সাকিব নৈপুণ্যে বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জয়

সাকিব নৈপুণ্যে বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জয়
Vinkmag ad

পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য নানা দিক থেকেই অর্থবহ ছিলো। সুপার টুয়েলভে যেতে আবশ্যিক জয়ের পাশাপাশি নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার মোক্ষম সুযোগও ছিল। ব্যাটে-বলে সাকিব আল হাসানের আরও এক দাপুটে দিনে অসহায় আত্মসমর্পণ পাপুয়া নিউ গিনি। বাংলাদেশ পেয়েছে ৮৪ রানের জয়। যা রানের দিক থেকে টি-টোয়েন্টিতে টাইগারদের সবচেয়ে বড় জয়।

সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের গড়ে দেওয়া ভীতের পর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও আফিফ হোসেনের ছোট্ট ক্যামিওতে ৭ উইকেটে ১৮১ রানের পুঁজি টাইগারদের। সাকিব ৪৬, মাহমুদউল্লাহ করেন ৫০ রান।

জবাবে সাকিবের স্পিন ঘূর্ণিতে ৫৪ রানে ৮ উইকেট হারানো পাপুয়া নিউ গিনি শেষ পর্যন্ত ৯৭ রান পর্যন্ত যেতে পারে কিপ্লিন ডরিগার অপরাজিত ৪৬ রানে। ৪ ওভারে ৯ রান খরচায় ৪ উইকেট সাকিবের।

ওমানের আল আমেরাত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ইনিংসের শুরুতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে জীবন পেয়ে ফিফটি হাঁকানো নাইম শেখ এদিনও ইনিংসের প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান। তবে এবার সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ, পরের বলেই ফ্লিক করতে গিয়ে নিরীহ এক ডেলিভারিতে ক্যাচ দেন স্কয়ার লেগে।

টানা দুই ম্যাচে ব্যর্থ লিটন দাস এদিন আভাস দেন ছন্দে ফেরার। সাকিব আল হাসানের সাথে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৫০ রান যোগও করেন। পাওয়ার প্লেতে আসে ১ উইকেটে ৪৫ রান।

কিন্তু পাপুউয়া নিউ গিনি অধিনায়ক আসাদা ভালা বোলিংয়ে এসেই ফেরান লিটনকে। অনেকটা আলসেমি ঢঙে খেলা স্লগ সুইপে ক্যাচ ডিপ মিড উইকেটে। ২৩ বলে সমান একটি করে চার, ছক্কায় থেমেছেন ২৯ রানে।

সাকিব এক পাশ আগলে রেখে সাবলীল ব্যাটিং করলেও আরেক দফা ব্যর্থ মুশফিকুর রহিম। এদিনে আটকে যান ৮ বলে ৫ রানেই। এরপর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে ২৯ রানের জুটি। এ দফায় জুটি ভাঙে আসাদ ভালাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে চার্লস আমিনির দুর্দান্ত এক ক্যাচে পরিণত হয়ে সাকিব ফিরলে। তার আগে নামের পাশে ৩৭ বলে ৩ ছক্কায় ৪৬ রান।

তবে বাংলাদেশ ইনিংসের পরের গল্প জুড়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের আধিপত্য। আফিফ হোসেনকে নিয়ে গড়েন ২৩ বলে ৪৩ রানের জুটি, যেখানে আফিফের অবদান ছিল মাত্র ৬। ২৭ বলে সমান ৩ চার, ছক্কায় ফিফটিও ছুঁয়ে ফেলেন। চাদ সোপারের করা ১৭তম ওভারেই ২ ছক্কা, ১ চারে নেন ১৯ রান। তবে ফিফটির পর আর বেশি দূর যেতে পারেননি টাইগার দলপতি।

এরপর অবশ্য আফিফের ১৪ বলে ২১ রান ও সাইফউদ্দিনের ব্যাটে আসে ৬ বলে অপরাজিত ১৯ রান। শেষ ওভারে ২০ ও শেষ ৫ ওভারে ৬৮ রান যোগ হয় বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে।

১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে যাচ্ছে তাই ব্যাটিং পাপুয়া নিউ গিনি ব্যাটসম্যানদের। সাকিবের স্পিনের সাথে তাসকিন আহমেদ, সাইফউদ্দিনন্দের তোপে দুই অঙ্ক না ছুয়েই আউট হয়েছেন প্রথম ৭ ব্যাটসম্যান। ১১ রান করে ৮ম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন চাদ সোপার।

এরপর পাপুয়া নিউ গিনির ইনিংস একাই টেনে নেন ডরিগা। তাতে অবশ্য দলের লাভ কিছু হয়নি। যদিও কমেছে হারের ব্যবধান, ৩৪ বলে সমান দুইটি করে চার, ছক্কায় ৪৬ রান তার ব্যাটে। পাপুয়া নিউ গিনি অল আউট হওয়ার আগে থামে ৯৭ রানে।

এদিন সাকিব ৪ উইকেট নিয়ে শহীদ আফ্রিদির সাথে যৌথভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বনে যান। দুজনেই শীর্ষে আছেন ৩৯ উইকেট নিয়ে। যেখানে মাত্র ১ উইকেট নিলেই শীর্ষস্থান এককভাবে দখলে নেবেন সাকিব।

সাকিব ছাড়া বাংলাদেশের হয়ে দুইটি করে উইকেট নেন সাইফউদ্দিন ও তাসকিন। স্পিনার শেখ মেহেদীর শিকার এক উইকেট।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন প্যাটিনসন

Read Next

সমালোচনা করতে গিয়ে রিয়াদদের ছোট না করার অনুরোধ

Total
1
Share