সাকিব-নাইমের ব্যাটে রান, তবুও স্কোরবোর্ডে ১৫৩

সাকিব-নাইমের ব্যাটে রান, তবুও স্কোরবোর্ডে ১৫৩
Vinkmag ad

বাংলাদেশকে রুখে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে ওমান এমন বার্তা দিয়েছিল আগেই। আজ (১৯ অক্টোবর) ম্যাচ শুরু হতেই সে পথেই আছে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক দেশটি। বিশ্বকাপে টিকে থাকতে জয়ের বিকল্প নেই এমন ম্যাচে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশকে আটকে দিল ১৫৩ রানে।

যেভাবে ওমান বোলাররা বাংলাদেশকে চেপে ধরেছিল তাতে এই পুঁজি পাওয়াটাও কঠিন হতো যদিনা নাইম শেখের দুই দফা ক্যাচ মিস না হতো। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করা নাইম জীবন পান ব্যক্তিগত ১৯ ও ২৬ রানে।

বাংলাদেশকে মাঝারি মানের সংগ্রহ এনে দিতে সাকিব আল হাসানেরও আছে বড় অবদান। তার ব্যাটে আসে ৪২ রান। এলোমেলো ব্যাটিং অর্ডারে আর কেউই দাঁড়াতে পারেনি।

দুই ওপেনার নাইম শেখ ও লিটন দাস শুরু থেকেই ছিলেন অস্বস্তিতে। নিজের মোকাবেলা করা প্রথম বলেই লিটনকে আউট দেন আম্পায়ার। কলিমুল্লাহ খানের খানিক বেরিয়ে যাওয়া বল উইকেট রক্ষকের হাতে যাওয়ার আগে লিটনের ব্যাট না ছোঁয়াতে রিভিউ নিয়ে বাঁচেন।

ব্যক্তিগত ৪ রানেও জীবন পান লিটন, স্কয়ার লেগে তার ক্যাচ ছাড়েন ক্যাশপ প্রজাপতি। কিন্তু পরের বলেই তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন পেসার বিলাল খান। যদিও আম্পায়ার শুরুতে আউট না দিলে রিভিউ নেয় ওমান। লিটনের উইকেট হারিয়ে প্রথম ৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ১১।

শুরু থেকেই টি-টোয়েন্টি বিরুদ্ধ ব্যাটিং নাইমের। প্রথম ১২ বলে ৩ রান, এরপর টানা দুই বাউন্ডারি পেয়েও প্রথম ২০ বলে নামের পাশে ১৬ রান। আগের ম্যাচে খেলা সৌম্য সরকারের পরিবর্তে এই ম্যাচে একাদশে জায়গা মেলে নাইমের।

দ্রুত রান তুলে দিতে লিটনের বিদায়ের পর ৩ নম্বরে নামেন শেখ মেহেদী হাসান। পেসার ফাইয়াজ বাটকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে কোনো রান করেই সাঝঘরের পথ ধরেন মেহেদী। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ২৯ রান।

এরপরও রানের গতি খুব একটা বাড়েনি। কিছুটা সময় নিয়ে অবশ্য সাকিব আল হাসান হাত খোলার চেষ্টা করেন। ৩৯ বলে দুজনের জুটির ফিফটিও হয়ে যায়।

দুইবার জীবন পেয়ে নাইমও ইনিংস লম্বা করার চেষ্টা করেন। ১২তম ওভারে সাকিবের টানা ২ চার, নাইমের এক ছক্কা। ১৩.১ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ১০০।

৫৩ বলে প্রথম ৫০ রান করা বাংলাদেশ পরের ৫০ তোলে ২৯ বলে। তবে ঐ ওভারেই আকিব ইলিয়াসের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হন ২৯ বলে ৬ চারে ৪২ রান করে। ভাঙে নাইমের সাথে ৮০ রানের জুটি।

জিশান মাকসুদকে চার মেরে ৪৩ বলে ফিফটি ছুঁয়েছেন নাইম। তবে এরপর নুরুল হাসান সোহান (৩) ও আফিফ হোসেনের (১) সাথে নিজেও টিকেননি বেশিক্ষণ। ৫০ বলে ৩ চার চার ছক্কায় ৬৪ রান আসে তার ব্যাটে। অদ্ভুত ব্যাটিং লাই আপে ৭ ও ৮ নম্বরে নামা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১৭) ও মুশফিকুর রহিমও (৬) হয়েছেন ব্যর্থ।

ইনিংসের শেষ বলে বাংলাদেশকে অলআউট করার পথে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট বিলাল খান ও ফাইয়াজ বাটের। দুইটি নেন কলিমুল্লাহ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম ইনিংস শেষে):

বাংলাদেশ ১৫৩/১০ (২০), নাইম ৬৪, লিটন ৬, মেহেদী ০, সাকিব ৪২, নুরুল ৩, আফিফ ১, মাহমুদউল্লাহ ১৭, মুশফিক ৬, সাইফউদ্দিন ০, তাসকিন ১, মুস্তাফিজ ২; বিলাল ৪-০-১৮-৩, কলিমুল্লাহ ৪-০-৩০-২, ফাইয়াজ ৪-০-৩০-৩, জিশান ২-০-১৭-১।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

কক্সবাজারে শরিফউল্লাহর বাজিমাত; চট্টগ্রামে ঝলক দেখালেন নাইম

Read Next

সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বাংলাদেশের কষ্টার্জিত জয়

Total
50
Share