোয়াড়কে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মাহেলা, ব্রিটিন ও পোলক সর্বশেষ অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন এই তালিকায়।

ইংলিশ নারী ক্রিকেটার জ্যানেট ব্রিটিন টানা ১৯ বছর ইংল্যান্ড টেস্ট দলের মূল আস্থার নাম ছিলেন। ১৯৭৯ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে সাহায্য করেছেন তিনি।

মাহেলা জয়াবর্ধনে শ্রীলঙ্কার সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হয়ে অবসর নিয়েছিলেন। তিনি ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী দল ও আরও চারটি আইসিসি টুর্নামেন্টে ফাইনালে খেলা দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার শন পোলক ছিলেন সর্বকালের সেরা বোলিং অলরাউন্ডারদের মধ্যে একজন। তিনি টেস্ট ও ওয়ানডে উভয় ফরম্যাটে ৩০০০ রান ও ৩০০ উইকেটের ডাবলস অর্জনকারী প্রথম খেলোয়াড়।

আইসিসির ভারপ্রাপ্ত সিইও জিওফ অ্যালার্ডিস বলেছেন,

‘আইসিসি ক্রিকেট হল অব ফেম হল আমাদের খেলার সেরাদের সম্মান ও উদযাপনের উপায়। এভাবেই ক্রিকেটে তাদের অবদানের জন্য শুধুমাত্র সেরা খেলোয়াড়দেরই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আমি মাহেলা ও শনকে এই খ্যাতিমান দলে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য অভিনন্দন জানাতে চাই এবং জ্যানেটের জীবন ও কর্মজীবনকে স্মরণ করার দুর্দান্ত উপায়।’

ব্রিটিনের এই সম্মানে সম্মানিত করায় তার বন্ধু অ্যাঞ্জেলা ব্রেইনব্রিজ বলেছেন,

‘আমি আইসিসিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যে তারা ব্রিটিনকে হল অব ফেমে অন্তর্ভূক্ত করে যে সম্মান দিয়েছে তার জন্য। আমি ও তার বাবা মা এবং কেভিন তার কৃতিত্বের জন্য অত্যন্ত গর্বিত। এ সম্মান এটিকেই স্বীকৃতি দেয় যে সে কি ছিল।এটা দুঃখজনক যে সে নিজে এ পুরষ্কারটি গ্রহণ করতে পারছে না,তবে তার স্মৃতি বেচে থাকবে।’

মাহেলা জয়াবর্ধনে তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে যেয়ে বলেছেন,

‘আইসিসি হল অব ফেমে অন্তর্ভূক্ত হতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত। শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি সাঙ্গাকারা, মুরালি ও অতীতের আরও অনেক মহান ক্রিকেটারদের পদাম্ক অনুসরণ করে আসা সত্যিই সম্মানের।’

পোলক বলেছেন,

‘আমার ক্যারিয়ারের এই স্বীকৃতির জন্য আমি আইসিসি কে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাতে চাই যারা আমার এই যাত্রায় বড় ভূমিকা পালন করেছেন।’

সর্বশেষ অন্তর্ভূক্ত হওয়া খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারের কিছু প্রতিচ্ছবি:

জ্যানেট ব্রিটিন:

১৯ বছরের বর্ণাঢ্য টেস্ট ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের অন্যতম সফল ব্যাটার।
১৯৭৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৯ বছর বয়সে তার টেস্ট অভিষেক হয়।
১৯৮২ সালে নিউজিল্যান্ডে আন্তর্জাতিক একাদশের বিরুদ্ধে প্রথম ওডিআই সেঞ্চুরি করেন।
১৯৮৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে অপরাজিত ৪৬ সহ সর্বোচ্চ স্কোর।
১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জয়, আবার সর্বোচ্চ স্কোরিং এবং বিজয়ী ক্যাচ নেন।
২৭ টেস্ট ম্যাচে, তিনি তার রেকর্ড ১৯৩৫ রানের জন্য ৪৯.৬১ গড় এবং পাঁচটি শতরান করেছেন।
৬৩ টি ওয়ানডেতে ৪২.৪২ গড়ে ২১২১ রান করেছেন।
ওডিআই ক্যারিয়ারে ১৯৮২ সালে পাঁচটি সেঞ্চুরি এবং অপরাজিত ১৩৮ রানের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল।
২০১৭ সালে মাত্র ৫৮ বছর বয়সে মারা যান তিনি।

মাহেলা জয়াবর্ধনা:

১৯৯৭ সালে শ্রীলঙ্কার হয়ে টেস্ট অভিষেক হয়।
৫০.০৫ গড়ে ১১৮১৪ টেস্ট রান করেছেন।
৪৪৮ ওয়ানডেতে, তিনি ৩৩.৩৭ গড়ে ১২৬৫০ রান করেছেন।
৫৫ টি-টোয়েন্টিতে ১৪৯৩ রান করেছেন।
কুমার সাঙ্গাকারার সাথে, ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৬২৪ রানের বিশ্ব রেকর্ড পার্টনারশিপ করেছিলেন।
২০১৪ সালে আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।
শ্রীলঙ্কাকে আরও চারটি আইসিসির ইভেন্টে ফাইনালে পৌছাতে ভূমিকা রেখেছিলেন।
তিনি প্রথম শ্রীলঙ্কান হিসেবে ১০০০০ টেস্ট রান করেন।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

‘দলে আসবে না বড় কোন পরিবর্তন, মিরপুরে মিলবে ভালো উইকেট’

Read Next

জয়রথ ছুটছে সালমা-জাহানারাদের, এবার গড়লো রেকর্ড

Total
8
Share