লিটনের নেতৃত্বে টাইগারদের দারুণ প্রস্তুতি

লিটনের নেতৃত্বে টাইগারদের দারুণ প্রস্তুতি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে সর্বশেষ দুই সিরিজে অতি স্পিন নির্ভর উইকেটে খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলীয় সাফল্য আসলেও ব্যাটসম্যানরা ছিলেন ব্যর্থ। তবে ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেটে ভালো করার বিশ্বাস ছিল টাইগারদের। আইসিসির আনুষ্ঠানিক দুইটি প্রস্ততি ম্যাচের আগে আজ (৮ অক্টোবর) নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার বাড়তি সুযোগ পেয়ে দারুণভাবে কাজে লাগালো লিটন দাস, নাইম শেখ, নুরুল হাসান সোহানরা।

ওমান একাদশের বিপক্ষে বড় সংগ্রহ পেয়ে অনানুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ জিতে নিল ৬০ রানের বড় ব্যবধানে। ব্যাটে-বলে সমান তালে পারফর্ম করেছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। ম্যাচটি খেলেননি নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ওমান ক্রিকেট একাডেমিতে টস হেরে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ২০৭ রান তোলে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার নাইম শেখ (৬৬*) ও লিটন দাস (৫৩) জোড়া ফিফটিতে বড় সংগ্রহের ভীত গড়ে দেন। পরে সেটি কাজে লাগিয়ে ঝড় তোলেন নুরুল হাসান সোহান (৪৯*) ও শামীম পাটোয়ারী (১৯*)। জবাবে ৯ উইকেটে ১৪৭ রানে থামে স্বাগতিক ওমান একাদশ।

২০৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই বিপাকে ওমান একাদশ। দুই ওপেনার পৃথ্বীকুমার মাচ্চি (১) ও অক্ষয় প্যাটেলকে (০) বেশিক্ষণ টিকতে দেননি নাসুম আহমেদ ও শেখ মেহেদী হাসান। এই দুই স্পিনারের তোপে ১০ রানে ২ উইকেট হারানো ওমানকে একাই টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন শোয়েব খান।

এক প্রান্ত আগলে রেখে অন্য প্রান্তে দেখেছেন আসা যাওয়ার মিছিল। নাসুম-মেহেদীর পর উইকেট শিকারে যোগ দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, আফিফ হোসেনরা। ৭৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পথে ওমানের কেবল দুই ব্যাটসম্যান ছুঁয়েছেন দুই অঙ্ক। রান আউটে কাটা পড়ার আগে ৩৯ বলে ৬ চারে ৪৩ রান শোয়েবের ব্যাটে। ১১ রান করেছেন খুররাম নাওয়াজ।

৯ নম্বরে নেমে ১ চার ৪ ছক্কায় ১৩ বলে ৩১ রান করে রাফিউল্লাহ কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছেন। মেহরান খান ও রউফ আতাউল্লাহর ব্যাট থেকে আসে সমান ১৯ রানের ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট বাঁহাতি পেসার শরিফুলের,২ টি নেন সাইফউদ্দিন।

বাংলাদেশ ইনিংসে লিটন-নাইম শুরুতে দেখে শুনে খেললেও খোলস ছেড়ে বের হতে সময় নেননি। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে লিটন সামনে এগিয়ে হাঁকান দারুণ এক বাউন্ডারি। বেশ কয়েকটি পুল শটে বাউন্ডারি আসে নাইমের ব্যাট থেকেও।

জায়গা বানিয়ে কাট করতে গিয়ে ব্যক্তিগত ২৪ রানে অবশ্য জীবন পান লিটন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে আসে ৪৮ রান। এরপর দুজনে আরও আক্রমণাত্মক। ১০ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে বিনা উইকেটে ৮৯ রান।

১১তম ওভারে শোয়েব খানকে টানা দুই চার হাঁকিয়ে নিজের ফিফটি ও দলীয় ১০০ রান পূর্ণ করেন লিটন। ৩২ বলে ফিফটি ছুঁয়ে লিটন ফিরেছেন নিজের মোকাবেলা করা পরের বলেই। ৩৩ বলে ৬ চার ১ ছক্কায় ৫৩ রান করে আউট হলে ভাঙে নাইমের সাথে ১০২ রানের জুটি।

তিন নম্বরে নেমে ব্যর্থ হন সৌম্য সরকার (৮ বলে ৮)। স্কুপ খেলতে যাওয়া মুশফিকুর রহিমকে গোল্ডেন ডাক উপহার দেন কলিম। ছক্কা দিয়ে শুরু করে পরের বলে ফেরেন আফিফ হোসেনও (২ বলে ৬)। বিনা উইকেটে ১০২ থেকে ৪ উইকেটে ১২৪ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ।

ততক্ষণে ৪৬ বলে ফিফটি তুলে নেন নাইমও। ৫৩ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৬৬ রান করে পরে স্বেচ্ছায় অবসরে যান এই বাঁহাতি ওপেনার। ক্রিজে এসেই ঝড়ের আভাস নুরুল হাসান সোহানের।

১৭তম ওভারে টানা দুই ছক্কা, যদিও প্রথম ছক্কাটি অনায়েসেই হতে পারতো ক্যাচ। শামীম হোসেনকে নিয়ে রানের গতি রেখেছেন সচল। ১৯তম ওভারে হাঁকান টানা ৩ ছক্কা। শেষ ওভারে শামীম-সোহানের সমান দুইটি করে ছক্কা।

শেষ ৫ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে বাংলাদেশের স্করবোর্ডে উঠে ৮১ রান। সোহান ১৫ বলে ৭ ছক্কায় ৪৯ ও শামীম ১০ বলে ১ চার ২ ছক্কায় ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ একাদশ: ২০৭/৪ (২০ ওভার) নাইম ৬৩* (স্বেচ্ছা অবসর), লিটন ৫৩, সৌম্য ৮, মুশফিক ০, আফিফ ৬, সোহান ৪৯*, শামীম ১৯*; রাফিউল্লাহ ৪-০-৪৮-০, ওবাইদুল্লাহ ৩-০-৩৭-০, মেহরান ২-০-২৫-০, কলিম ৪-০-৩৯-২, শোয়েব ২-০-২২-০, শ্রীভাস্তভা ৪-০-২৪-২, মাচ্চি ১-০-৯-০।

ওমান একাদশ: ১৪৭/৯ (২০ ওভার) অক্ষয় ০, মাচ্চি ১, শোয়েব ৪৩, খালিদ ৭, কলিম ৭, খুররাম ১১, মেহরান ১৯, রউফ ১৯, রাফিউল্লাহ ৩১, শ্রীভাস্তভা ১*; নাসুম ৪-১-২২-১, শেখ মেহেদী ৩-০-২৮-১, শরিফুল ৪-০-২৮-৩, সাইফউদ্দিন ৪-০-১৭-২, সৌম্য ৩-০-৩৫-০, আফিফ ১-০-৪-১।

ফলাফল: বাংলাদেশ ৬০ রানে জয়ী।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সোহানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে টাইগারদের রানের পাহাড়

Read Next

বিশ্বকাপে আফগানদের কোচিং কনসাল্টেন্ট অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার

Total
13
Share