মুশফিকের নতুন শুরু নাকি অতীত দেখবে মরু?

মুশফিকের নতুন শুরু নাকি অতীত দেখবে মরু?

টেকনিক্যালি বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন মুশফিকুর রহিম। তবে টি-টোয়েন্টিতে তাকে সেরা ছন্দে পাওয়া গেছে খুব কম সময়ই। টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরে তো নিজেকে খুঁজে ফেরার উপক্রম। আরও একটি বিশ্বকাপ সামনে, এবার তার আগে থেকেই ফর্মহীন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। একদিন পরই শুরু হচ্ছে টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন। মুশফিক কি পারবেন শেকল ভাঙতে? নাকি ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মরুভূমিও সাক্ষী হবে তার ব্যর্থতার?

টি-টোয়েন্টিতে দল হিসেবেই বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ভালো করেছে কম। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে এক পাশ রাখলে অর্জনের খাতায় সাফল্যের হার ছিল না খুব একটা। এখনো পর্যন্ত ১১২ ম্যাচ খেলে জয় মাত্র ৪২ টিতে, যার ৯ টিই এসেছে আবার সর্বশেষ ১৩ ম্যাচে।

দল হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স উজ্জ্বল হলেও মুশফিকের ব্যাট যথারীতি নীরব। ৯১ ম্যাচে এখনো পর্যন্ত ৮২ ইনিংস ব্যাট করে মুশফিকের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি রান ১৯.৭২ গড়ে ১৩২১। স্ট্রাইক রেট ১১৫.৬৭। ক্যারিয়ারে ৫০ পেরোনো ইনিংস কেবল ৫ টি।

২০০৭ থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপই খেলেছেন ৬ টি। যেখানে ক্যারিয়ার গড়, স্ট্রাইক রেটের চেয়েও বাজে সময় গেছে মুশফিকের। ২৫ ম্যাচে ১৬.১৩ গড়ে রান করেছেন ২৫৮, স্ট্রাইক রেট মাত্র ১০৪.৪৫। ফিফটি নেই একটিও। তার উপর সর্বশেষ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ৩ বলে ২ রান নিতে না পারার কান্ডে তো এখনো ভিলেন হিসেবেই আছেন।

সর্বশেষ ২০ ইনিংসে তার রান ২৬৭, গড় ১৬ এর কম, স্ট্রাইক রেট ১০১ এর কম। এই ২০ ইনিংসে দল জেতানো ইনিংস কেবল একটি।

এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে তাদের একজন মুশফিকই। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে তার পারফরম্যান্স কিছুটা হলেও কপালে চিন্তার ভাঁজ তৈরি করে।

ঘরে মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সুবিধা করতে না পারা মুশফিক বিশ্বকাপের আগে ছুটির মাঝেও ম্যাচ খেলেছেন, শৈশব কোচের সাথে কাজ করেছেন, বাড়তি অনুশীলন তো ছিলই।

চট্টগ্রামে ‘এ’ দলের হয়ে এইচপির বিপক্ষে দুইটি ওয়ানডে ম্যাচে রান করেছেন ৭০* ও ৬২। এর আগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিমের সাথে। মূলত কিছু নতুন শট খেলা নিয়ে কাজ করেছেন দুজনে।

তবে বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ের আগে দুইটি আনুষ্ঠানিক ও একটি অনানুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যর্থ মুশফিক। ওমানে ওমান একাদশের বিপক্ষে ফিরেছেন প্রথম বলেই স্কুপ খেলতে গিয়ে খালি হাতে, শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে রান যথাক্রমে ১৩ ও ৪।

এমন ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায়ও মুশফিকই বাংলাদেশের ভরসার নাম। তামিম ইকবাল বিহীন বাংলাদেশ যে মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসানদের দিকে তাকিয়ে থাকবে। যেখানে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর থেকেই ব্যাট হাতে নিজের ছায়া হয়ে আছেন সাকিবও।

কখনোই টি-টোয়েন্টির দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান না হওয়া মুশফিকেই বাংলাদেশের আস্থার কারণ আছে আরও। ক্যারিয়ারে যে কটা ভালো ইনিংস খেলেছেন তার বেশিরভাগই কাজে এসেছে দলের। পোড় খাওয়া বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দল তাই মুশফিকের ভালো ইনিংসে নির্ভরতা খুঁজে পেতেই পারে।

২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪১ রানের অপরাজিত ইনিংসে জিতিয়েছেন দলকে। ২০১২ সালে তার অপরাজিত ৩৭ রানের ইনিংসে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জিতেছে টাইগাররা। ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফিতে তার ৩৫ বলে অপরাজিত ৭২ রানে পরাজিত করেছে শ্রীলঙ্কাকে। ২০১৯ সালে তার ৬০ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ প্রথমবার টি-টোয়েন্টিতে হারায় ভারতকে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজের অতীত পরিসংখ্যানকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মুশফিক যদি এবার ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে দারুণ কিছু করে বসেন তাতে লাভটা যে দলেরই। তবে আগামীকাল (১৭ অক্টবর) স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রথম পর্ব শুরু করছে বাংলাদেশ। যেখানে স্কটল্যান্ড, ওমান ও পাপুয়া নিউগিনি পরীক্ষা উতরে যেতে হবে সুপার টুলেভসে।

বিশ্বকাপের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে মুশফিক নিজেও আশার বাণী শুনিয়েছেন। নিজের নামে গেমিং অ্যাপসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বিশ্বকাপ নিয়েও।

তিনি বলেন, ‘আইসিসি ইভেন্ট বা নরমাল আন্তর্জাতিক ম্যাচের আমি মনে করি না খুব বেশি পার্থক্য আছে। বাংলাদেশের হয়ে যে কোনো ম্যাচই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমি সুযোগ পেয়ে গর্বিত, সবার তো এমন সুযোগ হয় না। চেষ্টা করি আসলে আপনি যখন প্রথম একটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছেন বা চার-পাঁচট বড় টুর্নামেন্ট খেলে ফেলেছেন তখন অবশ্যই সবার প্রত্যাশা একটু চাপ সৃষ্টি করবেই।’

‘স্বাভাবিক সেভাবেই নিজেকে তৈরি করার চেষ্টা করি এবং দেওয়ার চেষ্টা করি। অনেক সময় সেটা হয়ে ওঠে না আবার অনেক সময় দলের জন্য যতটুকু দরকার তা দিতে পারছি যেটা খুব ভালো ব্যাপার। আশা করছি এ বছর…কয়েকদিনের মধ্যে যে আমরা যাচ্ছি বিশ্বকাপের জন্য সেখানে আমি যেন সামনে থেকে পারফর্ম করতে পারি এবং দল যেন চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য লড়াই করতে পারি।’

‘অবশ্যই আমি চেষ্টা করবো যে গত বারের তুলনায় এবার যেন আরো বেশি ভাল করতে পারি এবং দলের জয়ে যেন অবদান রাখতে পারি।’

মুশফিকের প্রত্যাশা পূরণ হোক। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ, ভারত কোথাও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সফল না হওয়া মুশফিক এবার রানের ফোয়ারা যেন ছুটাতে পারে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মরুর বুকে।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: প্রিয় দলের অফিশিয়াল হ্যাশট্যাগ

Read Next

২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দিনক্ষণ চূড়ান্ত

Total
15
Share