সুপার টুয়েলভের শুরু থ্রিলারে; শেষের রোমাঞ্চে জিতল অস্ট্রেলিয়া

সুপার টুয়েলভের শুরু থ্রিলারে; শেষের রোমাঞ্চে জিতল অস্ট্রেলিয়া

জমজমাট লড়াইয়ে শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্ব। শেষের থ্রিলারে ২ বল বাকি থাকতে অস্ট্রেলিয়া পেল ৫ উইকেটের জয়। তবে ১১৮ রানের সংগ্রহ নিয়েও ম্যাচের রাশ দারুণভাবে ঘুরিয়ে দিয়েছিল নরকিয়া, শামসিরা। স্টয়নিস-ওয়েডের ব্যাটে রক্ষা হয় অজিদের। স্বস্তির জয়ে বিশ্বকাপ শুরু অ্যারন ফিঞ্চদের। বল হাতে আলো ছড়ানো হ্যাজেলউড, পেলেন ম্যাচ সেরার পুরষ্কার।

সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচে আবু-ধাবিতে টসে জিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ শুরুতে ব্যাটিং করতে পাঠিয়েছিলেন প্রোটিয়াদের। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১৮ রানে থামল দক্ষিণ আফ্রিকা। সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস আসে এইডেন মার্করামের ব্যাট থেকে।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ দুই ওপেনারই। উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গে ১৩ রানে। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ফিরে যান দ্বিতীয় ওভারে, ম্যাক্সওয়েলের বলে বোল্ড হওয়ার আগে করেন ১২ রান। দুর্ভাগা বলতে হয় কুইন্টন ডি কককে (৭)। রান পাননি ভ্যান ডার ডুসেন (২)।

লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও হেনরিখ ক্লাসেন (১৩) থামিয়ে দেন প্যাট কামিন্স। তবে এক প্রান্তে সচল থেকে দারুণ সব স্ট্রোক খেলে দলের সংগ্রহ এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন এইডেন মার্করাম। তবে স্টার্কের বলে ক্যাচ তুলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মার্করাম। ৪০ রানের ইনিংস সাজান ৩ চার ও ১ ছয়ে। দলীয় ৯৮ রানে মার্করাম আউট হলে দক্ষিণ আফ্রিকার বড় সংগ্রহের আশা শেষ হয়ে যায়।

শেষদিকে কাগিসো রাবাদার ব্যাট থেকে আসে ১৯* রান। ১১৮ রানে থামে প্রোটিয়াদের ইনিংস।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে ২টি করে উইকেট পান  জশ হ্যাজেলউড, অ্যাডাম জাম্পা ও মিচেল স্টার্ক। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন প্যাট কামিন্স ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। আনরিখ নরকিয়ার প্রথম আঘাত অজি শিবিরে, কোন রান করার আগেই ফিরতে হয় অ্যারন ফিঞ্চকে। এরপর তিনে নামা মিচেল মার্শকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন ডেভিড ওয়ার্নার। কাগিসো রাবাদার বলে ক্যাচ তুলে ফেরেন ১৪ রান করা ওয়ার্নার।

ইনিংস বড় হয়নি মিচেল মার্শেরও। ১৭ বলে ১ চারের সাহায্যে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে স্বস্তি ফেরান স্টিভ স্মিথ। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তবে সেই নরকিয়ার হাত ধরেই ব্রেকথ্রু পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। আনরিখ নরকিয়ার বলে অনবদ্য এক ক্যাচে ৩৫ রান করা স্মিথকে থামান এইডেন মার্করাম।

পরের ওভারে এসেই ঝলক দেখান তাব্রাইজ শামসি। বোল্ড করেন গ্লেন  ম্যাক্সওয়েলকে। ২১ বলে কেবল ১ চারের সাহায্যে ১৮ রান করেন ম্যাক্সওয়েল। ৮১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তুলেন মার্কাস স্টয়নিস ও ম্যাথু ওয়েড।

এই দুইয়ের ব্যাট হয়নি আর কোন বিপদ। শেষ ওভারে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ৮ রান। ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের করা ওভারে প্রথম বলেই আসে ২। দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয়ের পথ সহজ করেন স্টয়নিস। তৃতীয় বলে কোন রান না আসলেও, পরের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন মার্কাস স্টয়নিস।

২ বল বাকি থাকতে অস্ট্রেলিয়া সংগ্রহ করে ১২১ রান। মার্কাস স্টয়নিস ১৬ বলে করেন ২৪ রান। আর ম্যাথু ওয়েড অপরাজিত থাকেন ১৫ রানে।

প্রোটিয়াদের হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন আনরিখ নরকিয়া। এছাড়া রাবাদা, মহারাজ ও শামিসর শিকার ১টি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ (১৩তম ম্যাচ)

দক্ষিণ আফ্রিকাঃ ১১৮/৯ (২০ ওভার) বাভুমা ১২,ডি কক ৭, মার্করাম ৪০, ক্লাসেন ১৩, মিলার ১৬, রাবাদা ১৯*; হ্যাজেলউড ২/১৯, জাম্পা ২/২১, স্টার্ক ২/৩২, কামিন্স ১/১৭, ম্যাক্সওয়েল ১/২৪

অস্ট্রেলিয়াঃ ১২১/৫ (১৯.৪ ওভার) ফিঞ্চ ০, ওয়ার্নার ১৪, মার্শ ১১, স্মিথ ৩৫, ম্যাক্সওয়েল ১৮, স্টয়নিস ২৪*, ওয়েড ১৫*; নরকিয়া ২/২১, রাবাদা ১/২৮, মহারাজ ১/২৩, শামসি ১/২২

ফলাফলঃ অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরাঃ জশ হ্যাজেলউড (অস্ট্রেলিয়া)।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

ওয়াসিমের চোখে ভারতের গেম চেঞ্জার সুরিয়াকুমার

Read Next

ভক্ত ডোমিঙ্গো শেখ মেহেদীকে বললেন ‘একের ভেতর তিন’

Total
1
Share