পাপুয়া নিউ গিনির ইতিহাস, নাকি বাংলাদেশের স্বস্তির নিঃশ্বাস

পাপুয়া নিউ গিনির ইতিহাস, নাকি বাংলাদেশের স্বস্তির নিঃশ্বাস
Vinkmag ad

ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। চলতি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে বাংলাদেশ পড়েছিল তুলনামূলক সহজ ‘বি’ গ্রুপেই। যেখানে স্কটল্যান্ড, ওমান ও পাপুয়া নিউ গিনি তিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই জয় ছিল প্রত্যাশিত। তবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হেরেই যত বিপত্তি! ওমানের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের পর আজ (২১ অক্টোবর) পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে আবশ্যিক জয়ের ম্যাচ। সমীকরণ এড়িয়ে সুপার টুয়েলভ নিশ্চিতে এই ম্যাচে অন্তত ৩ রানে জিততে হবে টাইগারদের।

গাণিতিকভাবে এই ম্যাচে হেরেও সুপার টুয়েলভে যাওয়ার সম্ভব বাংলাদেশের। তবে সে অংক কষতে গেলে মাথার চুলই ছিঁড়তে হবে। একই রকম হিসাব নিকাশে আগের দুই ম্যাচে হারা পাপুয়া নিউ গিনিও বাংলাদেশকে হারিয়ে সুপার টুয়েলভে যেতে পারে। তবে পথটা এতটাই কঠিন যে পাপুয়া নিউ গিনি সুপার টুয়েলভের চিন্তা এক পাশে রেখে কেবল বাংলাদেশের বিপক্ষে গর্ব করা ও ইতিহাস গড়ার মতো একটা জয়েই চোখ রাখছে।

পাপুয়া নিউ গিনি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বধের তৃপ্তি, গৌরব নিয়ে দেশে ফিরতে পারবে কিনা সেটা সময়ই বলে দিবে। তবে এই ম্যাচে জয়ে গৌরব তো নয় বরং হারলে দেশেই ফিরে আসার সম্ভাবনা টাইগারদের। বাংলাদেশ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার মর্যাদা পাওয়া এবং টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এবারই প্রথম পাপুয়া নিউ গিনির মুখোমুখি হচ্ছে। এর আগে আইসিসির সহযোগী সদস্য হিসেবে নিয়মিতই দেখা হত পাপুয়া নিউ গিনির সাথে। ১৯৮২ সালের আইসিসি ট্রফিতে তো বাংলাদেশকে হারিয়েই তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল।
তবে ততদিনে বাংলাদেশ ক্রিকেট যে চূড়ায় পৌঁছেছে সে পথে যাত্রাই করতে পারেনি পাপুয়া নিউ গিনি। দুই যুগের বেশি সময় পর বাংলাদেশের মুখোমুখি হতে পারাটাই তাদের চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক এনে দিচ্ছে।
দলটির অলরাউন্ডার চার্লস আমিনি তো গতকাল (২০ অক্টোবর) ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে গেলেন সাকিব আল হাসান সহ বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের সাথে কথা বলতেই মুখিয়ে তারা।

আমিনি বলেন,

‘আমাদের প্রধান কাজ হবে ম্যাচটা জেতা। কারণ জিতলে আমাদের জন্য ইতিহাস তৈরি হবে। জয়ের চেষ্টা করাটাই আমাদের হাতে। এর বাইরে কোন কিছু তো আমাদের হাতে নেই। তাই আমরা আগামীকালের সুযোগটাতে সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করতে চাই। এরপরে তো রান রেটের হিসাব আছে, এটাও আমাদের হাতে নেই্। ওটা এখন খুব শক্তও। আমরা শুধু একটা জয় আশা করছি।’

‘অবশ্যই আমি বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলতে পছন্দ করবো। বিশেষ করে সাকিবের সঙ্গে। সম্প্রতি সে বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি উইকেট টেকার হয়েছে এবং সে আমার মতো বাঁহাতি। সে অনেক অভিজ্ঞ, বিশ্বজুড়েই খেলেছে। আমি তার সঙ্গে একটু আলাপ করতে চাই, ক্রিকেটে তার চিন্তা, কি রুটিনে কাজ করেন এসব নিয়ে কথা বলতে চাই। শুধু তাই না আমরা সব বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের থেকেই কিছু শিখতে চাই।’

বাংলাদেশ আগের দুইটি ম্যাচই খেলেছে ফ্লাডলাইটের নিচে। ওমান আল আমেরাত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ দুইটি মাঠে গড়ায় বাংলাদেশ সময় রাত ৮ টায়। তবে আজ পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল ৪ টায়।
পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেমন হবে বাংলাদেশ দলের কৌশল। একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে কিনা সেসব কিছুই জানা যায়নি। কারণ ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি আসেননি নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও। ফলে একটা সময় সংবাদ সম্মেলন বয়কট করতে বাধ্য হয় ওমানে বিশ্বকাপ কাভার করতে যাওয়া বাংলাদেশী সাংবাদিকরা।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ওয়ার্নারের পড়তি ফর্ম ও ম্যাক্সওয়েলের ভাবনা

Read Next

ভারতের বিশ্বকাপ দলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ স্মিথ

Total
4
Share