সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বাংলাদেশের কষ্টার্জিত জয়

সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বাংলাদেশের কষ্টার্জিত জয়
Vinkmag ad

বাংলাদেশকে রুখে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে ওমান এমন বার্তা দিয়েছিল আগেই। ম্যাচে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ ইনিংস তো বটেই নিজেদের ব্যাটিং ইনিংসেও একটা সময় পর্যন্ত এগিয়ে ছিল ওমান। কিন্তু শেষদিকে খেই হারিয়ে অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে হারতে হয়েছে ২৬ রানের বড় ব্যবধানেই।

আগের ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে হারায় এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুপার টুয়েলভসে খেলতে বাংলাদেশের জন্য বাঁচা মরার লড়াই ছিল ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ।

ওমানের আল আমেরাত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ। দুইবার জীবন পেয়ে নাইম শেখের ৬৪ ও সাকিব আল হাসানের ৪২ রানে ভর করে ১৫৩ রানের পুঁজি পায় টাইগাররা।

জবাবে ক্যাচ মিসের খেসারত দেওয়ার শঙ্কায় ছিল বাংলাদেশ। জীবন পেয়ে নাইমের ভূমিকা পালনের পথেই ছিলেন ওমান ওপেনার যতীন্দর সিং। তবে সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, শেখ মেহেদী হাসানদের তোপে থামতে হয় ৯ উইকেটে ১২৭ রানে রানে।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ওমান ইনিংসের প্রথম ওভারেই আসে ১২ রান। তবে পরের ওভারেই মুস্তাফিজ তুলে নেন ওপেনার আকিব ইলিয়াসকে (৬)। ইলিয়াসের বিদায়েও অবশ্য রান তোলাতে গতি কমেনি ওমানের। যতীন্দর সিং ও ক্যাশব প্রজাপতি মিলে যোগ করেন ৩৪ রান।

দারুণ কিছুর আভাস দিয়ে প্রজাপতি অবশ্য ফেরেন মুস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ২১ রান করে। ততক্ষণ যতীন্দরের (১১ রানে) সহজ ক্যাচ মিস করেন টাইগার দলপতি মাহমুদউল্লাহ। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেটে ৪৭ ওমানের স্কোরবোর্ডে।

এরপর অধিনায়ক জিসান মাকসুদের (১২) সাথে যতীন্দর সিংয়ের আরও ৩৪ রানের জুটি ওমানের জয়ের স্বপ্ন বড় করে। তবে পর পর দুই ওভারের দুইজনই বিদায় নিলে আর জয়ের পথে ছুটতে পারেনি ওমান। জীবন পেয়ে ৩৩ বলে ৪০ রানে থামেন যতীন্দর।

এরপর ৩১ রান তুলতেই ওমান হারিয়েছে ৭ উইকেট। শেষদিকে মোহাম্মদ নাদিমের অপরাজিত ১৪ রানে কেবল হারের ব্যবধান কমেছে। ৯ উইকেটে ১২৭ রানে ওমানকে আটকে দেওয়ার পথে মুস্তাফিজের শিকার ৪ উইকেট। ৩ টি নেন সাকিব, একটি করে উইকেট শেখ মেহেদী ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দারুণ ব্যর্থ বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপ। সৌম্য সরকারের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পেয়েই দলের মান বাঁচানো ৬৪ রানের ইনিংস নাইমের। তবে শুরুটা ছিল বেশ অস্বস্তিতে মোড়ানো। অন্য প্রান্তে আরেক ওপেনার লিটন দাস (৬) তো জীবন পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ।

দ্রুত রান তুলতে শেখ মেহেদী হাসানকে ৩ নম্বরে তুলে আনা হয়। তবে ফাইয়াজ বাটের দারুণ এক ফিরতি ক্যাচে পরিণত হয়ে খালি হাতেই বিদায় নেন।

২১ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেসকে পথ দেখায় সাকিব আল হাসান ও নাইম শেখের ৮০ রানের জুটি। সাকিব বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তোলার চেষ্টা করলেও নাইম ছিলেন আগের মতই ধীর। মাঝে ব্যক্তিগত ১৯ ও ২৬ রান তার ক্যাচও মিস করে ওমান ফিল্ডাররা।

জীবন পেয়ে অবশ্য কাজে লাগান এই বাঁহাতি। প্রথম ২০ বলে ১৬ রান করা নাইম ফিফটি ছুঁয়েছেন ৪৩ বলে। তবে তার আগেই বিদায় নেন সাকিব, রান আউট হন ২৯ বলে ৬ চারে ৪২ রান করে।

এরপর চলেছে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিল। নাইমও টিকেননি বেশিক্ষণ, ৫০ বলে ৩ চার চার ছক্কায় ৬৪ রান আসে তার ব্যাটে। অদ্ভুত ব্যাটিং লাই আপে ৭ ও ৮ নম্বরে নামা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১৭) ও মুশফিকুর রহিমও (৬) হয়েছেন ব্যর্থ।

ইনিংসের শেষ বলে বাংলাদেশকে অলআউট করার পথে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট বিলাল খান ও ফাইয়াজ বাটের। দুইটি নেন কলিমুল্লাহ। ৫২ রানে শেষ ৮ উইকেট হারিয়েছে টাইগাররা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ১৫৩/১০ (২০), নাইম ৬৪, লিটন ৬, মেহেদী ০, সাকিব ৪২, নুরুল ৩, আফিফ ১, মাহমুদউল্লাহ ১৭, মুশফিক ৬, সাইফউদ্দিন ০, তাসকিন ১, মুস্তাফিজ ২; বিলাল ৪-০-১৮-৩, কলিমুল্লাহ ৪-০-৩০-২, ফাইয়াজ ৪-০-৩০-৩, জিশান ২-০-১৭-১

ওমান ১২৭/৯ (২০), আকিব ৬, যতীন্দর ৪০, প্রজাপতি ২১, জিশান ১২, আয়ান ৯, স্বন্দ্বীপ ৪, নাসিম ৪, কলিমুল্লাহ ৫, নাদিম ১৪*, ফাইয়াজ ০, বিলাল ০*; মুস্তাফিজ ৪-০-৩৬-৪, সাইফউদ্দিন ৪-০-১৬-১, সাকিব ৪-০-২৮-২৩, মেহেদী ৪-০-১৪-১

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ২৬ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সাকিব-নাইমের ব্যাটে রান, তবুও স্কোরবোর্ডে ১৫৩

Read Next

হৃদয় দিয়ে খেলা ওমানের জন্য সাকিবের শুভ কামনা

Total
7
Share