স্কটল্যান্ডের কাছে হেরেই বসল বাংলাদেশ

স্কটল্যান্ডের কাছে হেরেই বসল বাংলাদেশ

স্কটল্যান্ড কোচ টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই দিয়ে রেখেছেন বার্তা। গ্রুপে তাদের তিন প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ, ওমান ও পাপুয়া নিউ গিনিকে রাখেন একই কাতারে। তাতে বাংলাদেশী ভক্ত সমর্থকদের মনে কিছুটা আঘাত লাগলেও দারুণ এক জয়ে নিজেদের জাত চেনালো স্কটিশরা। ক্রিস গ্রেভসের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ৬ রানে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো বাংলাদেশ।

আজ (১৭ অক্টোবর) থেকে পর্দা ওঠা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে ওমানের আল আমিরাত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ-স্কটল্যান্ড।

টস হেরে আগে ব্যাট করে ক্রিস গ্রেভসের পরিস্থিতি অনুযায়ী ৪৫ রানের চমৎকার এক ইনিংসে ৯ উইকেটে ১৪০ রানের পুঁজি পায় স্কটল্যান্ড। পরে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতায় এই রানই জয়ের জন্য যথেষ্ট হয় স্কটিশদের। যেখানে বল হাতেও সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে বড় ভূমিকা গ্রেভসের।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশেরও। সমান ৫ রান করে দলীয় ১৮ রানে বিদায় নেই লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করার পুরষ্কার হিসেবে ওপেন করার সুযোগ পেয়ে ব্যর্থ সৌম্য।

সেখান থেকে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে পথেই থাকে বাংলাদেশ। দুজনে মিলে যোগ করেন ৩৭ রান। সাকিব রান করতে সংগ্রাম করলেও মুশফিক চেষ্টা করেন চাপ কমাতে। ৯ম ওভারে মাইকেল লিস্ককে স্লগ শটে টানা দুই বলে ছক্কা হাঁকান মুশফিক।

বলের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়া প্রয়োজনীয় রান কমাতে গিয়ে বড় শটে মন দেন সাকিব। আর তাতেই লেগ স্পিনার ক্রিস গ্রেভসকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে পরিণত হন ম্যাকলেওডের ক্যাচে। থামেন ২৮ বলে ২০ রানে।

সাকিবের পথে হাঁটতে অবশ্য বেশি সময় নেননি মুশফিকও। গ্রেভসের দ্বিতীয় শিকার হয়েছেন অহেতুক স্কুপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হলে। ৩৬ বলে ১ চার ২ ছক্কায় ৩৮ রানেই সাঝঘরে ফেরেন।

আর ততক্ষণে কঠিন হয়ে পড়া ম্যাচ জিততে দুর্দান্ত কিছুই করতে হত বাকিদের। শেষ ৬ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৬২ রান। চমৎকার কিছু শটে বাউন্ডারি বের করে আভাস দিয়েও ১২ বলে ১৮ রান করে থামতে হয় আফিফ হোসেনকে। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (২২ বলে ২৩) সহ বাকিরা ব্যর্থ হলে ১৩৪ রানেই গুটিয়ে যেতে হয় টাইগারদের। বৃথা যায় শেখ মেহেদীর ৫ বলে অপরাজিত ১৩ রানের ক্যামিও।

এর আগে স্কটল্যান্ড দুই ওপেনার কাইল কোয়েটজার ও জর্স মানসে দেখেশুনে ব্যাট করায় মনযোগ দেন। তবে ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই সাইফউদ্দিনের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে খালি হাতে ফেরেন দলপতি কোয়েটজার। কোয়েটজারের বিদায়ের পর মানসে ও ম্যাথু ক্রস মিলে যোগ করেন ৪১ রান।

তবে ইনিংসের ৮ম ওভারে নিজের প্রথম ওভার করতে এসে দুজনে ফেরানোর পাশাপাশি স্কটিশদের বিপর্যয়ের পথ দেখা শেখ মেহেদী হাসান। ২৩ বলে ২৯ রান করে মানসে ও ১৭ বলে ১১ রান করে আউট হন ক্রস।

১১তম ওভারে সাকিবের জোড়া আঘাত, ফেরান রিচি বেরিংটন (২) ও মাইকেল লিস্ককে (০)। আর তাতে লাসিথ মালিঙ্গাকে (১০৭) পেছনে ফেলে সাকিবই এখন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক।

আজ ১০৬ উইকেট নিয়ে মাঠে নামেন সাকিব, বেরিংটনকে ফিরিয়ে মালিঙ্গার পাশে বসেন। তবে শীর্ষে যেতে সময় নেন দুই বল, ১০৮তম শিকার লিস্ক। সবমিলিয়ে ৬০০ উইকেট ও ১২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করা প্রথম ক্রিকেটার সাকিব।

পরের ওভারে ক্যালাম ম্যাকলেওডকে (৫) বোল্ড করে তৃতীয় শিকার সেখ মেহেদীর। ৫৩ রানেই ৬ উইকেট হারায় স্কটিশরা।

সেখান থেকে মার্ক ওয়াটকে নিয়ে গ্রেভসের ৫১ রানের জুটি। ১৭ বলে ২২ রান করে ওয়াট ফিরলেও গ্রেভস ছিলেন নিজের ছন্দেই। মুস্তাফিজের করা ইনিংসের শেষ ওভারে আউট হন ৮ম ব্যাটসম্যান হিসেবে। ততক্ষণে নামের পাশে ২৮ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় ৪৫ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

স্কটল্যান্ড ১৪০/৯ (২০), মানসে ২৯, কোয়েটজার ০, ক্রস ১১, বেরিংটন ২, ম্যাকলয়েড ৫, লিস্ক ০, গ্রেভস ৪৫, ওয়াট ২২, ডেভি ৮, শরিফ ৮*, উইল ১*; তাসকিন ৩-০-২৮-১, মুস্তাফিজ ৪-১-৩২-২, সাইফউদ্দিন ৪-০-৩০-১, সাকিব ৪-০-১৭-২, মেহেদী ৪-০-১৯-৩

বাংলাদেশ ১৩৪/৭(২০), লিটন ৫, সৌম্য ৫, সাকিব ২০, মুশফিক ৩৮, মাহমুদউল্লাহ ২৩, আফিফ ১৮, নুরুল ২, মেহেদী ১৩*, সাইফউদ্দিন ৫*; হুইল ৪-০-২৪-৩, ডেভি ৪-০-২৪-১, ওয়াট ৪-০-১৯-১, গ্রেভস ৩-০-১৯-২

ফলাফলঃ স্কটল্যান্ড ৬ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ ক্রিস গ্রেভস (স্কটল্যান্ড)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বিশ্বকাপে বিসিএসএ’র বিশেষ স্মারক খাম

Read Next

এক হারেই সুর বদলে গেলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের

Total
17
Share