হাসানের জন্য বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে পাকিস্তান মানতে নারাজ বাবর

হাসানের জন্য বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে পাকিস্তান মানতে নারাজ বাবর

‘পাপীকে নয়, পাপকে ঘৃণা কর’ বেশ চর্চিত এক প্রবাদ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেমি ফাইনালে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানি অধিনায়ক বাবর আজম যেনো সেটিই আরেকবার তুলে ধরলেন। ক্যাচ মিসে মোড় বদলেছে স্বীকার করলেও ক্যাচ মিস করা হাসান আলিকে ঠিকই আগলে রাখলেন। একই সুরে কথা বললেন দেশটির কিংবদন্তী ওয়াসিম আকরামও।

পাকিস্তানের দেওয়া ১৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ১০০ এর আগেই ৫ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে ম্যাথু ওয়েড ও মার্কাস স্টয়নিসের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে ফাইনাল নিশ্চিত হয় অজিদের। শেষদিকে কঠিন হয়ে পড়া ম্যাচ বের করেন ম্যাথু ওয়েড, তার আগে জীবন পান হাসান আলির হাতে।

এমনিতে বল হাতে দিনটা খারাপ যায় হাসানের। ৪ ওভারে ৪৪ রান খরচ করে ছিলেন উইকেট শূন্য। শেষ ২ ওভারে অজিদের প্রয়োজন ২২ রান। যা শাহীন শাহ আফ্রিদির করা ১৯তম ওভারেই নিয়ে নেয় ওয়েড-স্টয়নিস। যেখানে ওয়েডেরই ২০ রান।

ওভারের তৃতীয় বলে ডিপ মিড উইকেটে তার ক্যাচ ছাড়েন হাসান, তখন তার ব্যক্তিগত রান ২১! দলের প্রয়োজন ১০ বলে ২১। হাসানের হাতে জীবন পেয়ে টানা ৩ ছক্কা হাঁকিয়ে ওয়েড দল জেতান ৬ বল আগেই।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক বাবর আজম অবশ্য কোনভাবেই হাসানকে দায়ী করতে রাজি নন। তবে ক্যাচ মিসে ক্ষতি হয়েছে সেটি স্বীকার করেছেন অকপটে।

বাবর বলেন, ‘ক্যাচটি হয়ে গেলে, আমার মনে হয়, চিত্রটা ভিন্ন হত। তবে ক্যাচ মিস খেলার অংশ। আমরা ভুল থেকে যত শিখব, আমাদের জন্য তত ভালো হবে। দিন দিন শেখার এবং সেগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা থাকবে আমাদের।’

‘হাসানের জন্য পাকিস্তান এই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে? আমার তা মনে হচ্ছে না। সে আমার মূল বোলার। পাকিস্তানকে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছে। একজন খেলোয়াড়ের হাত থেকে ক্যাচ ছুটতেই পারে। কিন্তু যেভাবে সে লড়াই করছে, আমি তার পাশে থাকবই। কারণ, সে আমাদের মূল বোলার এবং সব সময় ম্যাচ জিতিয়েছে।’

এদিকে পাকিস্তানের সাবেক তারকা পেসার ওয়াসিম আকরাম হাসানের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানি টিভি চ্যানেল ‘এ স্পোর্টসের’ ম্যাচ বিশ্লেষণী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা যা চাইনা তা হলো হাসান আলির বাজে দিনে পুরো দেশ তার পেছনে লাগা। আমি নিজে ও ওয়াকার ইউনুসও এসবের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। অন্য দেশের লোকদের কাছে এটি কেবলই একটা খেলা। পরের দিন আপনি বলবেন ভালো চেষ্টা করেছো, দুর্ভাগ্য, পরের বারের জন্য শুভ কামনা এবং সামনে এগিয়ে যাও।’

‘এমন পরিস্থিতি খেলোয়াড়ের জন্য খুবই কঠিন যেমনটা ফ্যানদের জন্য। খেলোয়াড়েরা তাদের রুমে যাবে, তারা একদম শান্ত হয়ে যাবে, পরিবারের সাথেও ঠিকঠাক কথা বলবেনা, পরাজয় তাদের গ্রাস করবে। জাতি হিসেবে আগুনে ফুয়েল দেওয়াটা আমরা চাইনা।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

স্বপ্নের ফাইনালে খেলা হচ্ছে না ডেভন কনওয়ের

Read Next

আরও একটি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন সাকিব-রাকিবুল

Total
105
Share