ক্যাচ মিসের মাশুল দিয়ে হারল বাংলাদেশ

ক্যাচ মিসের মাশুল দিয়ে হারল বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ অভিষ্কা ফার্নান্দো ও চামিকা করুণারত্নের ব্যাটে হেরেছে বাংলাদেশ। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচেও একইভাবে হারতে হল বাংলাদেশকে। এবার ফার্নান্দো-করুণারত্নের ভূমিকায় চারিথ আসালাঙ্কা ও ভানুকা রাজাপাকশে। দুজনের ম্যাচ জেতানোর পথে কাজটা সহজ করে দিয়েছেন ব্যাট হাতে ব্যর্থ টাইগার ওপেনার লিটন দাস, ছেড়েছেন সহজ দুই ক্যাচ।

টস হেরে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ নাইম শেখ (৬২)ও মুশফিকুর রহিমের (৫৭*) জোড়া ফিফটিতে পায় ৪ উইকেটে ১৭১ রানের পুঁজি। জবাবে আসালাঙ্কা-রাজাপাকশের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় লঙ্কানরা। দুজনেই পান ফিফটির দেখা। ৮০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন আসালাঙ্কা।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

শ্রীলঙ্কার উদ্বোধনী জুটি ইনিংসের প্রথম ওভারেই ভাঙেন ৩ ম্যাচ পর একাদশে ফেরা নাসুম আহমেদ। তবে কুশল পেরেরাকে (১) হারানোর ক্ষত বেশিক্ষণ বয়ে বেড়ায়নি লঙ্কানরা। পাথুম নিশাঙ্কা ও আসালাঙ্কার ব্যাটে পথ খুঁজে নেয় সহজেই।

নিশাঙ্কার চেয়ে আসালাঙ্কা ছিলেন আক্রমণাত্মক। পাওয়ার প্লেতেই স্কোরবোর্ডে ৫৪ রান। দুজনে মিলে ৬৯ রান যোগ করেন জুটিতে। ২৪ রান করা নিশাঙ্কাকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন সাকিব।

আর তাতে শহীদ আফ্রিদিকে পেছনে ফেলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এককভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বনে যান টাইগার অলরাউন্ডার। একই ওভারে নতুন ব্যাটসম্যান অভিষ্কা ফার্নান্দোকেও (০) বোল্ড করেন।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

পরের ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ফেরান হাসারাঙ্গাকে (৬)। তাতে ৮ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪ উইকেটে ৭৯ রানে পরিণত হয় শ্রীলঙ্কা। ততক্ষণে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে প্রয়োজনীয় রানও।

কিন্তু সে চাপ কমানোর কাজটা করেন শুরু থেকেই চড়াও হওয়া আসালাঙ্কা। ৩১ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি, ফিফটির পর আরও গতিশীল তার ব্যাট। সঙ্গী হিসেবে পান রাজাপাকশেকে। ব্যক্তিগত ১৫ রানে আফিফের বলে স্কয়ার লেগে রাজাপাকশের সহজ ক্যাচ ছাড়েন লিটন।

পরে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মুস্তাফিজের বলে আসালাঙ্কার (তখন ব্যক্তিগত ৬৩ রান)ক্যাচও ছাড়েন লিটন। অমন সুযোগ পেয়ে আসালাঙ্কা-রাজাপাকশে দলকে প্রাপ্য জয় এনে দিতে খুব বেশি সময় নেননি।

দলকে জয় থেকে ৭ রান দূরে রেখে রাজাপাকশে ফেরেন ৩১ বলে সমান ৩ টি করে চার-ছক্কায় ৫৩ রান করে। ৫ উইকেট ও ৭ বল হাতে রেখে দলকে জয় এনে দেওয়ার পথে ৪৯ বলে সমান ৫ টি করে চার-ছক্কায় আসালাঙ্কার ব্যাটে অপরাজিত ৮০ রান।

এর আগে ৫.৫ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে দুই টাইগার ওপেনার লিটন দাস ও নাইম শেখ তোলেন ৪১ রান। যদিও যথারীতি ব্যর্থ লিটন, ফিরেছেন ১৬ বলে ১৬ রান করে।

দারুণ ফর্মে থাকা সাকিব আজ ভালো শুরু পেয়েও বেশিক্ষণ টিকেননি (৭ বলে ১০)। তবে অন্য প্রান্তে নাইম ছিলেন সহজাত।

ব্যাট হাতে খারাপ সময় কাটানো মুশফিকুর রহিম ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে স্লগ সুইপে ছক্কা হাঁকিয়ে যেনো বার্তা দিলেন আজ রানে ফিরছেন। বাঁহাতি পেসার ভিনুরা ফার্নান্দোকে হাঁকানো দ্বিতীয় ছক্কায়ও ছিলো আত্মবিশ্বাসের রসদ।

৪৪ বলে এবারের বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন নাইম। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে অবশ্য তাকে ফেরানোর সহজ সুযোগ পায় লঙ্কানরা, সরাসরি থ্রোতে রান আউট করতে ব্যর্থ হয়।

ততক্ষণে আরও চড়াও হন মুশফিক। তবে অন্য প্রান্তে নাইম ৫২ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলে আউট হলে ভাঙে ৭৩ রানের জুটি।

বাকি সময় আফিফ হোসেন (৭), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে (১০*) নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন মুশফিক। ৩২ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় ফিফটি। মুশফিক শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৩৭ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় ৫৭ রানে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

এক দিনে দুই হ্যাটট্রিক দেখল এনসিএল

Read Next

সুযোগ মিস না হলে গল্পটা অন্যরকম হতে পারতো বলছেন রিয়াদ

Total
9
Share