অবসর ভাঙছেন শরীফ, পাচ্ছেন মাইলফলক ছোঁয়ার সুযোগ

মোহাম্মদ শরীফ

সুযোগ ছিল বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়ার। তবে গত বছর করোনা প্রভাবে থমকে যাওয়া পৃথিবীতে অনিশ্চিত ক্রিকেট ক্যারিয়ার আর টানতে চাননি মোহাম্মদ শরীফ। ঘোষণা দেন অবসরের। তবে দেড় বছরের বেশি সময় পর এসে আবারও মাঠে ফেরার জন্য প্রস্তুত শরীফ। খেলে যেতে চান আরও কয়েক বছর, ছুঁতে চান মাইলফলক।

২০২০ সালের ১১ এপ্রিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে বিদায় বলেন। স্থগিত হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল) ফের শুরু হলে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটকেও মাঠ থেকে বিদায় বলে দিতে চেয়েছেন। পরে ভিন্ন ফরম্যাটে সেটি মাঠে গড়ালেও দেখা যায়নি শরীফকে। মোদ্দা কথা খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনেই দেন, সাবেক ক্রিকেটার হয়ে চলতি বছর খেলে এসেছেন রোড ওয়ার্ল্ড সিরিজে বাংলাদেশ লেজেন্ডসের হয়ে।

খেলোয়াড়ি ভূমিকা পেছনে ফেলে কাজ শুরু করেন কোচ হিসেবে, বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম ও ব্যবসায়ের সাথেও জড়িয়ে পড়েন। তবে এবার নতুন করে সিদ্ধান্ত বদলালেন ৩৫ বছর বয়সী এই পেসার। সব ফরম্যাটের জন্যই নিজেকে আবারও উন্মুক্ত করলেন। ঘরোয়া ক্রিকেট যে খেলতে চান আরও কয়েক বছর, সাথে কোচিং নিয়েও চলবে কাজ।

যখন বিদায় বলেন তখন নামের পাশে ৩৯৩ প্রথম শ্রেণির উইকেট। যা বাংলাদেশী কোন পেসারের সর্বোচ্চ। বিদায় বেলায় কন্ঠে আক্ষেপের সুর ছিলো ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করতে না পারার। এবার ব্যাটে-বলে মিললে সে সুযোগ লুফে নেওয়ার অপেক্ষায় শরীফ।

ক্রিকেট৯৭‘ কে তিনি বলেন,

‘আসলে যখন অবসরের ঘোষণা দেই তখন চারদিকে অনিশ্চয়তা। করোণা প্রভাবে সবকিছু এলোমেলো, আবার কবে নাগাদ ঠিক হবে সেটা বুঝা যাচ্ছিলো না। তাই ঝুলে থাকা পরিস্থিতিতে পড়তে চাইনি। এখন সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে। আমার ফিটনেস লেভেলও সায় দিচ্ছে অন্তত আরও কিছুদিন খেলতে পারবো তাই সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছি।’

‘সব ফরম্যাটের জন্যই আমি এখন উন্মুক্ত। দলগুলোর সাথে কথা বার্তা চূড়ান্ত হলেই মাঠে নামার সুযোগ মিলবে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়। আমার কাছের লোকজনও আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে, মাত্র ৭ উইকেট হলেই প্রথম শ্রেণিতে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারবো। সে ভাবনাটাও কাজ করেছে এই পর্যায়ে এসে। ডিপিএলে আমি ব্রাদার্সের হয়ে খেলেছি সর্বশেষ। আগামী মৌসুমেও তাদের হয়ে খেলতে যাচ্ছি সব ঠিক থাকলে।’

আবার খেলোয়াড়ি জীবনে ফিরলে কোচিং নিয়ে কাজ করার ব্যাপারটি কি হবে? এমন প্রশ্নে শরীফ জানালেন দুটোই চলবে সমান তালে।

তিনি বলেন,

‘আমিতো গত দুই বছর ধরেই কোচিং নিয়ে কাজ করছি। লেভেল-১ করা আছে লেভেল-২ কোর্স সম্পন্নের প্রস্তুতিও নিচ্ছি। নারায়ণগঞ্জে একটি ক্লাবের প্রধান কোচ ও খেলোয়াড় দুই ভূমিকাতে দায়িত্ব পালনও করছি।’

উল্লেখ্য, কিশোর বয়সে ২০০০ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক এই পেসারের। বল হাতে ছিলেন দারুণ সম্ভাবনাময়। বিশেষ করে পুরোনো বলে দাপুটে ছিলো তার বোলিং। ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর বাংলাদেশের জার্সিতে ক্যারিয়ারটা (১০ টেস্ট, ৯ ওয়ানডে) অবশ্য লম্বা হয়নি চোটের কারণে। পরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ছিলেন ধারাবাহিক পারফর্মার।

জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা আক্ষরিক অর্থেই যখন নেই হয়ে যায় তখনো ভালোবেসের খেলে গেছেন ঘরোয়া ক্রিকেট। ১৩২ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৩৯৩ উইকেট, ব্যাট হাতেও আছে ১ সেঞ্চুরি ১০ ফিফটিতে ৩২২২ রান। ১১৯ লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে উইকেট ১৮৫ টি, রান করেছেন ১০২৯।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বাংলাদেশ সফরের জন্য পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড ঘোষণা

Read Next

সহজ জয় দিয়ে বিশ্বকাপ পর্ব শেষ করলো ভারত

Total
3
Share